পোস্ট বার দেখা হয়েছে
কবন্ধ
শর্মিষ্ঠা
ড: অনিমেষ রায়, জিওলজির অধ্যাপক।আজকে দুপুরে আমন্ত্রিত তাঁর বন্ধুস্থানীয় কলিগ অমিতের বাড়ি।এর আগেও বহুবার এসেছেন এ ডেরায়।আসতে বাধ্য হয়েছেন অমোঘ আকর্ষণে।মোনালিসার।অমিতের তনয়া।চব্বিশের তরুণীর উদ্দামতা।
-অনি চলো ছাদে যাই।
-অনি আবার কি ! বাবার বন্ধুকে কেউ নাম ধরে ডাকে? তোমার বন্ধু নাকি !
-বাপি ! প্লিজ আমি ওঁকে ওই নামেই ডাকবো।
-আঃ, ছাড় না।ওর যা ভালো লাগে বলুক।
-এই যে প্রশয় দিচ্ছিস মাথায় চড়ে বসবে।
-আচ্ছা দেখবো।চল্ ছাদে যাই।
নতুন রুবেলিয়ার চারাগুলো দেখাতে দেখাতে আত্মমগ্ন দু'পক্ষই।
হঠাৎ বিদ্যুতের ঝিলিক।সেকেন্ডের ব্যবধানে বিকট শব্দ।মোনালিসা উল্টোদিকে ঘুরে সপাটে জড়িয়ে ধরলো অনিমেষকে।জাপটে,পূর্ণ শক্তিতে।
-আমার খুব ভয় লাগে বাজের শব্দ।
অনিমেষের চিবুকের কাছে উন্মুক্ত গ্রীবা।গাঢ় নীল ক্রপ টপ আর শর্টস পরিহিতা।অনিমেষ না চাইতেও হাত দুটো জড়িয়ে ধরলো মোনালিসার তন্বী কোমর।ধীরে ধীরে নেমে আসছে অনিমেষের ওষ্ঠাধার পুরু গ্রীবাবন্ধনীতে।উত্তাল স্পর্শ।
-অনি !
অস্ফুট,সঘন উচ্চারণ।তৎক্ষণাৎ, অনিমেষ চমকে ছিটকে দ্রুত সরে দাঁড়ালো।
-তোমার বাঁ দিকের ঘাড়ে অত বড় কালো তিল !
-হম।
অনিমেষের দ্রুত পদক্ষেপ ছাদ থেকে সিঁড়ির দিকে।ঝমঝম করে বৃষ্টি শুরু হয়েছে।পকেট থেকে মোবাইল বের করে ফোন করলো,
-হ্যালো, সবিতা।
-ওমা তুমি! এখন!
-কেমন আছো ?
-ভালো।হঠাৎ? খেয়েছো ?
-আমি আসছি।মাসদুয়েক যেতে পারিনি কলেজের পরীক্ষা চলছিলো।আর ভালো লাগছে না।
-আচ্ছা।সাবধানে এসো।
রিসিভারটা রেখে সবিতা হুইল চেয়ারটা হাত দিয়ে ঘুরিয়ে জানালার কাছে নিয়ে গেলো।সেই যে,বছর চারেক আগে বৃষ্টিতে ভেজা সিঁড়ি থেকে পড়ে গিয়ে কোমরে লাগলো তারপর প্যারালাইসিস।ফিজিওথেরাপি চলছে।একটু একটু করে সার আসছে নিচে।'এত উতলা হয়ে ও তো কখনো ফোন করে না,কী হলো !'
আকাশ কালো হয়ে আসছে।এবার বৃষ্টি নামবে।সবিতা আয়াকে ডাকলো, 'মানু,জানলা বন্ধ করে দে।বৃষ্টি নামছে।'

0 মন্তব্যসমূহ