পোস্ট বার দেখা হয়েছে গীতাঞ্জলী রায়
প্রিয় বাবাই,,
কেমন আছো? আশাকরি ভালোই আছো।
দেখো!
এতো কথা হয় ফোনে সবসময়! তবুও মনেহয় কিছু লিখি তোমার জন্য।
আসলে কাগজের ওপর হাতের লেখা চিঠি পড়া সে আলাদা আমেজ, আর সেটা তোমার সবসময়ই ভালো লাগে, আর আমারও।
যদিও অক্ষরগুলো বুঝতে গিয়ে অনেকটা বকুনি খায় কেউ!
তবুও প্রতি সপ্তাহে অন্ততঃ একটা করে চিঠি লিখি তোমার ঠিকানায়।
চিঠির সাজগোজ সেভাবে করে ওঠা হয়না। আসলে সব কিছু পাওয়া কপালে সয়না।
যাইহোক,
এবার কতগুলো ঘটনা লিখি,
তুমি পড়তে গিয়ে হাসতে হাসতে পাগল হয়ে যাবে, আর কিছুটা হয়তো আবেগি হবে।
অনেক কিছু মনে হয়, তার মধ্যে কয়েকটা কথা লিখছি, আশাকরি তোমায় নিশ্চয়ই ছুঁয়ে যাবে।
সেদিন বেলেঘাটার রাস্তায় অনেকটা দুর চলে গেছিলাম তোমার সাথে গল্প করতে করতে, তোমার মনে আছে?
তারপর যখন একটাই আইসক্রিম ভাগ করে খেলাম! তোমার ঠোঁটের পাশে লেগে ছিলো একটু, চারদিকের মানুষ তোমার দিকে বারবার তাকাচ্ছিলো,
আমিও বলিনি
পরে তোমাকে ছেড়ে আসার সময় সেটা আমার ঠোঁট পরিস্কার করে দিয়েছিলো।
তুমি সেও বোঝোনি,ভেবেছিলে তোমায় আদর করেছি।
জানো বাবাই!
তোমার জন্য আমার মনে কোনো অভিযোগ আসেনা সহজে!
এতোটা বছর তোমাকে মনে পুষতে পুষতে কেমন যেনো স্বভাব থেকে আড়াল করতে পারিনা,
আর সেই সঙ্গে স্বভাব তো ভালোবাসারও,
আমি তোমার সাথে কাটাকুটি খেলার জন্য পাগল,
তাই সেই মুহূর্তেই পার্ক স্ট্রিটে গিয়ে দুজনে খাতা কিনলাম, নিশ্চয়ই মনে আছে?
জানি।
তারপর দুরে একটা গাছতলায় বসে মন প্রাণ খুলে খেললাম, যতবার আমি হেরেছি তোমার সাথে,
তুমিও সমানভাবে আমার কাছে হেরেছিলে।
বাবাই,, তোমাকে আমি হারাতে পারবো কাটাকুটি খেলায়?
এটা অসম্ভব।
তবে আমাকে হাসিখুশি দেখার জন্য এতোবার হেরে যাওয়ার কোনো প্রয়োজন ছিলোনা।
দুতিনবার হারলেই যথেষ্ট ছিলো!
তুমি জানোনা,
আমি কাটাকুটি খেলি'ই তোমার কাছে হেরে যাওয়ার জন্য। এই হেরে যাওয়াটা আমার কাছে সমুদ্র মন্থনের মতো।
মন খারাপ দেখে আরেকটু বোনাসে আদর পাওয়া যায়!
জানো বাবাই,, আমার মনেহয় ভালোবাসায় হেরে যাওয়ার মধ্যে একটা বিশাল প্রাপ্তি আছে, মনের ভেতরে আঙুল দিয়ে আরো জোরে লিখতে পারি,,
"তোমাকে খুউউব ভালোবাসি"
জানো!
আমার বুকের শামিয়ানায় যখনই মেহেফিল বসে, সব তোমার ভয়েস ম্যাসেজে পাঠানো বেসুরো গান,
আর কিছু থাকেনা।
শুনেছি,
বিয়ের পর অনেক সোহাগ হয় মেয়েদের, আমার সব সোহাগ তোমার অল্প সময়েই পেয়ে যাই। আর কোনো চাহিদা যেনো আর রয়নি।
এতো বছর হলো তোমার আমার সম্পর্ক,
কেউ কোনোভাবে আমাদের বদলাতে পারেনি,
না সমাজ, না ভাগ্য।
আমার এক্সিডেন্টে নষ্ট হয়ে যাওয়া ক্ষতবিক্ষত চেহারা তোমার বাড়িতে স্বীকার করবেনা জেনেও তুমি আজ প্রায় এগারো বছর ধরে আমাকে ধরে বেঁধে ভালোবাসায় পরিপূর্ণ করে রেখেছো।
বাবাই!
আমি সবসময়ই মাস্ক লাগিয়ে বা রুমাল বেঁধে চলাফেরা করি,
কিন্তু!
এক্সিডেন্টে আমার কেটে যাওয়া ভ্রূ এর ওপর পেন্সিল দিয়ে এঁকে,
গালের সেলাইয়ের দাগে ফাউন্ডেসন মেখে তুমি কি তৃপ্তি পাও বুঝিনা।
বাবাই!
কিছুই তো বদলায় না! তবুও তোমার ভালোলাগা।
এরপর তোমার আমার নো ফিল্টার সেল্ফি নেওয়া?
তুমি একটা পাগল বাবাই!
আস্ত পাগল।
তবে
যখন আমায় চেপে ধরো?
তোমার মুখটা তখন খুব মিষ্টি লাগে, তাই আমি চুপ করে বসে থাকি।
সেই আমেজটা আর কোথায় পাওয়া যাবে বলো!
এইযে!
দেখো! দেখো!
সেই একই আমার বুড়ো আঙুলটা কেটে যাবার পর আমার চিঠি লেখার শখটাও তো তুমি হাতে ধরে রেখেছো!
আমি বকবক করেই যাচ্ছি, আর তুমি লিখে যাচ্ছো কাগজে।
যতই কাজ থাকুক, সময় বের করে আনন্দে লিখতে বসে যাও,
এতোটা আজগুবি ভরাডুবি আমাদের সম্পর্কের সমীকরণ।
কেমন যেনো অন্য আদতে বেঁচে আছি আমরা দুজন, তাইনা?
শোনো!
আজ এই চিঠিটা এখানেই শেষ করলাম,
নাহয়,
তোমার হাতে ব্যথা ধরবে,
বাকি তো অনেক কথা রয়ে গেছে,
ওসব পরের চিঠিতে লিখবো।
অবশেষে এতোটুকুই বলবো,
আমরা ভালো থাকবো দুজনেই, কারণ, তুমি আমি দুজনেই ব্যতিক্রম।
আমাদের আত্মীয়তা এভাবেই অসীমের ওপার অব্দি অভ্যাসে এগিয়ে যাক্।
ঠাকুর জানে এটাই আমাদের দেনা পাওনা।
আমার অকৃপণ ভালোবাসায় তুমি সবসময় নীরবে থেকো ।
ইতি
তোমার মন

1 মন্তব্যসমূহ
উত্তরমুছুনমুগ্ধ হলাম