পোস্ট বার দেখা হয়েছে
রিভলিউশন
মহিন
রিভলিউশন !
আদ্যপান্ত চেটে খাওয়া এক গল্পের মতো সুন্দর , আমরা বোকারা বলি , বিপ্লব !
রিভলিউশন !
একদল মেহনতি মানুষ , হাঁটতে হাঁটতে মিছিল করে ,
এক প্রদেশ থেকে আর এক প্রদেশ ,
ফাটা পায়ে গোনা যায় , দেশের প্রতিটি অঙ্গরাজ্য,
রাজপথ বদলে হয় ডেথ স্ট্রিট ,
হাসতে হাসতে আমরাও তাদের কে বলি পরিযায়ীর দল !
রিভলিউশন !
সন্ধ্যের পর , মিছিলমুখো , খাদ্য বস্ত্রের চাহিদা
সস্তায় গোলামী ! ঝান্ডায় মোছা হয় সমাজতন্ত্রের রঙ ,
পাড়ার মোড়ে কংকালসার কিছু উলঙ্গ শিশুর দল,
কখনো বাসর রাত , ঠিকানা কুকুরের বিছানায়
রিভলিউশন !
ঘুমহীন স্বপ্নে , আকাশে ভেসে বেড়ায় ভাতের গন্ধ,
ফুটপাতে টাঙানো ছেঁড়া মশারি ,
পোস্টারে ছেয়ে যায় কিছু অভুক্তের রক্ত ,
রিভলিউশন !
খিদের পেটে , বিরোধী মিছিলে শোনা যায় মুক্তির স্লোগান ,
দেওয়াল জুড়ে লাল কালিতে , লেখা হয় স্তব্দ ইতিহাস,
ব্রিজের নীচে , রক্তের নদীতে , গোনা হয় হাজারো মানুষের লাশ ,
রিভলিউশন !
তাইতো এখনো ঘোষনা হয়নি ,
শাষকের কালো হাত ভেঙে দাও ,
গুঁড়িয়ে দাও ,
রিভলিউশন হয়তো আসছে !
====
আমাকে নিয়ে চলো
অজয় বিশ্বাস
আমাকে নিয়ে চলো মেঘ মদির আলো - ছায়ার মাঝে সবুজের সমারহে ।
যেখানে হিংস্র - শ্বাপদসংকুলতার মধ্যেও নিশ্চিন্তায় হরিণ বিচরণ করে ।
কচি সবুজ, গাঢ় সবুজ গালিচায় সকলে হিংসা ভুলে বাস্তুসংরক্ষণ মেনে চলে।
আধুনিকতা, চরম আধুনিকতা, উগ্র সামাজিকতায়, শিথিল হয়ে যাওয়া মানব বন্ধনের মাঝে আমাকে থাকতে বলো না ।
এখনে সন্ধ্যার অন্ধকারে জেগে ওঠে আদিম প্রবৃত্তি ।
ডিম লাইটের মায়াবী আলোয় ধরা পড়ে জীবন্ত প্রতিচ্ছবি_______
নীল মদের গ্লাসে, অহেতুক হৈ হুল্লোড়ে, বেহুশ অচৈতন্য শরীরের নগ্ন খেলায়, আপসহীন অধিকারে ।
আমাকে নিয়ে চলো সহজ, সরল প্রকৃতির কোলে_______
যেখানে এক আকাশ ভালোবাসা, এক আকাশ শান্তি, এক আকাশ দুঃখ মানবিকতা ও আত্মসচেতনতা পাশাপাশি হাতে হাত রেখে চলে ।
====
খেজুর কাঁটা
সুশান্ত সিংহ
"অর্ডার অর্ডার"- কাঠের হাতুড়ির তাল ঠুকে ভরা এজলাস নিস্তব্ধ করলেন জজ সাহেব।
বাদী পক্ষের দুঁদে উকিল সহদেব স্যান্যাল উঠে দাঁড়িয়ে বললেন, আমরা অপরাধীর এই নৃশংস খুনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
জজ সাহেব গম্ভীর গলায় বললেন- সমস্ত প্রমাণ এবং অভিযুক্তের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে ফুলমণি মুর্মূ ওরফে চামেলীকে প্রফুল্ল মাঢ়াণ ওরফে লাচনকে হত্যা করার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হলো। ফুলমণি, আপনার যদি কিছু বলার থাকে তা অকপটে বলতে পারেন...।
কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে ফুলমণি জজসাহেবকে বললো যে সে উকিল বাবুকে একটি প্রশ্ন করতে চান,,, জজসাহেব অনুমতি দিলেন। উকিল সহদেব বাবুর চোখে চোখ রেখে ফুলমণি আড়ম্ভ করলো,- " উকিল বাবু, একুশ বছর আগের কথা,.. এই লাচন আমাকে বিহা করবার লেগে ঘুরঘুর কইরত, একদিন গুদামঘরে একলা পেইয়ে ও হামার ইজ্জত লিলো। ঝিমলিকে প্যাটে ধইরলাম, উ হামাকে বিহা কইরলেক লাই...। একুশ বছরের ঝিমলির ডাগরপানা গতরের উপর লজর পইরলো শয়তানটোর,, উয়ার ইজ্জত লিতে গ্যালো... হামি জানতোম ঈরকম কিছু হবেক.. তাই চুলের ভাঁইজ্যে বিষ মাখানো খেজুর কাঁটা রাইখ্যে দিতোম।
পেরথমে উয়ার চোখে ঐ কাঁটা ঢুকাইঞ দিলাম, তারপর গুদাম ঘরে রাখা তীরপুন দিয়ে খুঁচায়ে খুঁচায়ে...। "
পিন-পড়া নিস্তব্ধতায় সকলে শুনছে ফুলমণি কথা...
-"আচ্ছা উকিল বাবু, আজ যদি তোর মেঈয়াটোর সাথে ইরকমটা হোতো, আর তোর বউ যদি এমনি খুন কইরতো তাহলে তুই কার শাস্তি চাইতিস ??
কী রে উকিল বাবু বল কেনে, কার হোইয়ে লইড়তিস?? "
অঙ্কন লা ব নী
ফসিল
চন্দন মাজী
সাপের মত পড়ে আছি শীত ঘুমে,
দিনরাত চার দেয়ালের মাঝখানে বেডরুমে।
ফসিল হয়ে যাচ্ছি নাতো, ধীরে ধীরে।
নিজেকে অবরুদ্ধ করে, এভাবে দীর্ঘসময় ধরে।
আর কি উড়ান ভরব কখনো,
নীলনদ ধরে ভূমধ্যসাগরের ওপারে।
নয়তো পাখির মত ডানা মেলে,
ব্যস্ত ঝলমলে কোলাহলপূর্ণ শহরের রাজপথে।
বিবর্ণ দিনগুলো বইছে,বিছানায় রাতজেগে,
নয়তো হতাশা মাখা চোখেমুখে, শূন্যে তাকিয়ে,
ব্যালকনির ঐ কণ্টকাবৃত কেদারাতে।
বৃদ্ধের মত অপেক্ষারত,পরপারের যাত্রী সেজে।
সামনের বটগাছটিও আমায় দেখে,
আর মনে হয় মুচকি হাসে।
সে জানে অবরূদ্ধ জীবনের মানে।
জীর্ণ ফোকলা ডাল দিয়েছে ছেড়ে, থাকতে সুখে।
পাখি,মৌমাছি,কাঠবিড়ালিদের কোলাহলে,
মুখরিত হয়ে,দিন কাটে মৃত্যুর প্রতিক্ষা ভুলে।
রূদ্ধতাতে জীবনের ছন্দ খুঁজে নিয়েছে সে।
কালো চোওড়া পিচ রাস্তাটা,
সরীসৃপের মত শুয়ে রয় দিনে ও রাতে।
ব্যস্ততার ছিটেফোটাও নেই তাতে।
মাঝেমাঝে নড়ে ওঠে,
দুচারখানা নিত্যপ্রয়োজনীয় ভারী লরীর শব্দেতে।
জানান দেয় বেঁচে আছে, তবে অর্ধমৃত হয়ে গেছে।
সীমান্তে যুদ্ধটা কাঁটার মত গলায় আটকে আছে,
ভেতরে ভাইরাস টা পোড়াচ্ছে সভ্যতাকে
একটু একটু করে ।
বুক থেকে খুবলে নিচ্ছে ফুসফুস লিভারকে।
মনে হয় ভাইরাস ড্রাগন গোপন সন্ধি করেছে,
অন্ধকারের মহান সম্রাট কিলবিশের সাথে।
নিশ্চিহ্ন করতে শুভবুদ্ধিকে পৃথিবী হতে।
এক যুগ পরে ফসিল হয়ে জানানদেবো অস্তিত্বকে।


0 মন্তব্যসমূহ