স্মরণে | কবি পায়েল খাঁড়া




পোস্ট বার দেখা হয়েছে



মৃত্যু মানেই চলে যাওয়া নয়। সৃষ্টি থেকে যায় আজীবন এভাবেই। আমরা শ্রদ্ধা জানাই সেই কলমকে আজও - কবি পায়েল খাঁড়া । শ্রদ্ধা ও স্মরণে প্রকাশিত হলো বিশেষ পাতা 

অদ-ভুত

মামদো ভূতের হুমদো ছানা গান গায় গলা ছেড়ে
তাই না শুনে দাঁত খিঁচিয়ে পেত্নী এল তেড়ে।
বলল, "ওরে মামদোর পো থাম রে এবার থাম,
তোর গানের চোটে সব তেনাদের ছুটছে গলদ ঘাম।
রাত বিরেতে করিস নে আর অমন লম্ফ ঝম্ফ
ঝাঁঝরা হওয়া পাঁজরা গুলোয় উঠছে যে হৃদকম্প।
একবার মরে পেত্নী হলুম, মারতে কি চাস ফের
গলা তো নয় , গোলার ঘায়ে করছে যেন ঢের।
বংশ দোষে মেছো ভূতটার প্রেসার সদাই চড়া
এবার দেখছি বাড়িয়ে দিবি রক্তেরও শর্করা।
শাকচুন্নিটা ভোজনরসিক, বৈ নেই কো বালাই
তার মুখেতেও ঘুচল রুচি, করছে পালাই পালাই।
স্কন্ধকাটার বাতের ব্যামো, ফি বছরই ভোগে
ব্রম্হদত‍্যি নিত্য কাহিল পেটের গোলযোগে।
গান শুনে তোর দুই জনার ই চমকে গেছে পিলে
রাম নামটাই মুখে নিতে বাকি ,ঢোক গিলে।
তাই বলছি, এই বেলাতেই ভালোয় ভালোয় শোন কান ফাটিয়ে জ্বালাস নে কো পটল তোলা জীবন ভুত কেত্তন ছেড়ে বাপু কর গে কাজের কাজ টুঁটি টিপে দেবই আর বেরুলে গলার আওয়াজ।
====
চতুষ্কোন

আঁকিবুকি কেটে যায় স্মৃতি,
ড্রয়ারের কোনঠাসা জটিল জ্যামিতি।

ঘাসের বুকে বরাদ্দ শিশির,
বিকেল ঠিকানা জানে—আধপোড়া অভিমানে
ডায়েরির ভাঁজে কত অসমাপ্ত চিঠির।

বারুদটা জ্বলে ওঠে—
আগুনের নীল স্বাদ দেশলাইয়ের ঠোঁটে।

কি লিখতে চেয়েছি—আঙুল কি লেখাচ্ছে হায়!
ট্রাফিকেরা বাঁধাধরা,তবু খুঁজি মনগড়া
নাটোরের বনলতা আজও কি শান্তি বিলায়?

শহরের বুকচেরা ফুটপাত,
প্রশ্রয় চেয়ে শুধু পেয়ে গেছি অজুহাত।

সাধ করে বেছেছিলাম এক্কা ইস্কাবন!
মাপ পরিমাপে ভুল—আপেক্ষিত ভন্ডুল, 
জীবন গণিতে দেখি ঝাপসা চতুষ্কোন।

===
একটা অন্যরকম কবিতা

তুলে রাখা থাক,অল্প ফারাক
বন্ধ ডায়েরি আর ধুলো জমা তাক।
তুমি আমি সেই,ফেরার হলেই
দেওয়াল পেরিয়ে ওই শহর ফুরাক।
এভাবেই মিশে যায় নামের সাথে নাম অকারণ
আর হঠাৎ ভেজাতে এলে বৃষ্টির আশকারা, বলতে বারণ।
তাই এক কাপ চায়ে আমাদের একজোড়া ঠোঁট
উষ্ণ উষ্ণ কিছু গল্প জমাক।
তুমি ঢেউ,
নোনতা ঝিনুক বুকে বিছিয়ে পড়েছ কোন তটে
আমার বালির গড় ভেঙে গেছে বরাবর
তোমার ফিরতি টানে, ও তো হামেশাই ঘটে।
আমার কাছিম প্রেম তবুও গোলাপী রঙা....ভীষণ অনড়
তোমার মাস্তুলে বদলালে হাওয়া তবেই ছাড়বে বন্দর।
অতএব টুকটাক খুনসুটি আর কিছু মাখো মাখো স্বাদে
মনের ফানুসগুলো আকাশের ঘেরাটোপ ছুঁয়ে যাক।
                        অঙ্কন : লাবনী সরকার 

লোমকূপ

কিছু লোমকূপ নীরবতা পড়তে শিখে নেয়
হাজারের ভিড়েও তারা___একা!
নিয়মিত রোজনামচাগুলো তাদের গল্প বলে না
সাধারনের মাঝে তারা মিশে থাকে সাদামাটা ভাবেই
পরিচিত রাস্তাগুলো যেখানে গিয়ে থমকে দাঁড়ায়
সেখান থেকেই তাদের চলার শুরু
খোঁজার শুরু--একটা অন্য পৃথিবী
যেখানে কথোপকনে শব্দ লাগে না
লাগে মন
আর, কিছু অনুভূতি প্রবণ লোমকূপ।
====
চালচিত্র

সরিয়ে নাও তোমার অসংলগ্ন প্রেমের নৈবেদ্য

নাহ,সিঁদুর স্বীকৃতির সামাজিকতায় মরিয়া নই আমি কস্মিনকালেও

তবুও পুরুষ, তোমার সুখ সৌপ্তিকের উপকরণ হতে পারব না আমি।

আমি তো নিকোটিন নই,
সুদৃশ্য কাগজের মোড়কে তোমার ঝাঁঝালো সুখটানের রসদ;
নই সাতমহলার নীল পাঁজরে সাজিয়ে রাখা বেলোয়ারী ঝাড়,

কাঁচের ফুলদানী;তোমার সৌখীন রুচির চিহ্নস্বরূপ আমার অস্তিত্বের বর্ণপ্রকরণ।

কখন করেছ আমায় কলঙ্কিনী রাধা,কখনও মোনালিসা,বনলতা—
টেনেছ কাছে সোহাগ সুখের অন্তরঙ্গতায়

যাবতিয়ে দিয়েছ তোমার কামনাদগ্ধ ক্ষত,
আর পেরলেই তোমার নির্ধারিত চৌহদ্দীর মাপকাঠি আমি নাকি বেশ্যা,গৃহকোণের কৌণিক পর্যালোচনায়।

ভব্য সমাজের উন্মুক্ত সড়কে চালাও আমার শরীরি প্রদর্শন অবাক চোখে দেখেছি তখন,

কত নিখুঁত প্রচ্ছদে শানিয়ে ওঠে তোমার দ্বৈতবাদের বহুরূপতা।

এই যদি হয় তোমার প্রেম তবে ধিক্কার জানাই তাকে নির্দ্বিধায় নাহ, এ নয় আমার অহমের দৌরাত্ব্য__জটিল স্ত্রিয়াচরিত্র!

এ আমার জন্মলব্ধ বিধিলব্ধ অধিকার;

নারীত্বের ঊর্ধে আমি যে মানুষ—

যদি খন্ডাতে চাও এ সত্য পৌরুষের পদাধিকারে,
যদি আমার উজাড় করা স্নেহ প্রেম ত্যাগকে ধরে নিতে চাও তোমার পৈতৃক সম্পত্তি,

যে উপভোগ্য ধারাবাহিক প্রয়োজনানুসারে
যদি ভাবতে চাও, আমার শরীর মন চেতনা তোমার ঐকান্তিক আয়েশের উপকরন

সখ পুরালেই পাপোষের মত মাড়ানো যায় অকাতরে।
আর অবশেষে তুলে নিয়ম বিধানের দোহাই; শুধু পদক্ষেপ নয়

আমার স্নায়বিক স্বত্বাটাকেও দাফনাতে চাও তোমার স্বার্থ গঠিত অচলায়তনে—

তবে বলব, শুধু পুরুষই হয়েছ__মানুষ হতে পারো নি একরত্তিও।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

3 মন্তব্যসমূহ