করোনা আবহে দেহের ওজন বৃদ্ধি ?? || মনোজ মাইতি




পোস্ট বার দেখা হয়েছে

 করোনা আবহে  দেহের ওজন বৃদ্ধি ??

মনোজ মাইতি, শারীরবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক, বাজকুল মিলনী মহাবিদ্যালয়

করনা ভাইরাসের প্রভাবে দেশজুড়ে লকডাউন অনেকটা খাঁচায় বন্দী পোষা প্রাণীদের মতো মানুষের অবস্থা, বাড়ির বাইরে যাওয়া বন্ধ, মানুষের মধ্যে আতঙ্ক, মৃত্যুভয়, খাদ্য ও পোশাক-পরিচ্ছদ অভাব, চাকরি চলে যাওয়া, রুজি-রোজগার বন্ধ, ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশুনার প্রায় বন্ধ, আতঙ্ক অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন রাত্রি যাপন, নিয়মিত খেলার মাঠে হাঁটার অভ্যাস বন্ধ,বন্ধ পরিবহন ব্যবস্থা। বন্ধ শিল্প কারখানা, অর্থনৈতিক সামাজিক শিক্ষা ব্যবস্থায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত এর প্রভাব মানুষের শারীরিক ও শারীর বৃত্তীয় অংশে লক্ষণীয়। অনেকেরই দেহের ওজন বৃদ্ধি কারো আবার অর্থনৈতিক ও মানসিক ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ওজন হ্রাস। আমরা নিজেরাই বাড়িতে বসে নিজেদের শারীরিক দেহভর সূচক নির্ণয় করে নিতে পারি যার মাধ্যমে ওজন বৃদ্ধি, হ্রাস বা স্বাভাবিক অবস্থা নির্ণয় করতে পারি।

দেহের ওজন খাদ্যবস্তু গ্রহণ ও জীবনযাপনের প্রকৃতির উপর সম্পর্কযুক্ত। প্রতিদিন প্রাপ্তবয়স্ক মানবদেহে প্রায় 2000 থেকে 2500 কিলোক্যালরি শক্তি দরকার হয়, যা কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন ও ফ্যাট জাতীয় খাদ্য বস্তু থেকে সংগৃহীত হয়। প্রতিদিন গড়ে 50 গ্রাম প্রোটিন 30 থেকে 40 গ্রাম ফ্যাট ও 250 থেকে সাড়ে 350 গ্রাম কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাদ্য বস্তু দরকার, গর্ভাবস্থা ও স্তনদানকারী মহিলাদের এই শক্তির চাহিদা অনেকাংশে বৃদ্ধি পায়। শারীরিক পরিশ্রমের এর তিনটি প্রকার যথা মাঝারি, ভারী ও হালকা। প্রতিদিনের শক্তির চাহিদা পরিশ্রমের প্রকারের উপর নির্ভরশীল, পরিশ্রম এর পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে শক্তির চাহিদা বৃদ্ধি পায়। প্রতিদিনের শক্তির চাহিদা অপেক্ষায় বেশি পরিমাণ ক্যালরিযুক্ত খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে অতিরিক্ত ক্যালোরি দেহে প্রবেশ করলে তা সঞ্চিত হয় চর্বি কোষের মধ্যে, এতে দেহের ওজন বৃদ্ধি পেতে থাকে। নিয়মিত চর্বিযুক্ত খাদ্য বস্তু গ্রহণ, বেশি ক্যালরিযুক্ত খাদ্য গ্রহণ, দেহে প্রয়োজনের অতিরিক্ত নিয়মিত বেশি ক্যালরিযুক্ত খাদ্য গ্রহণ, আরামদায়ক জীবনযাপন দেহের ওজন বৃদ্ধির প্রধান উপাদান। দেহতত্ত্বক, মিউকাস পর্দার নিচে অ্যাডিপোজ টিস্যু বা মেদ জমা হয় তার কারণে দেহের ওজন বৃদ্ধি পায়। দেহের ওজন সাহাবী অপেক্ষায় বৃদ্ধি পেলে ওবেসিটি বা স্থূলকায় বলা হয়। দেহের ওজন (কেজি) কে দেহের উচ্চতা (বর্গমিটার) দিয়ে ভাগ করে দেহভর সূচক বা বি এম আই নির্ণয় করা হয়। ব্যক্তির দেহ ভর সূচক বা বি এম আই এর পরিমাণ স্বাভাবিক 17.5 থেকে 33.5 কেজি পার মিটার স্কোয়ার। এর পরিমাণ 35 কেজি পার মিটার স্কোয়ার বা র্তার অপেক্ষায় বৃদ্ধি পেলে স্থূলতা চিহ্নিত হয় অপরপক্ষে বি এম আই এর মান স্বাভাবিক এর কম হলে ব্যক্তিটি অপুষ্টিতে ভুগছে ধরে নেয়া হয়। নিয়মিত শ্রমের মাধ্যমে দেহের ওজন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বিভিন্ন রকম শারীরিক সমস্যা প্রতিরোধ করা যায় যেমন রক্তের মধ্যে চর্বির পরিমাণ, সুগারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব, হার্টের অসুখ প্রতিরোধ ও ফুসফুসের কার্যকারিতা দেহে রক্ত সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। দুই হাজার কুড়ি সালে করোনাভাইরাস ও লকডাউন এর কারণে মানুষজনের বেশিরভাগ সময়ই কাজ না করে থাকার সময়ে নিজেদের সৃজনশীলতার পরিস্ফুটন ও সামাজিক মাধ্যমে উপস্থাপন করার সুযোগ যেমন নাচ, গান, আবৃত্তি এর নমুনা পাশাপাশি ছোটগল্প, প্রবন্ধ, কবিতা লেখা লেখি যা ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ইত্যাদি বৈদ্যুতিক মাধ্যমে উপস্থাপন লক্ষণীয়।

দেহে অনাক্রমতা এবং এর বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান গুলি যেমন টাটকা শাকসবজি, ফলমূল, মাছ, মাংস, ডিম ইত্যাদি ভিটামিন, খনিজ উপাদান সমৃদ্ধ খাদ্য এর পাশাপাশি ভিটামিন-সি, মাল্টিভিটামিন ট্যাবলেট, জিংক ট্যাবলেট ইত্যাদি সাধারণ মানুষের থেকে সর্ব সাধারণের মধ্যে অবগত অবগতি ঘটেছে যা দেহের ওজন বৃদ্ধির একটি অন্যতম কারণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ