পোস্ট বার দেখা হয়েছে
আমি নই,,
অপালা
আমি নই --
একথা মানতেই গাছের বুকে শীত এঁকে দিই
এক পাগল জোনাকি সারারাত আলো ঢেলে গেছে
দেওয়ালের ফিসফিস পোশাকে মেখে ছবিয়াল কথা বলে গেছে -
পৃথিবীতে কত রঙ আছে, কত সাজ আছে
জানতেই ছৌনাচের ঘরানায় বায়না ধরি -
এতটাই মূক! কোথাও আয়না রাখেনি চোখ!
বোকা এক খরগোশে দৌড় - কোথায় না খুঁজিনি সেই পাগলটাকে!
বোঝেনি আমার কথা, আস্ত জীবন যে নদীতে বাঁধা ;
হারিয়ে যাওয়া, ছুটে পাওয়া ঘোরের নির্জনে,
ফুলগুলো রেখে আসি রোজ, নেয়নি তার খোঁজ!
অবহেলা ছুঁড়ে যায় মেঘেদের গায়, ছড়ানো পালক -
কিছুতেই মেলাতে পারিনা নিজেকে
হাজার পোশাকের ভিড়ে বেমানান ছকে,
অদ্ভুত বিয়োগের শব্দ ভাসে - নিয়মের দাগে?
ম্যাজিক আঙুল বদলিয়ে বলে - আমি নই!!
===
তুমিই প্রেমিকা
স্মরণ মজুমদার
বিশ্বস্ত সূত্রে পাওয়া হিসেব অনুযায়ী , গতকাল ই তোমার বয়স বেড়েছে
আরও এক বছর ! পাক্কা এক বছর!
আমি বিশ্বাস করি না মোটেও !
অথচ কি আশ্চর্য ! সবার সাথে তুমি অনায়াস উল্লাসে উদযাপন করে নিলে এই লোকসান!
মাইক বাজলো , ধুমধাম করে নাচাগানা হলো খুব !
শেষে পেটপুরে খেয়ে পিকনিক শেষ হলো !
ফেটে গেল সব বেলুনেরা!
এক বছরে
তোমার ধুলো মাখা পায়ে হাঁটা মেঠো পথে পড়েছে কালো পিচের প্রলেপ - তুমি আজ চলতে পারো না নিজের পায়ে।
খোলা মাঠের পাশে তোমার কুঁড়েঘরে বিনামূল্যে পাওয়া যেত আকাশ - এখন একঘেয়ে ছাদ,
তুমি মানিয়ে নিলে !
তোমার জন্য ঘাসে ঘাসে পড়তো শিশির - তুমি সজীব হয়ে উঠতে ছোঁয়ায় ।
এখন ধোঁয়াশায় খুব শ্বাসকষ্ট হয় - তুমি পরে নিলে মুখোশ।
তোমার জন্য কুলকুল বয়ে যেত যেসব নদী ও ,
এখন তাঁদের বুকে বালি আর বালি।
তেষ্টা পেলে চুমুক লাগাও তুমি মিনারেল ওয়াটারে!
তোমার পুরানো পোশাক হঠাৎ ছোট হয়ে গেলে - তুমি নতুন পোশাক পরে নিলে নির্দ্বিধায় !
তোমার জুতোর মাপ বদলে গেলে - তুমি ঠিক অন্য জুতোয় গলিয়ে দিলে পা !
তোমার কপালে আড়াআড়ি আরেকটা বলিরেখা বেড়ে গেল - তুমি মেকআপ করে ঢেকে নিলে !
তোমার কয়েকটি চুল সাদা হয়ে গেল, ঝরে গেল - তুমি বাকিগুলোতে কলপ লাগিয়ে নিলে!
তোমার চারপাশ থেকে এক এক করে চিরতরে অন্তর্হিত হয়ে গেল বহু প্রিয়জন,
মহামারীর শেষে
নতুন হাত খুঁজে নিলে তুমি ফের !
তোমার স্বপ্ন গুলো যেই একঘেয়ে মনে হলো খুব - তুমি নতুন স্বপ্নের নাম দিলে রেজোলিউশন !
তোমাকে এখনো বড্ড অগোছালো, বড্ড বেহিসেবী আর ভীষণ আবেগী এক
চুম্বকের মতো প্রেমিকা ই মনে হয় !
প্রেমিকা জীবন , তুমি
জানো ভালো করে - নতুন আবেশে রোজ তোমার ঠোঁটেই
চুমু খেতে কত ইচ্ছে হয়!
তাই , বেপরোয়া তোমাকে
ভালোবাসার জন্য আমি থামিয়ে দিতে চাই বহমান সময় ....
এখনো তোমাকে ভালোবাসার জন্য প্রতিদিন সকালে একবার ,
চূড়ান্ত স্বার্থপর জীবনলোভী
এই আমার জন্ম হয় !
====
ছবিটির মতো
তনু ঘোষ
শীতের সকাল গুলোতে আমি চিত্রশিল্পী হয়ে যাই।
জীবন্ত ছবিগুলো বসিয়ে দিই সামনের বাগানটায়।
ছলাৎ ছল বাতাস বরফ নিয়ে আসে সুদূর--
হিমালয় থেকে,
মাখিয়ে দেয় অচেনা রূপকথার গল্প।
ছবিগুলো আবেদন নিয়ে আকর্ষণ করে বারবার
আঙুলে মেখে নিই নরম তুলোর রোম।
শিহরিত বুক ডানা মেলে সৌদির মরু বা নীলনদের কিনারায়....
শিল্পীর সঙ্গে শিল্পের রহস্য সম্পর্ক চিরকাল
আমার মনের জাদুকর, যেন আস্ত কারিগর।
"এমন যদি হতো , ইচ্ছে হলেই আমি হতাম
প্রজাপতির মতো।
নানান রঙের ফুলের পরে,বসে যেতাম চুপটি করে... "
তপ্ত দিন, কোলাহল আমাকে ক্লান্ত করে ভীষণ
গোধূলির রঙে অপেক্ষা করি- সৌভাগ্যের,
হয়তো বা ভালোবাসার।
রাত শেষ হলেই আবার ছবি ধরা দেবে কাঙ্খিত ফুলে।
====
দাও আলো
পার্থ সর
কবি তুমি সুখের ছবি
এঁকেছো কখনো? আঁকতে পারো!
না।
আমি যন্ত্রণার ছবি আঁকি আরো।
কবি তুমি শীতঘুমের পেলবতা জানো?
ভাবিনি তা ---
দেখেছি পথশিশুর তুমুল কাতরানো ।
পুকুরের নীল পাঁকে
শালুক ফুটতে দেখেছো কবি?
দেখেছি অনেক ---
ভোরের শীতল হাওয়ায়
প্রতিটি ফুলের দোলায়
পেয়েছি আর্ত হৃদয়ের ছবি।
আর অঘ্রাণের ধানের শীষে
কি দেখেছো তুমি?
দেখেছি বুভুক্ষুর মিছিল, হরতাল
রাক্ষুসে হিংসার কবলে
জনতার রক্তে সিক্ত ভূমি।
আকাশের পানে তাকিয়ে এখন
কবি তুমি কি ভাবছো বলো।
ভাবছি অমানিশার আঁধার পেরিয়ে
আকাশের কোন কোণা থেকে
দেখবো প্রথম উৎসারিত আলো!
===
স্পন্দন
আমেনা ফাহিম
নিঃশ্বাসটুকু তোমার শহরে রেখে এলাম
নদীর বুকে ঝড় উঠেছে
আর আমার আকাশ জুড়ে শুধুই তুমি মেঘ।।
আবার বৃষ্টি হোক
ভিজে যাক পৃথিবীর শরীর
স্নান শেষে মুছে যাক ক্লান্তিগুলো
হৃদয়ে হোক না রক্তক্ষরণ
উষ্ণ ছোঁয়ায় থমকে যাক সময়টুকু
প্রিয়তমার শাড়ীর আঁচলে লেখা হোক
নতুন কোনো কাব্য।।
আবার রাত্রি নামুক
চৈত্রের শেষে বৃষ্টিহীন বৈশাখী রাত্রি নামুক
বিদীর্ণ হোক প্রাণহীন অনুভুতিগুলো
হোক না নতুন কোনো প্রাণের স্পন্দন
বিদ্রোহী বাতাসে এলোমেলো হয়ে যাক প্রিয়তমার চুল
অস্পষ্ট আলোয় এক জোড়া চোখ লিখুক
আরও এক জোড়া চোখের গল্প।।।

1 মন্তব্যসমূহ
সুন্দর পরিবেশ।
উত্তরমুছুন