পোস্ট বার দেখা হয়েছে
কন্যাকুমারিকার সূর্য
সুমনা ভট্টাচার্য্য
কন্যাকুমারিকার সূর্যাস্ত আপনার চোখের ক্যানভাসে যে ভারতবর্ষের ছবি এঁকেছিলো -
তার সঙ্গে আমার কখনো বর্ণপরিচয় ঘটে নি
তারচেয়ে অনেক বেশি প্রাসঙ্গিক
সামাজিক অন্তর্জালের আষ্টেপৃষ্টে গাঁথা আমার এই সাবলীল অভিযোজন ;
যে সাঁওতালদের নিজের হাতে খাবার পরিবেশন করে
আপনি সম-পংক্তিভোজনে বসেছিলেন -
তাদের শব্দভেদী প্রশ্নের তীর
আজ আমার শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘুমের দেয়ালে ধাক্কা খেয়ে ফিরে যায়;
আমার বাক্সসুখ আমাকে অরগ্যানিক নিরপত্তায় মুড়ে রাখে আশিরনখ।
নিশ্চেষ্টতার আগুনে আমি হাত সেঁকি
যখন আর্ত সেবায় আপনার দু'হাত আলোর মতো উঠে আসে…
আমার রাত সেসময় দুলে ওঠে ক্যান্ডেললাইট ডিনারের শিফন কমনীয়তায় ;
আপনি এক ঝটকায় মানুষগুলোকে অনন্ত শীতঘুম থেকে জাগিয়ে তুলে
শিরদাঁড়া সোজা করে তলোয়ারের ফলার মতো আত্মজ্ঞানের মুখোমুখি দাঁড় করাতে চেয়েছিলেন -
কিন্তু যাদের শিরদাঁড়া নেই তাদের দাঁড়ানোর ক্ষমতা থাকে না -
তারা বড়োজোর মানুষের মলাট গায়ে জড়িয়ে
বুক ঘষটে চলে আর পাশার দান চালে -
কন্যাকুমারিকার সূর্যাস্ত তীক্ষ্ণ নখরে শান দেওয়ার অভ্যেস ছিন্ন করতে পারে না
পারে না বাতাসের গায়ে কেটে বসে যাওয়া
বিষাক্ত নিঃশ্বাসের ছোবলগুলো মুছতে -
সিঁড়ি ধাপে জমে ওঠা পেছল শ্যাওলার আস্তরণগুলোও ঘষে মেজে তকতকে করতে পারে না
তাই কন্যাকুমারিকার সূর্য প্রতিদিন বিকেলে তার সব রঙ নিঃশেষে ধুয়ে নোনা জলে ডুবে যায় নিয়মমাফিক ...
আপনার পর ছবি আঁকার তেমন ক্যানভাস সে আর পেল কোথায়?

0 মন্তব্যসমূহ