দর্পণ || ১৭ তম সংখ্যা || চিঠিপত্র || শুক্লা দাস




পোস্ট বার দেখা হয়েছে

কলমে শুক্লা দাস

প্রিয় দর্পন বন্ধু,    ১২/৬/২১ 

                          দর্পণ পত্রিকা     

                       আশা করি ভালো আছো এবং তোমাদের পরিবারের সকলেই কুশলে আছেন। আজ শুভ্র ভোরের মিষ্টি আবেশ গায়ে মেখে খোলা বারান্দায় বসেছি তোমাকে চিঠি লিখতে। তোমার জন্য আমার শুভ কামনা শুধু চিঠির প্রারম্ভিক নিয়মতান্ত্রিকতা বজায় রাখার তথাকথিত প্রচেষ্টা নয় বরং আমার হৃদয়ের একান্ত চাওয়া।

           অনেকদিন ধরেই তোমাকে চিঠি লিখবো ভাবছি।কিন্তু এই ইন্টারনেট, ম্যাসেজের যুগে চিঠি লেখাটা কিছুটা হাস্যকরও বটে। এখন কে আর চিঠি লেখে! পরিচিত মানুষের হাতের লেখার আবেদন , কাছের মানুষের হাতের লেখার স্পর্শের আনন্দ বোঝার ক্ষমতা যন্ত্রমানবরা হারিয়ে ফেলছে। তাই হয়তো আমার এই চিঠি।

                           আমি একটু, আধটু লিখি। তবে কোনো বড় লেখিকা নই। সামান্য সাহিত্যের ছোঁয়া আর ভাষার কারুকাজে চিঠি লিখবো সেটাই তো স্বাভাবিক বলো।আমি লেখক স্বত্তার কারণে মানুষকে বুঝতে চাই, তাদের সুখ, দুঃখ , আনন্দ, বেদনার সাথে অন্তরঙ্গ হতে চাই, স্পর্শ করতে চাই তাদের প্রেম আর দ্রোহ।আবিষ্কার করতে চাই সৌন্দর্য্য আর দহন। বিধাতা আমাকে মানুষের কষ্টকে বোঝার জন্য গড়ে তুলেছেন। তাইতো শিশুর কান্না আমাকে কাঁদায়, বঞ্চিত দলিত মানবতা আবেগে তাড়ায়, অবদমিত স্বপ্নেরদীর্ঘশ্বাস, পরাজয়ের গ্লানি আমাকে দোলায়। তাইতো যেমন কোনো প্রেমিকের প্রেম আমার কাছে একমাত্র সত্য হয়ে উঠতে পারিনি,তেমনি আমি কোনো ভালো প্রেমিকাও হয়ে উঠতে পারিনি। এতো গেলো আমার কথা।

        এবার আসি বর্তমান সমাজে কি পরিস্থিতি তার কথায়,আমাদের কয়েক প্রজন্ম এর আগে কখনো বিশ্বজুড়ে এমন ভয়াবহতার মুখোমুখি হয়নি৷ বিভিন্ন দেশে নানা ধরনের সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে আমরা গিয়েছি, যাচ্ছি৷ কিন্তু কখনোই এমন কিছু আমাদের সবাইকে সমানভাবে প্রভাবিত করেনি৷এখন এমন এক বিপদের সম্মুখীন আমরা, যা আমাদের সবাইকে এক কাতারে নিয়ে এসেছে৷ বিশ্বজুড়ে এখন মানবজাতির একটাই শত্রু- নভেল করোনা ভাইরাস৷ কিন্তু সেই শত্রুর মোকাবিলাতেও আমরা আমাদের স্বভাবসুলভ হিংসা-দ্বেষ-স্বার্থপরতা থেকে বের হয়ে আসতে পারিনি৷  একটা সাধারণ কথা আমরা বুঝতে পারছি না আর তা হলো, ভাইরাস কোনো ধর্ম চেনে না, দল চেনে না৷ ভাইরাসের জন্য নয়, ভাইরাস ঠেকাতে আমাদের উদাসীনতায় আমি বেশি আতঙ্কিত৷সেনাবাহিনী আক্রান্ত হলে দেশের সর্বনাশ৷ করোনাবিরোধী এই বিশ্বব্যাপী যুদ্ধকে কেন আমরা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ বলবো না? আর এই যুদ্ধে আমাদের সেনাবাহিনী হলেন স্বাস্থ্যকর্মীরা৷ তাই আগে তারা কিভাবে সুস্থ থাকবেন, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

                   এই পরিস্থিতিতে মানুষ জীবন থেকে হারিয়ে ফেলছে বাঁচার স্বাদ, মনে হচ্ছে  কোনো অদৃশ্য শক্তি ধরণীর পরে পেতেছে মরণের ফাঁদ। একটা কথা আজকে এই চিঠির শেষ পর্যায়ে এসে খুব বলতে ইচ্ছা করছে, সেটা হলো, চিতার কাঠ পুড়ে ছাই হওয়ার আগে কিন্তু মানুষের দেহ পুড়ে ছাই হয়ে যায়, তবু এ'সমাজে মানুষের অহংকারের শেষ নেই।

                               পরিশেষে   বলি তুমি আমার বুকভরা ভালোবাসা নিও আর পরিবারের সকলকে আমার প্রণাম জানিও। তোমাদের সেবামূলক কাজকে কুর্নিশ জানাই, আমার মনের কথা সর্বশেষে বলে যাই ....

হিংসা ছেড়ে ভালোবাসার কথা যাই বলে

একলা এসেছি একলাই যাবো চলে।

                     ইতি....

                    তোমার প্রিয়          বান্ধবী

        শুক্লা দাস

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ