দর্পণ || বর্ষা সংখ্যা ২০২১ || বর্ষণ মুখরিত সন্ধ্যায় ~ সুচন্দ্রা বসু




পোস্ট বার দেখা হয়েছে

বর্ষণ মুখরিত সন্ধ্যায় 

সুচন্দ্রা বসু 


সারাটা দুপুর ঘুমিয়ে উঠে দেখি বাইরে তুমুল বৃষ্টি, সেই সাথে ঝোড়ো হাওয়া। ঘড়ির কাঁটা সাড়ে পাঁচটার ঘরে ছুঁই ছুঁই। আজকের সন্ধ্যাটা বর্ষণে  মুখরিত হয়ে সময়ের আগেই নেমেছে। হাত মুখ ধুয়ে এক কাপ চা করে ছোট্ট বারান্দায় এসে দাঁড়ালাম। ঘরের ভেতর জমাট অন্ধকার।


প্রচণ্ড শব্দে কোথাও বাজ পড়ল, ইলেট্রিসিটি চলে গেল। শহর অন্ধকারে ডুবল। আমি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে উপভোগ করছিলাম এক অপার্থিব দৃশ্য, একটি বর্ষণমুখর সন্ধ্যা। 

ইলেকট্রিসিটি চলে যাওয়ায় সড়কবাতিগুলো জ্বলছে না।নাগরিক সভ্যতায় ভেসে যাওয়া ঝলমল শহরের সড়কের দু’ধারে অসংখ্য দোকানপাট আঁধারে। এই ভরা বাদলে আঁধার রাস্তায় লোকজন কম । যারা বেরিয়েছে নিতান্ত প্রয়োজনেই বেরিয়েছে।


কর্তা ভিজে কাক হয়ে ঘরে ফিরেই দৈনিক পত্রিকা নিয়ে বসলেন।আমি বললাম, বারান্দায় এসে দাঁড়াও, বৃষ্টি দেখ। আমার কথায়  ফিরেও তাকালেন না। উল্টা আমাকে ধমক দিলেন, “বারান্দায় দাঁড়িয়ে বৃষ্টিতে ভেজা হচ্ছে, সর্দি জ্বর বাঁধাতে চাও? শিগগির ঘরে এসো।” আমি বললাম, “দোহাই আমি বরং মুড়ি মেখে দিই খাও।” আমার কথায়  হেসে ফেললেন, ভুবনজয়ী হাসি।  আবার আমি বারান্দায়। মনে পড়ে গেল বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস ‘পথের পাঁচালী’র কথা। সত্যজিৎ রায়ের চিত্রায়ণে ছবিটি আমি কতবার যে দেখেছি, আবারও দেখতে ইচ্ছে হয়। ইচ্ছে হয় ‘দুর্গা’ হয়ে প্রচণ্ড বৃষ্টিতে মাথার চুল খুলে ভিজি।ডুবসাঁতারে পুকুরের মাঝখানে গিয়ে শালুক তুলে আনি।


আজ পাখিদের কলরব নেই, নেই কাকের কর্কশ স্বর। আজ কেবল বৃষ্টির ধ্বনি- রিমঝিম, রিমঝিম।


ডোর-বেল শুনে  দরজা খুলে দেখি কাজের মাসির ১০ বছরের মেয়ে কাঁদছে। বলল ওর মায়ের খুব জ্বর এসেছে আর খুব শ্বাসকষ্ট হচ্ছে। আমি কি করব বুঝতে পারছি না। বৃষ্টির জলও ওদের ঘরে ঢুকে গেছে। মনটা খারাপ হয়ে গেল। বর্ষা কারো কারো জন্যে বিলাসিতা, কারো জন্যে বেদনা আর আতঙ্ক।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ