বর্ষা তোমাকে | নীলাঞ্জনা ভৌমিক




পোস্ট বার দেখা হয়েছে


বর্ষা তোমাকে

আবার সেই রোদঝলমল দিন
বেশ তো তুমি বাজাচ্ছিলে ,  
ধূসর আকাশে বৃষ্টি ঝরা বিন!
টুপ টাপ,ঝরঝর বা একটানা,
সবুজ পাতায় ভরা শাখাগুলোর 
ভয় যে তাদের তখন ছিল না জানা।
অগ্নিদগ্ধ প্রাণে মিলেছিল,
একটু শান্তির অবকাশ
অমৃত সুধাও ঝরেছিল।
বিরহীনির উদাসী কণ্ঠে,
ভেসেছিল বাউলের সুর
ঝিরিঝিরি মাতাল বরিষণে।
মেঘেরা পারি দিয়েছিল কোন্ 
নাম না জানা অচিনপুরের দেশে,
পথিকও দাঁড়িয়েছিল বটচ্ছায়ে কিছুক্ষণ।
সবুজ আর সবুজের মেলা,
বৃষ্টিস্নাত পাখির চোখেও যে
 নানা বর্ণের খুশির খেলা।
ধন-মান-যশ-রূপ, সময়ের স্রোতে,
কালের সাথে সবই যায় ভেসে।
তবু তোমাকে করি আহ্বান ,
'হে ক্ষণিকের অতিথি এসেছো যখন
রইলে না হয় আরো কিছুক্ষণ !
মাতৃস্বরূপা তুমি প্রকৃতি ও প্রাণের,
বীজ থেকে জন্ম নেবার আশে-
চায় যে মাটির ভিজে আস্বাদনের।
বর্ষার রূপ স্নিগ্ধ সমধুর অতি                              
প্রভাত রবির আলোর চ্ছ্বটাতে--
পূর্ণতা পায় একথাও যে সত্যি।
তবু যখন মধ্যগগন উঠল জ্বলে রবির তেজে
ঝরঝরিয়ে পড়ল ঘর্ম দারুণ দহন দিনে
তৃষিত প্রাণ তখন বারিধারাই খোঁজে।
' আরো একটু বোসো আমার পাশে --
মরি যে আমি ওই দহনরূপের ত্রাসে ,
সিক্ত হতে আমি চাই যে তোমার প্রেমে,
ধরা দিতে চাই যে তোমার বাহুবন্ধনে।'

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ