পোস্ট বার দেখা হয়েছে
লাল পাণি দিয়ে...
তখন ওই এইট কি নাইন! অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর পাঠ্যবইয়ে 'লিচুচোর', ফাইভে 'হিন্দু-মুসলমান' আর ওই পাড়ার ফাংশানে দু-একখানা গান ছাড়া তেমন আলাপ পরিচয় হয়নি তাঁর সাথে। এমন সময়ে আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় প্রথম পুরষ্কার 'সঞ্চিতা', ছাত্র-যুব উৎসবে। ব্যস সেই শুরু।
এর আগে বহুবার ওই অর্ধনীমিলিত চোখের বংশীবাদক'কে অনেকবার দেখেছি, ফুল-মালা দিয়েছি তাঁর ছবিতে তবে কিনা এমন জ্যান্ত অনুভূতি সঞ্চিতা পড়া'র আগে হয়নি। চুরুলিয়া'র দুখু মিঞা'র তাবৎ দুঃখ তাঁর 'বিষে'র বাঁশি' বেয়ে ঝঙ্কার তুলে দিলো আমার প্রথম কৈশোরের অবাক 'অগ্নিবীণা'র তারে! গভীর অনুরণন উঠলো। সন্ধেবেলা'য় পড়তে বসে তখন পাশের বাড়ি'র ছেলে'র গলা সাধা কানে মধু ঝরাচ্ছে
'মোর প্রিয়া হবে এসো রাণী
দেবো খোঁপায় তারা'র ফুল। 'একটু প্রেম প্রেম মনে হচ্ছে বইকি! পথচলতি কৃষ্ণচুড়া'র নীচে 'আমি অর্ফিয়াসের বাঁশরী ' না হোক কলি'র কেষ্ট চোখে পড়ছে! চেতনায় উঁকি দিচ্ছে অর্ফিয়াস, সে এক ভীষণ অনুভূতি। আহা!
'আমি চিরতরে দূরে চলে যাবো ' তখন আপামর বাঙালি'র ব্রেকাপে'র সিগনেচার সং। অনুভবে ধরা দিয়েছিলেন এভাবেই।
স্কুলের উঁচু ক্লাসে, কলেজে পড়ার সময় দুটি লাইন মাথায় রাত্রিদিন কিলবিল করতো
'আমি ধৃষ্ট, আমি দাঁত দিয়ে ছিঁড়ি বিশ্বমায়ের অঞ্চল '
বিশ্বমায়ের অঞ্চল ছিঁড়তে পারিনি, মাঝখান থেকে নিজের অনুভূতি'র এক অন্য আলো'র মায়াজাল অনুভুতির ইথারে লেগে ছিঁড়ে যে সবুজ সকাল ফুটে উঠেছিল চেতনায় তার নীলাকাশে ডগডগে সূর্যটা'কে দেখে আবার সেই পুরনো বাঁশিওয়ালার ডাক আজও ভেসে আসে স্লিপিং পিলের মোড়ক ছেঁড়া রাতে।
আজ যখন হলদেটে আলোয় বসে নিজের জীবনের জীর্ণ ডায়েরি'র ভাঁজ উল্টে দেখি মাঝে মাঝে, পেজ-মার্কার হিসেবে চোখে পড়ে দু-একটা শুকনো গোলাপ বা করবী'র পাতা...
একটা গান বড়ো গুনগুন করে কে যেন...
"যেদিন লব বিদায় ধরা ছাড়ি দিয়ে
ধুয়ো লাশ আমার লাল পাণি দিয়ে..."

1 মন্তব্যসমূহ
স্লিপিংপিলের মড়োক ছেঁড়ার আগে ,মোর প্রেম হয়ে এসো অন্তরা
উত্তরমুছুনঅসামান্য অসামান্য অসামান্য