দর্পণ || অমরত্বের পথিক || শিখা পাল




পোস্ট বার দেখা হয়েছে

অমরত্বের পথিক 

    শিখা পাল 


        রবীন্দ্রনাথ কে ভালবাসে না এমন বাঙালি খুঁজে পাওয়া যায় না ।  আমার চোখে তিনি ছিলেন শ্রেষ্ঠ ঋষি।  কবিগুরু ছিলেন উপনিষদ ও পরম ব্রহ্মের জ্ঞানবৃক্ষ ।   তিনি বারবার ঈশ্বরের কাছে নিজেকে সমর্পন করেছেন ,  গেয়েছেন -- " আমার মাথা নত করে দাও হে তোমার চরণ ধূলার পরে।" তাঁর নিজের কথায় - " আমার জীবনের মহামন্ত্র পেয়েছি উপনিষদ থেকে।"  যা তার কাব্যের ছত্রে ছত্রে প্রতিফলিত হয়েছে।  তিনি লিখেছেন - "হে সত্য, সমস্ত অসত্য হতে আমাকে তোমার মধ্যে নিয়ে যাও,  হে প্রকাশ,  তুমি একবার আমার হও,  আমাতে তোমার প্রকাশ পূর্ণ হোক " 


        নিজের মধ্যে আত্মমগ্ন কবি লিখেছেন - "আমি যেন সেই বাতি ওয়ালা, - যে সন্ধ্যার রাজপথে-পথে বাতি জ্বালিয়ে ফেরে, অথচ নিজের ঘরে নেই যার বাতি জ্বালার সামর্থ্য,  নিজের ঘরেই জমে থাকে দুঃসহ অন্ধকার।"


      আমাদের মনের মন্দিরে তাঁর অবস্থান 

 তিনি সাগর সম অতল,  হিমালয়ের মতো মহান। 


দুঃখের দিনে পাশে পাই তারে আপন সখার মতো,

মাধবী বিতানে, বসন্ত হাওয়ায় মুছে দিয়ে যায় ক্ষত।


কতটা তোমায় মনে তে রেখেছি, কতটা ভুলেছি আজ,

তোমার প্রিয় চূর্ণীর বুকে জেগেছে মরণ সাজ। 


তবুও তোমার গানের ডালি শত রসিকের প্রাণে,

অমল ধবল পালের মতো ভেসে যায় আনমনে । 


কালবোশেখীর অগ্নিবাণে  তুমি খোলা হাওয়া - উদ্দাম! 

পরাণের সাথে মরণ খেলায় জপিব তোমার নাম।

          হে বিশ্বকবি   তোমায় প্রণাম 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ