পোস্ট বার দেখা হয়েছে
স্মরণে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়
সাবিত্রী জানা ষন্নিগ্রহী
সেই ১৯৭৩ সাল--হায়ার সেকেন্ডারী পরীক্ষার আগে-- সবে মুক্তি পেয়েছে "অশনি সংকেত"---কে অভিনয় করছেন জানার কোন উপায় বা আগ্রহ কোনটাই ছিল না। পরীক্ষা দেবো-স্কুলের হোস্টেলে থাকি। হোস্টেল থেকে সিনেমা দেখাতে নিয়ে যাওয়া হবে। গ্রামের সিনেমা হল--বাঁশের বেড়া-কাঠের বেঞ্চ-১৯ পয়সা টিকিট। হেডমিস্ট্রেস কলকাতা থেকে এসেছেন-- উনিই বললেন--ভালো বই--- ছাত্রীরা দেখে আসুক।
---তিনঘন্টা অপলক দৃষ্টিতে দেখছি--এক ব্রাহ্মণ হাঁটুর উপর ধুতি-বগলে ছাতা-- দুর্ভিক্ষ---খাদ্য না পেয়ে দলে দলে লোক চলেছে--- ব্রাহ্মণের বাড়িতে ও অভাব-- তরকারি নেই।
নাম জানলাম--সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়।
সেই শুরু উনার অভিনিত সিনেমা দেখা। মেদিনীপুর কলেজে পড়ার সময় অফ সময়ে বায়ো ডিপার্টমেন্ট এর সামনে চওড়া বারান্দার রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে বন্ধুরা আলোচনা করতাম--কার অভিনয় ভালো--সৌমিত্র না উত্তমকুমার। কিছু উত্তমকুমার কিছু সৌমিত্র। আমার বেশীরভাগ পছন্দ ছিল সৌমিত্র। সৌমিত্র অভিনিত বই এলেই ""অরোরা""--- সিনেমায় নিজ আত্মীয়দের সাথে হলে গিয়ে হাজির। কখনো এত ভিড়--আবার পরেরদিন।
এভাবেই ৩৭ উপর সিনেমা দেখা হয়ে গেছে--১৯৭৪ থেকে ১৯৮৭ পর্যন্ত। এর পর সিনেমা হল কমতে থাকলো।---টিভিতে কখনো সখনো।
---গতবছর বেলঘরিয়ায় কোন এক পূজো মন্ডপে মাইকে ভেসে আসছিল সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের কন্ঠে আবৃত্তি---মোবাইলে রেকর্ড করে রেখেছিলাম--- মাঝে মাঝেই শুনি।---মৃত্যুর খবর শুনে সেই আবৃত্তিটি বারবার শুনছি।
---আনন্দ বাজার পত্রিকায় খবরের কাগজে বেরোনো কিছু ফটো-কিছু খবর কেটে রাখতাম---সেগুলো মাঝে মাঝেই পড়ছি।
না---উনি নেই ভাবতে একটু কষ্টই হচ্ছে।
--- গ্রামে বসে নিরবেই শ্রদ্ধা জানালাম---অভিনয় জগতের মহাপুরুষ ""সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়কে"" ---শতপ্রণাম।

0 মন্তব্যসমূহ