পোস্ট বার দেখা হয়েছে
আমি বৃক্ষ হতে চাই
সাবিত্রী সন্নিগ্রহী
হে কবি--আমি তোমার জন্য কবিতা লিখি।।
ভাবি-একদিন তুমি উদ্দাত্ত কন্ঠে-মোলায়েম সুরে বলিবে তাদের কথা--
যারা ঠায় রোদে বিছাইছে ছায়া,
বিলীন করেছে-রোদে পোড়া দগ্ধ মনের ব্যাথা।
কবিবর-তুমি কি ওদের বাসিবে ভালো?
ওরা বোবা-রোদে-জলে-শীতে অবিচল,
উন্নত শির-এক একটি সুউচ্চ বৃক্ষ।।
আমি বৃক্ষ দেবতার কাছে একটি বর চেয়েছি--
দিয়ো মোরে বৃক্ষ ক'রে-ছায়া দেবো, ফুল দেবো-
ক্ষুধায় দেবো ফল,
পাই যদি একটুকরো মাটি আর একবাটি জল।।
শোনো কবি-আমার প্রার্থনা - "বৃক্ষ দেবতা-আগামী জন্মে তুমি আমায় তোমার সাথে নিও-
তোমার মতো সুউচ্চ হতে চাই, তোমার পাশে একটু ঠাঁই দিয়ো।।
কেমন যেন মনে হয়----
মানব জীবনের স্থায়িত্ব সীমিত-সীমাহীন চাহিদায় জেরবার।
একটি শিশুর সুস্থতার জন্য অহরহ চলে সংগ্রাম, মারামারি-বাধা নেই রক্তপাতে।।
অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থান-শিক্ষা-স্বাস্থ্য--সব তো হোল,
সব থেকে ও রব ওঠে--নেই-নেই-দাও-দাও।।
আমি যখন ছোট ছিলাম তখনও,
আমার বাবা যখন স্কুলে যেতো তখনও,
আমার সন্তান যখন বড়ো হবে তখনও।।
ছোটবেলায় মা- কামিনী-গন্ধরাজ গাছের তলায় বসে আমার চুল বেঁধে দিতো,
সে কি গন্ধ--
স্নো-পাউডার ছিল না, ছিল না গন্ধ তেল।
চুলে ছোট্ট একটি বেলফুল গুঁজে দিতো-বলতো-দেখি তো মুখখানি-
কালোমেঘে একটুকরো রোদ।।
পার্লার ছাড়াই বিয়ে হয়ে গেল -কপালে একটু চন্দন -হাতে শাঁখা পলা-ফুলের বালা।।
ছোটবেলায় শপিংমল ছিল না-সপ্তাহে একদিন হাট বসতো, মাটির ভাঁড়ে খুচরো কটা পয়সা--চাল বাড়ন্ত,
সজনের-পুই-নটেপাতা
-ঝুরো ঝুরো কেটে -সেদ্ধ,
একফোঁটা কাঁচা সরষের তেল মেখে পান্তা খেতো- ধানকাটা কাকু।।
উপেন সরেন-আধকপালী মাথা ব্যাথায় -ঘানিমাড়া সরষের তেল কপালে মেখে হালকা রোদে শুয়ে থাকতো।।
মা তার পেটরোগা ছেলেটাকে নিয়ে খুঁজতো থানকুনি-চিরতা-হিঞ্চাপাতা-খাওয়াতো-পাতাথেতো রস আর মুড়িভেজা জল--
কম্পজ্বরে ঘেঁটুপাতা হাতে দ'লে গন্ধ শুকাতো।।
কোথায় হারিয়ে গেল সব!!
ফিরিয়ে আনবো আমি-
একটি বৃক্ষ হবো-তলায় থাকবে শিশু উদ্ভিদেরা।।
মানুষ হতে ভয় পাই-
একটি বৃক্ষ হতে চাই।
ঘুরে ঘুরে দেখেছি যে-
গহন-গভীর অরণ্যে- পথপার্শ্বে ফুলফোটা গাছগুলো দাউ দাউ করে জ্বলছে--বিজাতীয় আনন্দে নাচ চলছে--
দিগন্ত বিস্তৃত সমুদ্র কিনারে--গাড়ির চাকায় পিষ্ট হচ্ছে--শিশু ঝাউগুলো,
পাহাড়ে সবুজের খাঁজে খাঁজে আটকে আছে সুরাবোতল---
মানুষের অহংকার লুটিয়ে পড়ছে--উপহার দিয়ে এসেছে রঙ্-বেরঙের আবর্জনা।।
নাচানাচি-মাতামাতির পর--
অভুক্ত পেট পেয়েছে সুগন্ধি মটন্ বিরিয়ানি--
পড়ে থাকে তেজপাতা-লঙ্কা আর মাংসের হাড়।।
আমি মানুষ হতে চাইনা--
বৃক্ষ হতে চাই।
কচিকচি পাতা তুলে মা তার শিশুকে খাওয়াবে-
ছায়া দেবো-দা হাতে কচি বৌটা একটু শান্তি পাবে।
ফুল দেবো-বিয়ের কনে একটু সাজবে-
ফল দেবো-বুড়িমা শরীরে একটু বল পাবে।
বীজ দেবো-চারার সাথে শিশুরা বন্ধু পাতাবে।
সব চারা সূর্যের সাথে মিতালী পাতাতে পারবে না।---
তাতে কি?
কারোর পায়ের চাপে মারা যাবে, কেউ বা আগুনে পুড়িয়ে দেবে-
ফুল-মালা না পাওয়া শহীদ হতে তো বাধা নেই।।
বইতে হবে না -মানুষ হয়ে-না পাওয়ার ব্যাথা,
হতে হবে না--মানুষের অনাচারের সাক্ষী।।
কবি তুমি যত উচ্চস্বরে বলতে পারো বলো---
"আমি বৃক্ষ হতে চাই-
বৃক্ষসারি একটু রসো-
আর তো ক'টামাত্র নিঃশ্বাস
বেরিয়ে যাবে--
আমি পৌঁছে যাবো--
অরণ্য মাঝে--
ডালে ডালে ছুঁয়ে থাকবো-
ফুলে ফুলে বিয়ে দেবো-
ফলে ফলে দোল খাওয়াবো-
বীজে বীজে ভরিয়ে দেবো পৃথিবী।।
সবুজ-সবুজ-সবুজ--
কেবল সবুজ-
পৃথিবীতে কেবল আমরা--
আমরা বৃক্ষরাজি-
-গহন অরণ্য--আশ্রয়ে লতাপাতা-গুল্মরাজির নিশ্চিত বসবাস"।।
====
বিমূর্ত
আলমামুন সেখ
এরপরেও তো বুনোঝোপ মাথা নাড়বে
তোমার উদ্দাম নাচের ঘূর্ণিতে।
আরো একবার বাতাস উতলা,
কাঁপন উঠবেই ......সর্বাঙ্গ জুড়ে।
দুরন্ত এক মোচড় ; দেহভঙ্গিমার
মূর্ত ছন্দ----
ছেঁড়া তার নয় ,শরীরি বিদ্যুৎ
পতঙ্গের দল কামড়ে ধরে
অগ্নিভূক শরীর ,
তোমার হাতছানি -
খেলা শুরু বেজে ওঠে আহবানি গান।
তোমার তুষারহিম হাত!
বসন্ত দুয়ারে তুলে দেয় হিমেল দেওয়াল।
===
নিশিতো স্বপ্ন
কামনা ইসলাম
একফোঁটা অশ্রু গড়িয়ে এলো
বুকের পাঁজর থেকে,
মিশে গেলো অন্তরের অন্তস্তলে।
না পাওয়ার সুখে মরিচিকা হৃদয় পাথর এখন,
শুক্ন বেদনায় কাঁদে শুধু মন।
অনন্ত কাল চেয়ে থাকা মুহূর্ত গুলো বিষন্ন,
উদাসীনতাই গহীন আবরণে সুপ্ত।
নীরব বিক্ষোভ অন্তরে,,
আশার ঘরে বন্দী জীবন,
তব মন কেনো বিহীন এই আত্মা।
কি সেই সম্পর্ক?
স্পর্শ নেই, নেই মলিনতা!
শুধু আলোহীন রজনীর জনতা।
উৎবেগ আর উৎকণ্ঠা প্রাণ
গোপন হাসির মাধুর্য!
লুকিয়ে কল্পনায় আলপনা আঁকা।
সেই নিশিতো স্বপ্নের মহা মিলনে
ফুলের ছড়াছড়ি,
দুলিতে তবু পারিনি আজও
মরুভূমির বালু চরে চৈত্র হাওয়ায়।

0 মন্তব্যসমূহ