পোস্ট বার দেখা হয়েছে
ঠিকানা
পূরব ব্যানার্জী
ঠিকানা আমার জানতে চেয়েছ,
গোলাপ ছাপানো খামে!
আমি ভবঘুরে আজও খুঁজে ফিরি,
ঠিকানার সন্ধানে।।
দূর্বল অসহায় নাগরিক স্বপ্ন দেখে,
প্রতিটি নির্ঘুম রাতে!
প্রত্যাশাতে হামাগুড়ি দিয়ে, থাকে-
চেয়ে সূর্যোদয়ের পথে।।
বেদনা ক্লিষ্ট লড়াইয়ের পথে খোঁজে,
ভরসার কোনো মুখ!
আসবে সুদিন এই ভরসায় যারা,
ভুলে থাকে যত দুখ।।
ভিটে মাটি সবই বেওয়ারিশ দলিল,
কোনোমতে মাথা গোঁজে !
অনুগ্রহের জীবন যাদের,আর-
প্রতিদিনের রুজিতে বাঁচে।।
যে শিশুটির কাল জন্ম হয়েছে,
আজ সে পরিনত।
সোহাগ আদর ভুলে, শৈশব বেচে -
বড় হয়ে ওঠে দ্রুত।।
ঠিকানা যখনই চেয়েছি লিখতে
প্রেমের কবিতা জুড়ে।
নিজেকে পেয়েছি সভ্য সমাজে
স্বার্থপর আর একঘরে।।
আভিজাত্যের ঠিকানা আমার
অস্পৃশ্য তাহাদের কাছে।
ঠিকানা গড়েছে সীমানা বন্ধু
পাথুরে মানবতার মাঝে।।
===
তুমি যেখানে আছ, সেখানেই থাকো
ফাতীমা কবীর
তুমি যেখানে আছো, সেখানেই থাকো,
একটু কাছেও না - একটু দূরেও না;
ওখান থেকেই তোমার মৃগনাভি সৌরভ -
আমার ইন্দ্রিয় ছুঁয়ে মস্তিষ্কের কোষে কোষে
মহুয়ার মাদকতায় বিবশ করে অবশেষে।
তুমি যেখানে আছো, ঠিক ওখান থেকেই
তোমার দৃষ্টির সম্পান আমার চোখের নদী বেয়ে
অতলান্ত হৃদয়ের অকুল সাগরে পাড়ি দেয়;
যদি তুমি আমার আরো কাছে আসো তবে-
প্রচন্ড ঝড়ের তান্ডবে সে তরী ডুবে যাবে।
ওখান থেকেই তোমার কন্ঠস্বর বাতাসে ছড়ায়,
আমার স্নায়ুর তারে তারে প্রণয়ের সুর বাজায়।
যদি তুমি আরো কাছে আনো তোমার অবস্থান,
সেই সুর হয়ে যাবে প্রতিবাদী মিছিলে শ্লোগান,
অতঃপর, ফায়ারিং, টিয়ার গ্যাস, টাইম বম্ব,
প্রচন্ড শব্দ তুলে চতুর্দিকে ঘটবে বিষ্ফোরণ!
অধরোষ্ঠের মেঘ ভেঙ্গে তুমি ফোটাও যে হাসি,
ওখান থেকেই তা'আমাকে আলো দেয় বেশী।
আরো কাছে এলে তোমার সে' হাসি বিদ্যুৎ হবে ;
সশব্দ বজ্রপাতে দুজনকেই পুড়িয়ে দেবে!
তাই, তুমি যেখানে রয়েছো সেখানেই থাকো,
এই দূরত্বে আমরা সবচেয়ে নিরাপদে আছি ;
দুজনার মাঝে আদি মধ্যাকর্ষণ শক্তি কাজ করে -
গ্রাসিত হইনা আর গ্রাসও করিনা কারোরে।
আহ্নিক গতি আর বার্ষিক গতির অবস্থানে
চিরদিন আমরা খুঁজে যাবো প্রণয়ের মানে।
তুমি বর্ষা আনবে আমাতে, ফসল ফলাবে আঘ্রানে;
আমি পুষ্প ফোটাবো তোমাতে, অবেলার এ বসন্তে।
====
জলসাঘর
দীপাঞ্জলি বিশ্বাস
জলসাঘর রঙিন থাকবে চিরদিন-
অমলিন অধ্যায়ের পাতায় পাতায় সঞ্চিত হয়ে চলেছে প্রতিটি আসরের জলছবি।
সন্ধ্যার আবেদন সন্ধ্যামালতীর বৃন্তে এঁকে দেয় ফিকে বেগুনি প্রাণের স্পন্দন!
ব্যস্ততার ধারাপাতে মিশে যায় ফুটে ওঠা ভাতের বাষ্প..
ছুটন্ত শরীরে দিনান্তে আবাস গড়ে ক্লান্তির পাতাঝুরি...
শিরদাঁড়ার যন্ত্রণা ছায়ার বেদী খুঁজলে বাঁকা দৃষ্টি ফেলে বটবৃক্ষের পাখি কাঠবিড়ালীরা!
চীৎকার করে ওঠে একদল কাক!
আবশ্যক পথ বাতলে দেয় পরিচিত আবহাওয়া-
শীতার্ত কোরকে মুখ লুকায় স্পর্ধা হারানো ভোরের টগরেরা।
চিরস্থায়ী রোদ জানান দেয় ঘন্টার কাঁটা আরও একবার ছুঁয়ে ফেললো পূর্ণবৃত্তের কানা।
এখুনি গড়াবে বেলা-
সকাল থেকে সন্ধ্যা..!
এক ঋতু থেকে অন্য ঋতু..!
শুধু পাতায় পাতায় ধরা থাকবে বর্ণিল আবেশ-
মুখরিত হবে অন্তহীন সুরধ্বনি-
চিরকালীন এই জলসাঘরের।
===
সত্যিকথা
মৌলি বণিক
কৃষ্ণপক্ষ অন্ধকারে মৃত্যুর নেশায় বুঁদ হয়ে আছি- সময়, আমি ও তুমি
মাটির স্বাদ নিয়েছ? ব্যথা চুইয়ে ঝরে ঝরে কেমন লবণাক্ত ভূমি?
বাতাসে ফিসফিসানি- আত্মহত্যার আগে যারা রেখে গিয়েছিল শেষ চিরকুট,
বুকফাটা গোঙানি তাদের চাপা দিতে প্রয়োজন ছিল কিছু ষড়যন্ত্র অটুট।
বিপ্লব সংগ্রাম এমন দু-একটা খেলনা চকমকিতে ঘুচে যাবে অন্ধকার?
সময় নিস্তরঙ্গ স্তব্ধ, দশ দিগন্ত জুড়ে নিকষ অন্ধকার প্রবাহ ধারা ঝর্ণার।
মনের ঘরে ছলচাতুরি করি আমি ও তুমি- গুমরে কাঁদাকে বলো স্বেচ্ছা নির্বাসন?
ভেজা স্যাঁতস্যাতে অহঙ্কার আদতে কি জ্বলে? করে দেখো সত্য অন্বেষণ।
মৃত্যুর মুখ ঢেকে দেয় প্রতিশ্রুতি ও সুচতুর বিজ্ঞাপন- সময় থেমে অসহায়
অন্ধকারের দেওয়ালে দেওয়ালে ঘুরে মরারোদ শীতল রশ্মি ছড়ায়।
জাগরণে ঘুম, ঘুমে জাগি আমি ও তুমি- কার্তিকের কুয়াশায় ভাসে চরাচর
তবু কৃষ্ণপক্ষ পেরোতে তো পৃথিবীর একপক্ষ, অপেক্ষারা থেকো শান্ত সরোবর।
আমি-তুমি স্পর্ধার আগুন ওমে এবার বুনবো ব্যতিক্রমী কিছু রূপকথা
অগ্নিতেজে গড়া ত্রিনয়ন- খুলে গেলে আগুন ঝরে- এ নিখাদ সত্যিকথা।
====
ইদানিং...
শহীদুল হক বাদল
মানুষরাও ইদানিং বেড়ে ওঠে...
ক্ষয়ে যাওয়া সব- মানুষের হাত ধরে।
পশুপাখি কিংবা বৃক্ষরাও ঠিক এভাবে নয়,
জন্ম থেকেই পুষ্ট হয় ওরা, আলো বাতাসের ডগায়- ইচ্ছেমতোই বেয়ে। নদীও ছুটে চলে তার, আপন খেয়ালের বশেই। শীতের পাখিরাও যায় বহুদুরে-
সভ্যতা ছূঁয়ে-ছূঁয়ে।
পতঙ্গেরাও মেতে ওঠে ফুলে- ভরা কৌতুহলে,
মানুষরাই কেবল অবাধ্য হতে চায় না কেউ-
কারোই সহজে। কতো না স্বপ্নও ভীড় করে এই-
পোঁড়া দূ'চোখের কোণে।
বস্তির দ্বারেও যখন ভাতের হাঁড়িই ফেণা-
টগবগ করে। জানালার শিক ধরে কষ্টরাও তখন,
শত হাহাকার তোলে। প্রতিবন্ধি এ সমাজ, আজও-
সেই শোষকের কলেই। প্রকৃতির সহজাত ধর্ম ছেড়ে,
এখন প্রজন্মরাও বেড়ে ওঠে ভিন্নতর বোধে।
জন্মে কাঁদে না মানুষ, তুচ্ছবোধ যদি কেউ তার-
না জাগায়ও মনে।
তারপরও পরিপক্ক হয় কেউ কেউ, মনন-মস্তিস্ক বা মনুষ্যত্বে। বন্ধ্যাত্বও গুঁছতে থাকে সেই তখন থেকেই- সমাজের, বড্ড নিরব ও নিঃশব্দে...!!!

0 মন্তব্যসমূহ