কবিতা | দে ব লী না




পোস্ট বার দেখা হয়েছে



তুমিময় 
দে ব লী না 


 পাঁচ আঙ্গুলের মুঠিতে জন্মকর,বদ্ধ।
 এরপর চিত্রপট বদলে গেলে আলো ক্রমশ ক্ষয়িষ্ণু হলে , যা কিছু স্পষ্ট ছিল হয় অবোধ্য !
 
রোজ যতই ভাবি অনিত্য জীবন থেকে ষড়রিপুর দ্বারা আবদ্ধ মুক্তদানা খুলে একটা একটা করে রাখবো তোমার নিরাকার চৈতন্যের কাছে, ততই আমি অনড় যতিচিহ্নের মতো দাঁড়িয়ে দেখি তোমার নিরাভরণ - নিরালঙ্কার রূপ।

অন্ধ মনের আলোয় চোখ রেখে খুঁজে পাই সেই আতশী আলোর ছটা। আলো শুধু আলো ছড়ানো , অথচ নাগাল চাইলেই দু’মুঠোয় উঠে আসে শুধু শূন্যতা। আমার কাছে এ শূন্যতা রিক্ততা নয় ! আসলে যেখানে আধার এত উদার,এত বিরাট সেখানে আধেয় অপাংক্তেয়।

 তবুও , এই শূন্যতার প্রতিটি স্তর পেরিয়ে যেতে যেতে  আমি টের পাই - প্রতিদিনের চেতনায় ,
ভাবনায় যেভাবে ধরা দাও তুমি - ফোটা ফুলের পাপড়িতে, শিশির ভেজা ঘাসে , মাটির সোঁদা গন্ধে , শিশুর কোমল হাসিতে , অনেক রাতে - কৌণিক ভোরে,  আযানের সুরে !
এমনকি বারুদের বিস্ফোরণে , অপুষ্টিতে , রক্তাক্ত মিছিলে, শ্রমিকের ঘামে , অভিমানে - কষ্টে , অসুন্দরে।
 
তোমার এই ব্যাপ্তি তোমাকেই ছাপিয়ে আমাকে ব্যাপ্ত করে। তখন মুখোমুখি হই শুধু তুমি আর আমি! 
আমাদের আবাস তখন এক আত্মা এক প্রাণে 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

4 মন্তব্যসমূহ


  1. মুক্তোর দানার মত ষড়রিপু খুলে নিরাকার ব্রহ্ম সামনে চাইলেও রাখতে পারিনা
    অসামান্য লেখা

    উত্তরমুছুন
  2. অসাধারণ শেষ করলে। পুরো কবিতাটাই মনে দাগ কাটার মত। সত্যি খুব প্রশংসনীয় লেখা ।

    উত্তরমুছুন