পোস্ট বার দেখা হয়েছে
বাঁশুরিয়া
শ্রী আঢ্য
আমি,বছর কুড়ি বয়েসের যুবা--হেন,
ক্লেদোক্ত এ সমাজের এক কোনে---------------,
অবহেলায়,অবজ্ঞায়,বড়েছি,বুনো এক আগাছা যেন।
তবুতো আমার মানুষেরই মন-------------------,
যাদের দেখেনা কেউ,তাদেরই একজন।
শুনেছি লোক-মুখে,অসহ্য দীনতায়,মা নাকি জনম দিয়েছে আমায়,মনে হয় তখনো তার হয়নি সামাজীক পরিণয়।
বাবা নাকি এ সমাজেরই,মান্য--গন্য,গুনী,সনাম--ধন্য কোন এক জন,
লজ্জায়, ঘৃণায়,মা---আমার, ছিঁড়ে ফেলে মায়ার বাঁধন,ফেলেছিল মোরে, ঝোপের ধারে-----------,
কপালের লিখন, বেড়ে উঠি তখন,সমাজ--ঘৃণীত,
চন্ডালের ঘরে।
সমাজের প্রতিষ্ঠিত,যশো--ধন্য, বাবুদের বাঁকা ইসারায়,পালক--পিতাও প্রাণ হারায়।
তখন আমি পা রেখেছি কৈশোরে,কারা যেন নিয়ে গেল ধরে,
আমায় জোর করে----------,
চোখ দুটো উঠিয়ে,দিল বিকিয়ে,এ জীবন মোর ভরে দিল ঘোর অন্ধকারে,
হাঁ তাদেরো ছিল কিছু দয়া অন্তরে,
ছাড়েনি একেবারে নিঃস্ব করে,হাতে দিল একটা বাঁশি,গড়া বাঁশে,দিলো দীক্ষা,""করো ভীক্ষা,পথে বসে।""
বিচিত্র চিত্রকরের অসীম আশিষে--করে,
বাঁশির মিলিত সুরে,তানের ঝঙ্কারে,কন্ঠে মোর মধুর সুর ঝরে।
এখন এটাই জীবিকা আমার-------------,
পেয়ে থাকি,পথ,কিবা রেল--যাত্রির,
ছিটে--ফোঁটা,তাদের অসীম করুণা--ঝর্ণাধারার।
====
ভোগের নেশা বড় নেশা
ডাঃ সঞ্জয় কুমার মল্লিক
সাতপাকে বাঁধা হয়ে চুটিয়ে সংসার করার পর।
সমস্ত সুযোগ-সুবিধা ভোগ করার পর,
যখন শুধুই অভিযোগ আর অভিযোগ,
মাঝে মধ্যে ইচ্ছাকৃত দূরত্ব বজায় রেখে চলা।
লাগাতার ছেড়ে যাওয়ার মেকি অভিমানী কথা বলা!
বুঝতে হবে,
বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ বৃথা।
অন্য কোথাও মাজেছে মন,নতুন নাগর যেথা।
চাওয়া-পাওয়া শেষ হলে পরে,
করবে মন আবার এদিক-ওদিক,যেতে পারে মন ভাগাড়েতেও।
আবার ক্ষমতা,আবার সুখের আশা,
আবার স্বেচ্ছাচারিতার নেশায় থাকবে না মন সেই খানেতেও।
আদর্শ-অভিযোগ তখন শিকেয় রবে।
কিছু মানুষের কাছে হবে বিশ্বাসঘাতক,
একাকীত্ব,অসহায়তা ছাড়া শেষ জীবনে
তোমার পাশে কিছুই না রবে।
====
"চরিত্র পাত্র..
স্বপ্না চ্যাটার্জী...
গল্প লিখবো চরিত্রের পাত্র খুঁজে পাচ্ছি না,
নারী পুরুষ আরো অনেক কিছুই আছে মনে ধরছে না কিছুই।
প্রেম বিরহ নিয়ে তো অনেক লিখলাম,,
প্রকৃতির মুঠোয় অনেক জীবন্ত গল্প রহস্য
থাকলেই বা কি কৌতূহলী গল্প মগজে বারবার টোকা দেয়।
গল্পের চরিত্র প্রতিবাদের মাটিতে,প্রেমর কুঁড়েতে
রুপকথার মতো নয়, আত্মজীবনের আগুনে
পোড়া পাকা মাটির জীবন যেন হয়।
অনেক কিছু শিখেছি এখন জীবন দিয়ে জীবন কেনা যায় না, তবে মৃত্যু দিয়ে জীবন কে
বাঁচানো এখন অনেক সস্তা।
চরিত্রের পাত্র খুঁজতে খুঁজতে নিজেই এখন
এক চরিত্রে পরিবর্তন হয়ে গেছি,
আসল জীবন চরিত্র।।
===
শব্দগুহা
মুস্তারী বেগম
একদিন পাখি হয়েছিলাম
পরিযায়ী অথবা গৃহী
একদিন পানিবাহী ও হয়েছিলাম
হংস অথবা মাস্তুল
শিতলকুচি মোড়া একটি শরীর
আবছা কুয়াশা পড়ানো একটি মূর্তি
সব সবদাহ শেষ হলে
একটি কবরের ফাটলে অবিকল তোমার মুখের মতো দুটো চোখের শরীরে প্রজাপতিদের পরাগ লেগেছিলো
আমার ময়লা ঝোলায় একটি তাসবীহ ছিলো
আর সেই রুপদস্তার পানের ঘর
যেখানে জন্মান্ধ নেশায় কবিরা বসে থাকে আমরণ তাপস্যায়।
আমার পাখিদের শরীরের উত্তাপে একদিন নবজার অক্ষর তুলোর শরীরে খোয়াব দেখেছি
একটি পরীর আর একটি আর্তনাদের।

2 মন্তব্যসমূহ
অসাধারণ কবিতার সমাহার, ভীষণ ভীষণ সমৃদ্ধ হলাম.......
উত্তরমুছুনঅসাধারণ কবিতার সমাহার, ভীষণ ভীষণ সমৃদ্ধ হলাম.......
উত্তরমুছুন