দর্পণ || ১৭ তম সংখ্যা || চিঠিপত্র || কৃষ্ণা আল্পনা মণ্ডল




পোস্ট বার দেখা হয়েছে

কলমে  কৃষ্ণা আল্পনা মণ্ডল 


প্রিয় বন্ধু দর্পণ,

আমি আপনার নিয়মিত একজন পাঠক।শুধু বর্তমান পরিস্থিতির কথাই বা বলছি কেন,দর্পণ এমন একজন সহৃদয় বন্ধু যে যেকোনো পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে সবার আগে এগিয়ে যায় আগুপিছু না ভেবেই। দর্পণের অপর নাম জানি আয়না।আয়নার সামনে  দাঁড়ালে যেমন নিজেকে সম্পূর্ণ রূপে জানা যায়,ঠিক তেমনি এই দর্পণ হল আমাদের মনের খোরাক,মনের আয়না।দর্পণের কাছে সবকিছুই বলা যায় নির্দ্বিধায়,কারণ যত বাধা-বিপত্তিই থাক না কেন দর্পণ এগিয়ে গেছে  সিদ্ধহস্তে যেকোনো রকম বন্ধুর বিপদের পাশে।বহু ক্ষেত্রেই দেখেছি বা আমি নিজে স্বচক্ষে দেখেছি শীতের জামা-কাপড়,কম্বল,ওষুধপত্র,মাক্স স্যানিটাইজার,খাবার-দাবার, জল, খাতা-কলম পেন্সিল বিতরণ করেছে বহুবার বহু জায়গায়।দাতব্য হোমিওপ্যাথি চিকিৎসালয় খুলেছে।  বর্তমান পরিস্থিতির শিকার যখন আমি আর আমার মেয়ে হই,বাড়িতে আর কেউ ছিল না আমাদের দেখার।কে কাকে দেখে,দুজনেই অচৈতন্য,বাজার হাট কে করে দেবে,কি খাবো আমরা, আমরা আদৌ বাঁচবো তো,কে ওষুধ এনে দেবে,কে দুবেলা দুমুঠো পেটের সংস্থা করে দেবে।স্বহৃদয় বন্ধু বলতে বন্ধু দর্পণ আপনার কথা আগে মনে এসেছিল।ভেবেছিলাম জানাই আমাদের এই ভয়াল বিপদের কথা, দর্পণ বন্ধু আমার ঠিক চুপ থাকতে না পেরে ছুটে আসবে। কিন্তু তখন জানাতে পারি নি,অনেকটা সংকোচে। এখন জানাচ্ছি নিঃসংকোচে আমার মনের কথাগুলো। অনেক কষ্টে জোগাড় করে ছিলাম কিছু অনিচ্ছাকৃত সহৃদয় বন্ধুকে,যাদের সাহায্যে পরিস্থিতির কিছুটা সামাল দিয়েছি।কিছু এসেছিল ফেসবুকে পোষ্ট ছাড়ার পর স্বেচ্ছায়।তবে হ্যাঁ ভাগ্য করে পেয়েছিলাম একজন ডাক্তার। ওনাকে ঈশ্বর বললেও কম বলা হবে।ওনার নাম আনন্দরূপ দাস।ওনার সহচার্জে আমরা আজ সুস্থ।জানেন বন্ধু দর্পণ,এই কঠিন পরিস্থিতিতে এমন মানুষও দেখেছি,যারা ভয়ে কথা  বলা বন্ধ করে দিয়েছিল যদি তাদের হয়ে যায়।জিজ্ঞেস পর্যন্ত করে নি কেমন আছি,কি খাচ্ছি।আসলে সমাজটাই তো আমাদের ঘূণ ধরা,পোকায় কাটা।তার জন্য দুঃখ,করি না,কারণ তার পাশাপাশি আপনার মতো অনেক বন্ধু আছে যাদের ডাকলেই ছুটে আসবে উদ্ভ্রান্তের  মতো নিঃস্বার্থের মতো। আজ এখানেই শেষ করছি,ভালো থাকবেন বন্ধু আর ভালো রাখবেন।

                                        ইতি কৃষ্ণা আল্পনা মণ্ডল 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

1 মন্তব্যসমূহ