পোস্ট বার দেখা হয়েছে
ইয়াসের তান্ডব
শুক্লা দাস
‘একুশের মে’-কে ভিজিয়ে দিলো এ কোন বিধ্বংসী জলোচ্ছাস
তান্ডবলীলা, মহাপ্রলয়ে মেতেছে দুরন্ত ইয়াস।
হে ঈশ্বর, তুমি কি কান্না শুনেছো ব্যথাহত ধরণীর?
পাপের রাজ্যে তুমি কি হয়েছ পাষাণ?হয়েছ কি বধির?
মানুষ আজ হয়েছে অসহায়,চারিদিকে হাহাকার;
তরতাজা প্রাণ নিচ্ছ কেড়ে,এই কি তোমার বিচার?
কখনো সুনামি,কখনো আয়লা, বুলবুল,কখনো বা ইয়াস--
ভয়ঙ্করী রূপে ধরণীর বুকে দেখাচ্ছ তোমার প্রকাশ।
কি ভীষণ রুদ্ররূপ,দেখে লাগে বড়ো ভয়,
মানুষের কাছে এ যে ভয়াবহ বিপর্যয়।
প্রলয় তান্ডব করলে তুমি দৈত্যের বেশে এসে,
সব এলোমেলো করে দিলে চোখের এক নিমেষে।
দুর্যোগ দুর্বিপাকে জীবন আজ তার ছন্দ হারায়,
ইয়াসের তান্ডবে সজল চোখে দিশেহারা হয়ে যায়।
এরই তান্ডব নৃত্যে আছড়ে পড়েছে সমুদ্রের ঢেউ,
জলোচ্ছাসে সর্বহারা হয়েছে যারা,তাছাড়া বুঝবে না কেউ।
ছেঁড়া পাতার মতো উড়ে গেল কত গাছপালা,বাড়িঘর
সুখ শান্তি নিল যে কেড়ে ,ভেঙে দিল জীবনের খেলাঘর।
গ্রামের পর গ্রাম ভেসে গেল ইয়াসের বীভৎস উদ্যমতায়,
কত শত মানুষ,গবাদি পশুর জীবন যে ভেসে যায়।
জলোচ্ছাসে বানের সৃষ্টি,করেছে কত অনাসৃষ্টি,
দুর্যোগের স্বৈরাচারী শাসনে ঝাপসা হয়েছে চোখের দৃষ্টি।
শূন্য হৃদয় গুমরে কাঁদে নিভৃতে, নিশুতি রাতে,
সাজানো বাগান আজ হলো ধূলিসাৎ ইয়াসের চরম আঘাতে।

0 মন্তব্যসমূহ