পোস্ট বার দেখা হয়েছে
বাংলা চলচিত্রের যুবরাজ সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়
বরুন চক্রবর্তী
বাংলার সুসন্তান, যাঁর আজীবন কর্মযজ্ঞে এত বড় বড় সম্মান প্রাপ্তিতে বাংলার তথা দেশের সুনাম বেড়েছে। বিদায় বেলায় আমাদের সমবেত প্রার্থনা- কাতর প্রার্থনা বারে বারে আকুতি লিপি চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে যান। আশ্বাস মিলছিলো কিন্তু আশঙ্কা ঘিরে ছিল। শেষ পর্যন্ত প্রার্থনায় ইচ্ছাপূরণ হলোনা।
বাংলা চলচিত্রের যুবরাজ তাঁকে এইভাবেই ভাবতে হবে - তাঁর অভিনয়ের তথ্যপঞ্জিতে কত মুহূর্ত ভেসে উঠেছে চিরদিনের সভ্য ভদ্র মানুষ যার কাজ দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন অক্লেশে তাঁর সাধ্যানুযায়ী। তিনি সামাজিক কাজে যুক্ত থেকেও তিনি কক্ষনও তাঁর আওতার বাইরে যাননি।সাংঘাতিক সময় সচেতন মানুষ তিনি বিশ্বাস জাগিয়েছেন,বিশ্বস্ত থেকেছেন ছোটোবড়ো সকলের কাছে। এহেন বিশ্বাসের কোথাও খামতি রাখেন নি। তাঁর মানসিকতা তুখোড় আর তীব্র ভালোবাসায় সজ্জমান তাইতো যাবতীয় শিক্ষা সংস্কৃতিমূলক অগ্রগতির মধ্যে সমাজ জুড়ে আস্থা রেখেছেন।
উদয়ন পন্ডিতের পাঠশালায়- যে শুদ্ধতায় তাঁকে পাওয়া গেলো এখনও তাঁর পথানুসারীদের অনেক কাজ করার দিশা রয়ে গেলো। কতরকম দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি পথের দিশারী। তাঁর দর্শন শ্রদ্ধা জাগায়। মানুষের সাথে সংযোগ তাঁর চিরকালীন, ন্যায় বিচারে সোচ্চার তিনি সমাজতন্ত্রে মনযোগী প্রবল বিশ্বাসী তাঁর মতে তাঁর পথে দায়িত্ব সামলেছেন মাথা উঁচু রেখে ; তিনি সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। তিনি এইরকমই সামাজিক মাধ্যমে তিনি জীবন্ত ; দৃশ্যত ছোটোবড়ো খ্যাত অখ্যাত নির্বিশেষ মানুষের সাথে সখ্যতা নতুন কিছু নয়,আমার দেখা স্বাভাবিক কিছু- অনেককিছু মুহূর্ত এই মুহূর্তে ভেসে উঠেছে। তাঁর সঙ্গে আমার শ্রদ্ধা প্রীতির সম্পর্ক কয়েক দশকের কতকাল, গলফগ্রীনে আসবার পর তাঁর বাসভবনে পত্রিকা ও সামাজিক সংগঠনের তাগিদে কতবার গিয়েছি, অকৃত্রিম সৌজন্যতা আজও উজ্জ্বল। চোখের সামনে ছবির মতোই ভেসে উঠছে। ঘটনাচক্রে একই অনুষ্ঠানে অনেকবার ছিলাম।
তাঁর মঞ্চে বা পর্দায় অভিনয়ের পারদর্শিতা দিয়ে কোনো কথা নয়, তাঁর লেখা লেখির জগতেও তিনি আন্তরিক চিরকাল। তিনি এভাবে চলেছেন। গদ্যে পদ্যে সাবলীল নাটক রচনায় কৃত্বিতের সাক্ষর রেখেছেন। তিনি জেগে থাকা মানুষদেরই একজন, সেই তিনি সমাজ সচেতন বুদ্ধি বৃত্তির প্রতি প্রখর নজর, বিবেকের ডাকে আরও বেশি তৎপর ছিলেন। সমাজ সভ্যতায় স্থিরতা অস্থিরতা ঠাওর করে তিনি মানুষের মধ্যে সব মানুষের ভিড়ে মাথা উঁচু রেখেছেন। নিজস্ব শিল্পকর্মে সৃজনের মধ্যে থাকতে চেয়েছেন। বৈদগ্ধাই তার প্রমাণ
মানুষের প্রতি বিশ্বাস বোধ- সামাজিক সম্পর্ক তাঁর ইতিবাচক নিতত তাঁরা জীবনের অভিজ্ঞতা, নাননরকম চরম মুহূর্ত তাঁর জীবনে গেঁথে আছে বিভেদ বৈষম্যের বিরুদ্ধে তাঁর প্রতিবাদ দৃষ্টান্তমূলক আবার তাঁর বন্ধুবাৎসল্য শিক্ষামূলক। আর ছিলো বিরল পাণ্ডিত্য, ভাষার দখল আর উপস্থাপনের মুন্সীয়ানা।
নাম যশ খ্যাতি- পুরস্কার সব মিলেমিশে মনুষ্যত্বের বিচারে তিনি মানুষই রয়ে গেলেন। অভিনয় সত্ত্বা- কবি সত্ত্বা তথা তাঁর লেখক সত্ত্বায় আমরা বিষ্ময়ে বিমুগ্ধ; আজীবন সংগ্রামী- জীবন যোদ্ধা লড়াকু, লড়াই করেই টিকেছিলেন, সত্য বোধে পেশাতে অবিচল ছিলেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সমাজের চেহারাও পাল্টে যাচ্ছে, সবার সঙ্গে তাল মেলাতে চাননি। চারিদিকের অসহিষ্ণুতা আর উৎক্ষিপ্ত পরিবেশের মধ্যে তিনি নিজ কর্মে অবিচল ছিলেন। তিনি সত্যবোধে যে ভাষা ব্যক্ত করে গেছেন, কান পেতে শুনলে তাঁর অভিন্ন হৃদয় বন্ধুবর নির্মাল্য আচার্য্যর সঙ্গে "এক্ষণ" সাহিত্য পত্রিকা প্রকাশ ও সম্পাদনা করেছেন। বিভিন্ন লিটল ম্যাগাজিনেও তাঁর লেখা লক্ষগোচর হয়েছে। সৎসাহসী নির্ভীক এই মানুষটি অকপট অপ্রিয় সত্যকথা বলতে পারতেন। এই সমস্ত কাজের নিরিখে তিনি আজীবন মানুষের মুখোমুখি। তাঁর মতো মানুষের উপযুক্ত কাজের স্বীকৃতি তাঁকে মহীয়ান করে তুলেছে। অনেককিছু দিয়ে গেছেন এবং প্রজন্মের জন্য সবার জন্য রেখে গেছেন, সময়ই সে কথা বলবে।

1 মন্তব্যসমূহ
অপূর্ব বিশ্লেষণ 🙏
উত্তরমুছুন