দর্পণ || প্রতিষ্ঠা দিবস সংখ্যা ২০২১ || অলিপা পাল




পোস্ট বার দেখা হয়েছে

অলিপা পাল

শিক্ষায় দর্পণ


শিক্ষার উদ্দেশ্য নিয়ে ভাবতে বসলে বা বিজ্ঞজনেদের প্রশ্ন করলে, সাত কোটি জনের কাছে সাত কোটি উদ্দেশ্য মিলতে পারে। যার মধ্যে পারস্পরিক বিরোধিতাও থাকবে। তবুও পুরনো একটা ধারণা সকলের থাকে,সেটা হল জ্ঞান অর্জন। যে জ্ঞান মানুষের বেঁচে থাকার সহায়ক। আর এই জ্ঞান অর্জন করা সমস্ত মানুষের অধিকার ৷

কিন্তু জ্ঞানের চেহারাটা কী হবে আর কেমন করেইবা পাওয়া যাবে,আর যদি হয় সাহিত্যে, তা নিয়ে আমরা চিন্তিত প্রায় সকল সাহিত্য প্রেমী ৷ আর এই আধুনিক ফেসবুক যুগে যেখানে বিদ্বজ্জনেরা বলেন 'ফেসবুক ছাড়া কবি থাকে নাকি !' সেই বিদ্বজ্জনদের বলবো অবশ্যই ফেসবুকে কবি'র জন্ম হয়,আর তা যদি হয় ফেসবুক পত্রিকা বঙ্গীয় সাহিত্য 

দর্পণ ৷

সেই কবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখে গিয়েছেন— 'শিক্ষা দেবার উদ্দেশ্যের সঙ্গে যদি আরো কোন অবান্তর উদ্দেশ্য ভিতরে ভিতরে থাকিয়া যায় তবে তাহাতে বিকার জন্মে।'

আর এই বিকারের স্থান কখনোই নেই আন্তর্জাতিক বঙ্গীয় সাহিত্য দর্পণে ৷

অবশ্যই আন্তর্জাতিক ৷আজকের যুগে একটা দেশ বা একটা সংস্কৃতির সঙ্গে অন্য দেশ বা অন্য সংস্কৃতির আদান-প্রদান অবশ্যম্ভাবী। তাই দর্পণ ভারত ও বাংলা দেশ শাখা আন্তর্জাতিক স্তরে প্রতিষ্ঠিত ৷ দুই বাংলার সাহিত্য চর্চার সাথে মেলবন্ধন হয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন ভাষার সাহিত্য,poetry festival এর মাধ্যমে দর্পণ blog magazine এ ৷

এই  সাহিত্য চর্চায় তৈরি হবে সৃষ্টিধর্মীতা ৷ জাতীয় সাহিত্যের ঐতিহ্যের প্রতি আগ্রহ ৷  জাতীয় স্তরে একটি বৃহৎ অনুবাদ পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন বঙ্গীয় সাহিত্য দর্পণ সম্পাদক ৷ কারণ বেশির ভাগ মানুষ মাতৃভাষায় শিক্ষিত,সাথে আর দুএকটা প্রয়োজনীয় ভাষা ৷ ভাষার অজ্ঞতার জন্য পড়া হয় না বিদেশী বিভিন্ন ভাষার সাহিত্য ৷ সেই অভাব পূরণ করছে বঙ্গীয় সাহিত্য দর্পণ ৷

 দর্পণ ব্লগ এর মাধ্যমে দর্পণী'রা কলম তুলে নিয়েছেন অনুবাদের ৷ 


বছর শেষ হল ৷অন্যান্য বার পুরনো বছরকে বিদায় দিতে কিছুটা বিষণ্ণ লাগে ৷ প্রিয় অতিথির যাওয়ার সময় হলে যেমন হয়। কিন্তু ২০২০ বছরটিকে কুলাের বাতাস দিয়ে বিদায় করতে উন্মুখ গোটা বিশ্ব।রোগশয্যায় যন্ত্রণাবিদ্ধ মানুষ যেন দুর্ভোগের রাত্রি কাটার অপেক্ষায় ৷ এমন আতঙ্ক ও বেদনার বছর বিশ্বের ইতিহাসে খুব বেশি আসেনি ৷ করোনাভাইরাস তার শুঁড় দিয়ে যেন বিশ্বের প্রাণশক্তি,কর্মশক্তি শোষণ করে চলেছে।

পশ্চিমবঙ্গের এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতেও বঙ্গীয় সাহিত্য দর্পণের সমাজসেবক'রা তাদের সেবার হাত বার বার এগিয়ে দিয়েছেন অসহায় মানুষের দিকে ৷


এ আমার দর্পণ আমাদের দর্পণ ৷ভালবাসার দর্পণ ৷যেন দেবালয় !পবিত্র শুদ্ধতার 

 নিদর্শন, যা দর্পণীদের উৎকৃষ্ট মানের সাহিত্যচর্চায় সমাদৃত ৷

দর্পণে মৌলিক নৈতিকতার ক্ষেত্রে সমস্ত ধর্মের মধ্যে একটা সমন্বয় আছে ৷ যখন সামাজিক ও ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার কথা বার বার উঠে আসছে,রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় এক বিশেষ দৃষ্টিকোণে দেশের ইতিহাস পুনর্লিখনের চেষ্টা চলছে,কিংবা কিছু রাষ্ট্রীয় ভাষা যেমন উর্দু ও সংস্কৃতকে কোনও বিশেষ ধর্মের ভাষা হিসেবে পেশ করা হচ্ছে। ভারতীয় ভাবনার মূল ভিত সহনশীলতা ও বহুমাত্রিকতা। এই ঐতিহ্যের উপর আক্রমণ যাতে না আসে ৷সেখানে দর্পণ সাহিত্য ধর্মীয় প্রভাব থেকে মুক্ত ৷ যা আমাদের গর্ব ৷

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

2 মন্তব্যসমূহ

  1. অসম্ভব প্রাসঙ্গিক একটা লেখা, যা শুধু দর্পণের কর্মকাণ্ডের তথ্যকে পরিবেশন করেনি - বরং ধর্মীয় স্বেচ্ছাচারিতা থেকে সরে এসে দর্পণকে "সাহিত্যের সমন্বয়" বলে আখ্যা দিয়েছে। বিশেষতঃ শেষ প্যারাটা তো বর্তমান দূরবস্থার কথা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। তাই শেষ প্যারাটা পড়ার জন্যই এ লেখা বার বার পড়া যায়। ভালোবাসা ও শুভেচ্ছা @অলিপা ।

    উত্তরমুছুন
    উত্তরগুলি


    1. অনেক অনেক প্রেরণা পেলাম
      বন্ধু ৷ ভালবাসা অন্তহীন

      মুছুন