পোস্ট বার দেখা হয়েছে
সেই বৃষ্টি দিন আর তুমি
জয়া
প্রকৃতি চলে নিজের নিয়মে, তেমনি গড়িয়ে চলে এই জীবন। অদ্ভুত এক আলো আঁধারি খেলা আকাশ জুড়ে। ঊষা কিংবা গোধূলি ঠিক বোঝা যায় না। তবুও অপরাহ্নের পর সন্ধ্যা নামবে। রোজ বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যে নামার সন্ধিক্ষণে,প্রকৃতি যখন কমলালেবু রঙের মায়ামাখা রূপ ধারণ করে, ঠিক তখনই আমার চিলেকোঠা ঘরটায় মন টানে। চারিদিক কেমন নিঝুম নির্জন। সন্ধ্যা প্রদীপ জ্বলে, পাখিরা পাখিরালয়ে যায় ফিরে।এমন নিরালায় বসে সাদাপাতায় তখন শুধু তুমি তুমিময় হয়ে ওঠো। কোন এক যাদুমন্ত্রে আমার কলম শুধু তোমাকেই লিখে চলে।
হঠাৎ মেঘের ঘন ঘোর গর্জনে কেঁপে উঠি!
কখন যে আকাশে এত মেঘ ঘনিয়েছে, থেকে থেকে রূপোলী বিদ্যুতের চমক! কি এক অমোঘ নেশার টানে চঞ্চল পায়ে ছুটে আসি বৃষ্টি আমি তোমার কাছে। সবুজ বৃক্ষ ও তার ডাল পালা, ফুল,লতা,পাতা,প্রবল বাতাসে নুয়ে পড়ে যেন সাদরে আমায় আমন্ত্রণ জানাচ্ছে।
ঝড়ের এই ভয়ঙ্কর পাগলপারা রূপের মধ্যে এক অসীম সৌন্দর্য লুকিয়ে থাকে। আজ তোমায় এমন করে না দেখলে বুঝি আমার তোমাকে জানাই হতো না। তোমার তুমি কে! আমার এলোমেলো চুল শাড়ি সব যেন দামাল বাতাসের সঙ্গী হতে চায়। প্রাণপণে শাড়ি সামলাতেই দেখি হুড়মুড়িয়ে বৃষ্টি নেমে এলো রিমঝিম সুরে। আর এক পাও এগোতে পারলাম না। সমস্ত প্রতিরোধ ভেঙে বৃষ্টির কাছে নিজেকে সর্মপণ করতেই মনে হলো, আহা এমন বৃষ্টিতে ভেজার যে কি সুখ তা যে কাব্য করে বোঝানো যায় না। এই যে অনন্ত আকাশ কৃষ্ণকায় বর্ণ ধারণ করেছে তা কি লিখে বোঝানো যায়? দু হাত ছড়িয়ে নৃত্যের ভঙ্গিতে ঘুরে ঘুরে ভিজতে থাকি। চোখের জল, বৃষ্টির জলে মাখামাখি। বৃষ্টিতে জুড়িয়ে নিই দহন জ্বালা, যন্ত্রণা। এমন সময় হঠাৎ দেখি, আমার সাদা পাতায় হিজিবিজি লেখা থেকে এক চিলতে আলোর মতো তুমি এগিয়ে আসছো আমারই দিকে। আর্শিবাদের মতো করে আমার মাথায় রাখলে তোমার হাত। অমাবস্যার রাত, চারিদিকে অন্ধকার নেমে এসেছে, তবু এতো খুশীর আলো এলো কোথা থেকে! তুমি বললে আনন্দই তো ঈশ্বর। স্মিত হাস্যমুখে তুমি দাঁড়িয়ে ছিলে কতক্ষণ জানতে পারি নি।
সবে মাত্র ভোর হচ্ছে।ঘুম ভেঙে চেয়ে দেখি নতুন দিনের নতুন আলো আমার চোখে মুখে ছুঁয়ে যাচ্ছে। রোজকার মতো আর একটি নতুন দিন শুরু হলো নতুনের আশায়।

0 মন্তব্যসমূহ