আমার শক্তি || দেবাশীষ ভট্টাচার্য্য




পোস্ট বার দেখা হয়েছে

"অনন্ত নক্ষত্রবীথি তুমি, অন্ধকারে " 

আমার শক্তি

দেবাশীষ ভট্টাচার্য্য 

" মনে মনে বহুদূর চলে গেছি – যেখান থেকে ফিরতে হলে আরো একবার জন্মাতে হয়

জন্মেই হাঁটতে হয়

হাঁটতে-হাঁটতে হাঁটতে-হাঁটতে

একসময় যেখান থেকে শুরু করেছিলাম সেখানে পৌঁছুতে পারি

পথ তো একটা নয় –

তবু, সবগুলোই ঘুরে ফিরে ঘুরে ফিরে শুরু আর শেষের কাছে বাঁধা

নদীর দু – প্রান্তের মূল

একপ্রান্তে জনপদ অন্যপ্রান্ত জনশূণ্য

দুদিকেই কূল, দুদিকেই এপার-ওপার, আসা-যাওয়া, টানাপোড়েন –

দুটো জন্মই লাগে

মনে মনে দুটো জন্মই লাগে "

(---শক্তি চট্টোপাধ্যায় )


আজ কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের প্রয়াণ দিবস। কিছু মানুষ চলে গেলেও তাঁর ছায়া, তাঁর উপলব্ধি বছরের পর বছর মানুষের মনে থেকে যায়। শক্তি চট্টোপাধ্যায় এক বোধের নাম। যেখানে সমাজ চেতনা মানুষের পরিচিতি এক আলাদা মাত্রা ধারন করে । প্রত্যেকটি উপন্যাস,  কবিতা সিগনেচার স্টাইল বহন করে চলে। সুনীল গাঙ্গুলীর গলায় জল ঢালা বন্ধুত্বের মধ্যেই ছিলো সাহিত্যের সেই পথ চলার অঙ্গীকার।  " হাংগ্রি আন্দোলনের" এক বিশিষ্ট কবি মানুষ। প্রবল নেশাগ্রস্ত অবস্থাতেও তার বিচারবুদ্ধি এবং জীবন উপলব্ধি এক ফোঁটা আন্দোলিত হয়নি কোনদিনই।

ছবি সংগৃহীত 

 অনুবাদেও তাঁর বিচরণ উল্লেখযোগ্য - মায়াকোভ্‌স্কি, লোরকার, পাবলো নেরুদা , গালিব প্রভৃতিদের কবিতা অনুবাদক হিসেবে আলাদা স্পর্ধা রাখতেন।

" ভাবছি, ঘুরে দাঁড়ানোই ভালো।

এতো কালো মেখেছি দু হাতে

এতোকাল ধরে!

যেতে পারি

যে-কোন দিকেই আমি চলে যেতে পারি

কিন্তু, কেন যাবো?

যাবো

কিন্তু, এখনি যাবো না

একাকী যাবো না অসময়ে।।"

(---শক্তি চট্টোপাধ্যায় )

সমাজসচেতন এই মানুষটি ব্যক্তিগত জীবনের বহু লড়াইকে পরাজিত করতে পেরেছিলেন। তার আদর্শ এবং ভাবধারা সাহিত্য জগতে নিজস্বতা খুঁজে পায় ।জীবনানন্দ পরবর্তী আধুনিক কবিদের মধ্যে অন্যতম স্থান পেয়েছেন। 

১৯৮২ সালে প্রকাশিত তার যেতে পারি কিন্তু কেন যাবো কাব্যগ্রন্থ ইংরেজি এবং মৈথিলী বাষায় অনুদিত হয়েছে।

ছবি সংগৃহীত 

 ১৯৮৩ সালে কাব্যগ্রন্থের জন্য তিনি সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার লাভ করেন। 

১৯৭৪ সালে তিনি পূর্ণেন্দু পত্রী পরিচালিত ছেঁড়া তমসুখ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন।

দারিদ্রের কারণে শক্তি স্নাতক পাঠ অর্ধসমাপ্ত রেখে প্রেসিডেন্সি কলেজ ত্যাগ করেন এবং সাহিত্যকে জীবিকা করার উদ্দেশ্যে উপন্যাস লেখা আরম্ভ করেন , যা পরবর্তীতে কালজয়ী হয়ে দাঁড়ায়। 

শক্তি নিজের কবিতাকে বলতেন পদ্য। ভারবি প্রকাশনায় কাজ করার সূত্রে তার শ্রেষ্ঠ কবিতার সিরিজ বের হয়। পঞ্চাশের দশকে কবিদের মুখপত্র কৃত্তিবাস পত্রিকার অন্যতম কবি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন। তার উপন্যাস অবনী বাড়ি আছো? দাঁড়াবার জায়গা ইত্যাদি প্রকাশিত হয়। রূপচাঁদ পক্ষী ছদ্মনামে অনেক ফিচার লিখেছেন।

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের সাথে শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের বন্ধুত্ব সম্পর্ক আজীবন অটল ছিলো । এমনকি সুনীল গাঙ্গুলীর কৃত্তিবাস পত্রিকায় বহু সহযোগিতা করেছিলেন।

সে যাইহোক শক্তি চট্টোপাধ্যায় এক জীবন্ত অধ্যায়ের নাম। যাঁর শব্দ ছুঁলে জীবনকে মানুষকে বারবার আবিস্কার করা যায় -

" ছেলেটা খুব ভুল করেছে শক্ত পাথর ভেঙে

মানুষ ছিলো নরম, কেটে , ছড়িয়ে দিলে পারতো।

পথের হদিস পথই জানে, মনের কথা মত্ত...

মানুষ বড় শস্তা, কেটে, ছড়িয়ে দিলে পারতো ! "

         (---শক্তি চট্টোপাধ্যায় )

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

2 মন্তব্যসমূহ