দর্পণ || ১৭ তম সংখ্যা || চিঠিপত্র || অপরাজিতা




পোস্ট বার দেখা হয়েছে

কলমে অপরাজিতা 


প্রিয়তম ,

কেমন আছো আকাশ? জানোতো আজ আর এখানে আকাশ নীল হয়না। ভোরে সূর্য নতুন স্বপ্ন নিয়ে আসে না। তোমাকে ভালোবেসে কি পেলাম? পথের ধুলায় পরে আছি আমি, কাল বিকেলের ওই ছেলেটার ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া পেপসির কাপের মতন! যাকে পিষে দিয়ে গিয়েছে সেই দামাল ছেলেটা তার উড়ন্ত বাইকের চাকায়।এখন আর কেউ মরা নদীতে , নৌকো ভির করেনা।নদী যেনো কাঠফাটা রোদের তাপে, শুকিয়ে হয়েছে এক জীবন্ত লাশ। পচা,গলা মাছের কঙ্কাল গুলো পড়ে আছে। সবাই আসে শুধু দেখতে,মুখে কাপড় চাপা দিয়ে চলে যায়। সৎকার কেউ করেনা।

সেই বাঁশিওয়ালা টাও পথ হারিয়েছে, যাকে সমাজের  রাজনৈতিক শোষকরা অনাহারের কষাঘাতে মেরে ফেলেছে দিনেরপর দিন। কেউ কি নিয়েছে তার খোঁজ? দুবেলা পরিবারের মুখে অন্ন জোটাতে মুখের ঘাম রক্ত হয়েছে। ঘরে তার ছোট্ট মেয়েটা , জন্মদিনে বায়না করেছিল একটা বার্বি কিনে দিতে।পারেনি দিতে সে, কেউ কি দেখেছে নিদ্রা বিহীন রাতের চোখের জল? যা আজ তার চোখের দুইপাশে কালো মরিচার দাগে পরিণত হয়েছে।

মনে পড়ে তোমার সেই ব্যার্থ প্রেমিকার কথা? মনে পড়ে আকাশ তুমি,আমি দুজন মিলে বসে দেখে ছিলাম! কিন্তু আমরাও কিছু করতে পারিনি। নর খাদকের দল তিলতিল করে ছিঁড়ে খেয়েছিল যার শরীরটা! চিৎকার করেছিল, তার কান্নায় কেউ শোনেনি তার কথা। সবাই দুর থেকে মজা দেখে উপহাস করে চলে গিয়েছে। আর কিছু প্রতিবাদী মানুষ মোমবাতি মিছিলে জটলা বাঁধিয়েছে।কেউ দিতে পারেনি তার প্রেমিকের সন্ধান। বাড়ির মেয়ের নিথর দেহ দেখে, পরিবার টিও দুমড়ে মুছড়ে   শেষ হয়ে গিয়েছে। কেউ আসেনি তাদের চোখের জল মুছাতে।

তোমার হাতে গড়া আমি এক শ্রীবিহীন অপরাজিতা , টবের শুকনো মাটি আঁকড়িয়ে আজও বেচেঁ আছি, যদি তুমি পথ ভুল করে আসো!

বৃষ্টি নামবে নীল আকাশ জুড়ে!সতেজ হবে আমার শাখা- প্রশাখা আবারও জেগে উঠবো আমি। ডাল পালা মেলে নতুন সূর্য দেখবো। আবার স্বপ্ন সাজাবো প্রকৃতির আঁচল ভরে।

তুমি কি আসবে?

আমি আজও বসে তোমার অপেক্ষায়।


ইতি তোমার অপরাজিতা

ঠিকানা - সর্বহারার দেশ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ