দর্পণ || ১৭ তম সংখ্যা || চিঠিপত্র || অমিতাভ সরকার




পোস্ট বার দেখা হয়েছে

কলমে অমিতাভ সরকার


অস্থির সময়ের কালদর্পন 

অসুস্থ পৃথিবীতে আমরা এক অনাগত কালের মুখোমুখি যাত্রা করছি।সময় তার অদৃশ্য উপস্থিতি  জানান দিচ্ছে প্রতি মুহূর্তে। মনের গহীনে প্রতি মুহূর্তে চিন্তা মেঘের অবুঝ উঁকি নানা ভাবে মনকে বিচলিত করছে। দুচিন্তার ঘনান্ধকার  কুয়াশায় নানাভাবে ভারাক্রান্ত মন ক্রমাগত শান্ত হওয়ার মূঢ় প্রচেষ্টায় একের পর এক কষ্টকর অধ্যায় পার করে চলেছে।এক একটা দিন যেন এক একটা অধ্যায়। 

সময়ের অক্সিজেন মাত্রা যেন কমে আসছে দিনকে দিন।কোনোদিনও যে খুব

বেশি ছিল সেটা নয়,তবে এখন যেন সেটা 

ক্রম হ্রাসমান।


ব্যধিভারে জর্জরিত মানুষ অন্তরীন হয়ে

গৃহকোণে প্রহর গুনছে।এই মারণব্যধি চিকিৎসক, কর্মজীবী মানুষের জীবন কাড়ছে,কেউ বা ব্যধির ভয়ে নিজেরাই বেছে নিচ্ছে চরম পথ, একঘরে

করছে সমাজ,কেউ বা পড়ছে ঝাঁপিয়ে জীবনরক্ষার মন্ত্র নিয়ে,তবে কিছু সংখ্যক মানুষ সমাজে কাজ করেন,অধিকাংশই

পরচর্চা,স্তাবকতায় মন নিয়োজিত করে সুখী থাকার আত্মাহংকারে মগ্ন।এরই মধ্যে

প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের করাল গ্রাসে উপকূলবর্তী  মানুষ গৃহহারা,বিদ্যুৎবিহীন,যার সমাধান হয়তো এখনো  অনেক অনেক কালের অপেক্ষা। 

সমাজের বৃহত্তর অংশ আজ কর্মহীন। আর্থিক অনিশ্চয়তায় মানসিক স্বচ্ছলতা ক্রমহ্রাসমান। তন্মধ্যে  স্পর্শব্যধির ত্রাসে

সন্ত্রস্ত আমাদের মানবসমাজ। পৃথিবী গ্রহ

আপনার বাসযোগ্য ভূমিকে যতোই মনোরমভাবে সুসজ্জিত রাখুক না কেন,মানুষ তার স্বার্থসিদ্ধির উদ্দেশ্যে প্রাকৃতিক সম্পদকে নানা অছিলায় ক্ষয় এবং নষ্ট করায় তার প্রত্যুত্তরও পাচ্ছি আমরা প্রকৃতির কাছ থেকে।প্রাকৃতিক এবং সামাজিক শোষণের পাশাপাশি 

মানবিক দূষণও অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে

যান্ত্রিক এই ডিজিটাল  সমাজে।অনলাইনযাপন কেড়ে নিয়েছে 

আমাদের অবসর,এতে আছে মুহুর্তের আবেগের পরিস্ফুটন, নেই আন্তরিকতার সুবাস।ব্যহত হয়ে চলেছে মনের প্রকৃত সৎ প্রচেষ্টা, ক্ষমতালোভের চরম মনোভাবের কাছে,কষ্টের রৌদ্রছায়ার হাসিকান্নায় কুণ্ঠিত বিচলিত  সকাল দশটা -পাঁচটার চিরাচরিত জীবনধারা। শিক্ষাজীবনে বিদ্যার্থীরা দীর্ঘকালীন বিদ্যায়তনের শিক্ষালাভ বঞ্চিত,পরীক্ষা ব্যবস্থাও চরম অনিশ্চয়তার সম্মুখে,অনলাইন বিদ্যার্জনে

সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে যতোটা সম্ভব;

তার মধ্যে ভোটরঙ্গ,উৎসব  নিয়ে এই বঙ্গে মানুষের অসীম আবেগ যেন ব্যধির ক্ষেত্র দিন দিন প্রসারিত করেছে।মানুষের চিকিৎসার জন্যে শয্যার স্থানাভাব,ভীতি,এমনকি মৃত্যু র পরও মৃতদেহের কি করুণ বীভৎস পরিণাম।

বৃত্তটা দিন দিন ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর হচ্ছে।

প্রশাসন যতোটা সম্ভব চেষ্টা করে চলছেন,

কিন্তু বড় গভীর এ সময়।

এই মনের লকডাউনে কেউ কি আর কোথাও নির্ভয়ে যেতে পারবে?

এর নিবৃত্তি হতে আর কতদিন? 


                                  অমিতাভ সরকার

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ