দর্পণ || একাদশ সংখ্যা || স্মৃতিকথা ||সেই সব দিনগুলি -কমল দে সিকদার




পোস্ট বার দেখা হয়েছে

সেই সব দিনগুলি

কমল দে সিকদার 


সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় ঠিক যে উচ্চতার মানুষ তার খুব কাছাকাছি যাওয়া যায় কিনা জানিনা। তবে বুধ সন্ধ্যার সন্মানিত সদস্য হিসেবে মাঝেমাঝেই বুধবারের সান্ধ্য আসরে উনাকে পেয়েছি। সেই আসরে সুনীল দা, সমরেন্দ্র দা,সাগরময় ঘোষ,যোগেন চৌধুরী, সুবোধ সরকার কল্যাণ মজুমদার, সৌমিত্র মিত্র, দিব্যেন্দু পালিত,নবনীতা দেবসেন, স্বাতী গঙ্গোপাধ্যায় প্রমুখ অনেকেই আসতেন। সৌমিত্র দা খুব আড্ডা দিতেন। বিশেষ করে ওনার উপস্থিতির দিনের আড্ডায় কবিতা থেকে সিনেমার বিষয় থাকতো। পরে দুশো বছরের আবৃত্তি যোগ্য কবিতা পবিত্র সরকারের সঙ্গে যুগ্ম সম্পাদনায় বের করার সময় ওর গলফ গ্রীন এর ফ্ল্যাটে যাই। উনি "এত বড় নদীর এ গলা জলে" কবিতাটি দেন।

 অনুরোধে কয়েকটি লাইন পড়েছিলেন.....

"এত বড় নদীর এ গলা জলে// আমাকে দাঁড় করিয়ে দিয়ে //যখন স্তব উচ্চারণ করতে বলেছিলে// তখন কি ভাবিনি//আমি ভেসে যেতে পারি?" 

ওই উচ্চারণে আমি অভিভূত হয়ে পড়ি। শিশিরমঞ্চে কবিতা পাঠের আসরেও ওকে পেয়েছিলাম কপাল ভালো ওর আগে আমি কবিতা পড়ে নিয়েছিলাম। আসলে ওর আবৃত্তি কবিতাকে অন্য মাত্রায় নিয়ে যেত। উত্তরবঙ্গের এক কবিতা পাঠের অনুষ্ঠানেও ওর সঙ্গ পেয়েছিলাম। ওই সময় উত্তরবঙ্গে শুটিঙে ছিলেন। সঙ্গত কারণেই অনেক ব্যস্ততার ভিতর অনুষ্ঠানে আসেন সংবর্ধনা নিতে। অপাংক্তেয় আমিও ওই আসরে ওনার সঙ্গে সংবর্ধিত হয়। ওকে স্বর্ণপদক আমাকে রৌপ্যপদক দেওয়া হয়েছিলো। বড় মানুষ না হলে ওখানে উনি আমার কবিতা পাঠের পরে কয়েকটি প্রশংসা মূলক বাক্য উচ্চারণ করেন। তবু বলি এমন উচ্চতার এক অভিনেতা প্রবন্ধকার কবির খুব কাছে যেতে পারিনি। সেটা আমার অক্ষমতা। উনি চলে যাবার পরে একটি কবিতা লিখি ওকে শ্রদ্ধা জানিয়ে। 

                                

                                       মৃত্যু 

                                      -------

আপনি কি গুরুত্ব হারাচ্ছেন। হেমন্তের এই পাতা ঝরা দিনে। একটি একটি করে অনির্বচনীয় ফুলগুলি ঝরে যাচ্ছে, আর চক্ষু লজ্জাহীন আপনি শীতল চোখ। আমরা কি আপনার উপর শ্রদ্ধা হারাচ্ছি? ভয় গুলো ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে মানুষ যদি মুখোমুখি দাঁড়ায়, অবজ্ঞা ছুঁড়ে দেয়! যদি বলে ওঠে দাবার বোর্ডে আসুন। দুপাত্তর টেনে জীবন বিলাসী আমি, এই আড়াই চালে ঘোড়া বাড়ালুম ভয়হীন। রাজা সামলান। প্রতিদ্বন্দ্বী দ্বিধাহীন হলে আপনার আর মর্যাদা কোথায়? ভয় দেখানোর মুখোশ আর মাথার মুকুটটি লুটোচ্ছে ধুলোয়। তুলে নিন স্যার - পারছেন না আহা --। 

এখনো তো কদাচিৎ কেউ মৃত্যু ভয়ের বিলাসীতা উপভোগ করেন। তবে এই ভয়ের মরণ হলে কোথায় আপনি দাঁড়াবেন বলুন --

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

1 মন্তব্যসমূহ

  1. এমন মহুরূহের প্রতি আপনার বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন অভিভূত করলো 🙏

    উত্তরমুছুন