দর্পণ || পিনপোস্ট || আতঙ্ক ~ গীতা ভট্টাচার্য




পোস্ট বার দেখা হয়েছে
অঙ্কন রিয়া চক্রবর্তী 

আতঙ্ক

গীতা ভট্টাচার্য


মা গো আমি একটুখানি বাবুলদের বাড়ি যাচ্ছি!

আচ্ছা- বাবুলের বাড়ি তো বাঁধের ধারে সাবধানে যাও!

বাবুলদের বাড়ি যাওয়ার পথে সুমন দেখে বাঁধে এক জায়গায় ফাটল!

সুমন দৌড়ে বাবুলদের বাড়ি গিয়ে বাবুল কে ঘটনা টা বললো!

বাবুল বললো চল তো দেখে আসি!

তখন সুমন দেখতে পেল সেই ফাটল দিয়ে নদীর জল একটু একটু করে বেরোচ্ছে!

সুমন বাবুল কে বলে তুই দৌড়ে 

গ্রামের লোকজন দের ডেকে নিয়ে আয়!

দুজনে কাছু টা মাটি তুলে ঐ ফাটল টায় চেপে ভরে দিল!

সুমন নিজের গায়ের জোরে চেপে ধরে রাখল!


বাবুল দৌড়ে গ্রামের লোকজন 

ডাকতে গেল!

লোকজনেরা এই অবস্থা দেখে ভীষণভাবে ঘাবরে গেল!

সর্বনাশ- এই বাঁধ তো ভাঙগলো বলে!

এই বাঁধের ধারের বস্তি এলাকায় হৈ চৈ পরে গেল!

দৌড়ে দৌড়ে যে যত পারে নিজের জিনিস পত্র অন্যত্র নিয়ে যেতে ব্যস্ত!


তত ক্ষনে থানায় খবর পৌছে গেল! পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আলী এসে হাজির!


তারই মধ্যে ভয়ংকর বিদ্যুত চমকাচ্ছে মেঘের গর্জন আর মুসল ধারায় বৃষ্টি নামলো!


বাঁধের অবস্থা ভীষণ খারাপ!

এই বুঝি ফেটে যায় আর কি--

দলে দলে মানুষেরা বালুর বস্তা ফাটল আটকাতে ব্যস্ত!


ততক্ষণে প্রশাসনের লোক বাঁধের ধারে থাকা লোকজন দের একটি স্কুলে থাকার ব্যবস্থা করেছে!

মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যেই মানুষ দৌড়ে স্কুলে আশ্রয় নেয়!


পুলিশ সুমন বাবুল কে আরো লোকজন দের ওখান থেকে সরে আসতে বললো!

তোমরা এই বাঁধের ধারে যারাই আছো চলে এসো-সবাই!


এখনি বাঁধ ফাটবে-- বলতে বলতেই বাঁধ ফেটেহুর হুর করে 

জল ডুকতে শুরু করলো!


মানুষ জন ততক্ষণে নিরাপদ আশ্রয়ে পৌছে গেছে!

সুমনের মা বাবা - বাবুলদের

বাড়ির লোকজন ওদের কে নিয়ে যে যার বাড়িতে যাবে--

এমন সময় পুলিশের লোকজন 

এই দুই ছেলে কে সাবাসি দেয়ে বললো তোমরা জান তোমরা কি মহৎ কাজ করেছো!


বাবুল হেসে বললো আমি কিছু করিনি স্যার- এই সুমনই প্রথমে ফাটল টা দেখতে পেয়ে আমায় বলেছে!

সুমন বাবুল কে বললো আমি একা কি এই কাজ করতে পারতাম!

তুই ছিলি বলেই তো গ্রামের লোকজন দের ডেকে নিয়ে আসতে পারলি!


" স্যার আমি আর বাবুল দুজনেই সমান মহৎ কাজ করেছি-!"

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ