২২শে ডিসেম্বর শান্তিনিকেতনে || অলিপা পাল




পোস্ট বার দেখা হয়েছে

 ২২শে ডিসেম্বর শান্তিনিকেতনে কলমে , অলিপা পাল

১৯০১ সালের ২২ শে ডিসেম্বর তাঁর বড় ছেলে রথীন্দ্রনাথ সহ পাঁচ জন ছাত্রকে নিয়ে শান্তিনিকেতনে, বাবা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথের প্রতিষ্ঠা করা শান্তিনিকেতন আশ্রমে ব্রহ্মচর্যাশ্রমের প্রতিষ্ঠা করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।বন্ধু বৈজ্ঞানিক জগদীশচন্দ্র বসুকে লেখা চিঠিতে রবীন্দ্রনাথ তাঁর ব্রহ্মবিদ্যালয়ের আদর্শ ব্যাখ্যা করে লিখেছেন—শান্তিনিকেতনে আমি একটি বিদ্যালয় খুলিবার জন্য বিশেষ চেষ্টা করিতেছি। সেখানে ঠিক প্রাচীনকালের গুরুগৃহবাসের মতো সমস্ত নিয়ম। বিলাসিতার নাম গন্ধ থাকিবে না— ধনী দরিদ্র সকলকেই কঠিন ব্রহ্মচর্য্যে দীক্ষিত হতে হইবে। ... অসংযত প্রবৃত্তি এবং বিলাসিতায় আমাদিগকে নষ্ট করিতেছে— দারিদ্র্যকে সহজে গ্রহণ করিতে পারিতেছি না বলিয়াই সকল প্রকার দৈন্যে আমাদিগকে পরাভূত করিতেছে!

অর্থের অভাব বারবার রবীন্দ্রনাথের বিদ্যালয়ের পথের বাধা হয়েছে, কিন্তু তার গতি রোধ করতে পারেনি। রথীন্দ্রনাথ তাঁর স্মৃতিকথায় মা মৃণালিনী দেবীর প্রসঙ্গে লিখেছেন—যখনই বিশেষ প্রয়োজন হয়েছে, নিজের অলংকার একে একে বিক্রি করে বাবাকে টাকা দিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত হাতে সামান্য কয়েকগাছা চুড়ি ও গলায় একটি চেন ছাড়া তাঁর কোনো গয়না অবশিষ্ট ছিল না।  বিবাহের যৌতুক ছাড়াও শাশুড়ির পুরানো আমলের ভারী গয়না ছিল অনেক। শান্তিনিকেতনের বিদ্যালয়ের খরচ জোগাতে সব অন্তর্ধান হল। বাবার নিজের যা কিছু মূল্যবান সম্পত্তি তা আগেই তিনি বেচে দিয়েছিলেন।

চার দেওয়ালের গণ্ডীতে আবদ্ধ, শৈশবে অন্তর থেকে অপছন্দ করা হৃদয়হীন শিক্ষাব্যবস্থার প্রতিবাদেই গুটিকয়েক ছাত্র নিয়ে গড়ে তোলা তাঁর ব্রহ্মবিদ্যালয়ের একটি বড় রূপ প্রথম থেকেই কিন্তু কল্পনা করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ। ১৯০২এ জগদীশচন্দ্র বসুর স্ত্রী অবলা বসুকে লেখা চিঠিতে রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন—আমি এখন গুটিকয়েক বালক লইয়া এখানে নিভৃতে পড়াইতেছি। আশা করিতেছি এই অঙ্কুরটি ক্রমে বড় গাছ হইয়া ফলবান হইবে।



১৯১৮, রবীন্দ্রনাথ অকালে হারালেন তাঁর বড় মেয়ে মাধুরীলতাকে।সেই বছরেই আশ্রমের অন্ধকার ঘুচলো ৷ কুষ্টিয়া থেকে তেলে চলা ইঞ্জিনের সাহায্যে বৈদ্যুতিক আলো এল শান্তিনিকেতনে, রবীন্দ্রনাথের মনে আলোর মতোই এল বিশ্বভারতীর ভাবনা।

 শান্তিনিকেতন বিদ্যালয়ের পূজা অবকাশের কিছু আগে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এক দিন কবি অ্যান্ড্রুজ ও পুত্র রথীন্দ্রনাথের সাথে ব্রহ্মচর্যাশ্রম কে বিশ্বের সামনে আনার ইচ্ছা প্রকাশ করলেন ৷ কিন্তু সেরকম বিদ্যালয়ের  গড়ে তুলতে গেলে অর্থের প্রয়োজন।এই ঘটনার কিছু দিন পর অ্যান্ড্রুজ কিছু গুজরাতি ব্যবসায়ীদের নিয়ে জোড়াসাঁকোয় কবিগুরুর বাড়িতে উপস্থিত হলে,গুজরাতি ব্যবসায়ীরা তখন কবিকে অর্থের বিষয় সম্পর্কে আশ্বস্ত করলেন ৷

পৌষমেলার সূচনার পরের দিন,১৯১৮,২৩ ডিসেম্বর (৮ পৌষ) ৷শান্তিনিকেতনের দক্ষিণে 

শিশুবিভাগ সংলগ্ন মাঠে,মহা সমারোহে 

একটা গর্তে আতপচাল কুশ জল দিয়ে

নানা মাঙ্গলিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে,রবীন্দ্রনাথ প্রতিষ্ঠা করলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তি যার নাম দিলেন বিশ্বভারতী ৷

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ