পিন পোস্ট ফলাফল ২৫ শে বৈশাখ




পোস্ট বার দেখা হয়েছে

প্রথম স্থান 

ঠাকুর  আমার , রবি  বাবু 
       অঞ্জনা চক্রবর্তী 

শৈশবে , যখন  অতি  শাসনে  চার  দেওয়ালে, 
একমাত্র  আপন , আমার  রবীন্দ্রনাথ , গীতবিতানে |
অথবা  সঞ্চয়িতা  আঁকড়ে  ধরে  'বীর পুরুষ ' 
 মাকে নিয়ে পাড়ি   দিতাম  সেই  অনেক  দূরে ----
সেখানে  হা  রে  রে  রে রে , এলো  যেন  কারা  তেড়ে 
ভয়ানক  লড়াই  করে  রক্ষা জননী কে, রাজপুত্তুর সাজে | 
অথবা  লুকোচুরিতে  টুপ্  করে  পড়তাম  মায়ের  কোলে |
সন্ধ্যেবেলায়  রেওয়াজ  করার  ছলে  
হারমোনিয়ামে  'নিবিড়  ঘন  আঁধারে '
মনে  পরে  আজও  রেলওয়ে  ইনস্টিটিউটে  
এ  গান  গেয়ে  কাঁদিয়াছিলাম  দর্শক কে |
ঋতু  রঙ্গ , শ্যামা , চিত্রাঙ্গদা  নাচ  করেছি  কত 
রবি  ঠাকুর  কে  সঙ্গে  করে, ঋতুর  আবর্তে |

বিয়ের পরও  রবি  বাবু , থাকলেন  আমার  সাথে |
যেমন  করে  কাদম্বিনী  পেতে  চেয়েছিলেন  ঠাকুরপো কে, নন্দন কাননে |
যখন  শয্যায়  একা , এপাশ  ওপাশ , 
আঙুলের  স্পর্শে পুরুষের  উক্তি'  পরে  'নারীর  উক্তি'তে  আমার  নিবাস |/
'হঠাৎ দেখা ' রেলগাড়ির  কামরায় 
আমার  একাকিত্বে আলাপ  পরিচয় |
নির্জরের  স্বপ্নভঙ্গ  সে  হবার  নয় ;
রবির প্রতিনিয়ত  উদয় |

শেষের  কবিতায়  বা  রক্তকরবী   কথা  মালায়  আজও  মন  হারিয়ে  যায় |
প্রতিটি  অঙ্গে , প্রতিটি  ধাপে, প্রতি পদক্ষেপে 
 রবি  ঠাকুর আমার  গায়ে  যেন  লেপ্টে 
  ইনিই   ঈশ্বর , ইনিই  ধর্ম আমার প্রাণের  কথা  কওয়াতে |

---------------------------------------------------------------

দ্বিতীয় স্থান 

প্রতিদিনের ভাবনায় কর্মে যাপনে কবি গুরু রবীন্দ্র নাথ ঠাকুরের প্রভাব
————
অলিপা পাল

বাংলার সংস্কৃতির রূপকার,বাঙালীর পথিকৃৎ রবি ঠাকুর ৷তাঁর লেখায় এত বৈচিত্র্য ,নানানদিক,পৃথিবীর খুব কম শিল্প-সৃষ্টির মধ্যে আছে ৷বাংলার মাটি সহ বাঙালী ধন্য তাঁর আবির্ভাবে ৷
এমন ঈশ্বর জন্মেছিলেন বলেই বাংলা সাহিত্যের পাত্র ফুলে সাজানো ৷ আমাদের অস্তিত্বে,অনুভবে,ভাবনায়
রুচি,কর্ম,যাপনে তিনি শ্বাস কার্যের প্রাণবায়ু ৷দেড়শো বছররের বেশি সময় অতিবাহিত করেও আমাদের বোধে,চেতনায় তিনি উজ্জ্বল নক্ষত্র৷ তিনি না থাকলে বাংলা ভাষা সাহিত্য মধ্য যুগে পড়ে থাকতো ৷তাঁর শিল্পের রুচির মধ্য দিয়ে গভীর অনুভূতির রেখা ফুটে উঠেছে,যেখানে আমরা খুঁজে পেয়েছি চিন্তা চর্চার উর্বর পলি৷ তাঁর লেখার মধ্য দিয়েই আমাদের পথ খোঁজা সাহিত্যে নিবিড় ভাবে ডুবে যাওয়া ৷
তার লেখায় প্রেম,আবেগ,সংগ্রামের শৈল্পিক চেতনা জেগে উঠেছে ,তাই আমরা আনন্দে, শোকে, সংকটে, নির্ভরতায়, সান্ত্বনায় হাতে তুলে নিয়েছি তাঁর লেখা কবিতা গল্প নাটক ইত্যাদি ৷অন্যায়,অসাম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ফুটে উঠেছে তাঁর কলমে, অনুভব করেছি তাঁর লেখায় অসাম্প্রদায়িক,মানবতাবাদী সংস্কৃতির বিকাশ ঘটেছে,যা পাঠককে প্রভাবিত করেছে;
দেশ মাতৃকাকে শৃঙ্খল মুক্ত করতে তাঁর লেখায় শিহরণ জেগেছে আবালবৃদ্ধবনিতার ৷

 শক্তির উৎস হয়ে অনুভবে,চেতনায় আমি প্রাত্যহিক জীবনে প্রেরণা পেয়েছি তাঁর প্রতিটা লেখার মধ্য 
দিয়ে ৷স্কুল,কলেজের গণ্ডী পেরিয়ে, শিক্ষকতা জীবিকাতেও, তাঁরই লেখা জাতীয় সঙ্গীত আমার প্রাত্যহিক জীবনের অঙ্গ ৷
তাঁর গান,কবিতা কে আধুনিক করার যে বিবর্তন,যে টানাপোড়েন, তাতে আমি ব্যক্তিগত ভাবে উদ্বিগ্ন ৷রবীন্দ্র সঙ্গীতের সাথে পাশ্চাত্য সুর মিশে যে গান তৈরী হচ্ছে আমার কাছে অশ্লীল ৷
তবে সব পরীক্ষা বিফল হয় না ৷ কিছু প্রচেষ্টা তাঁকে আরও প্রাসঙ্গিক করে তুলেছে এবং তুলবে৷সংবাদ পত্রে পড়েছিলাম,সংশোধনাগারের বন্দি দাগি অপরাধীরা "বাল্মিকী প্রতিভা" করে আশ্চর্য জনক ভাবে অনেকেই বদলে গেছেন এবং মূল স্রোতে ফিরেছেন ৷

"আজি হতে শতবর্ষ পরে
কে তুমি পড়িছ বসি আমার কবিতাখানি
কৌতূহলভরে--" 

বংশ পরম্পরায় তাঁর লেখা আমার কাছে প্রাসঙ্গিক ৷তিনি থাকবেন অনন্ত কাল আমাদের চিন্তায়,চেতনায়, ভাবনায় সর্বদা ভাস্বর ৷

----------------------------------------------------------------

তৃতীয় স্থান

কবিতা -তুমি রবে নীরবে
মালা সেন দে


রবি কবি তুমি আমার কলমের প্রেরণা ,
কেমন করে বর্ণনা করি তোমার রচনা l
তপ্ত বোশেখে দখিনা বাতাস সম এই ধরাতে ,
মহীরুহ হয়ে শীতল পরশ দিলে তৃষিত প্রাণেতে l

কবিগুরু তুমি আমার প্রিয় কবি ,গানেতে , কবিতায় তোমরই আঁকি ছবি । 
তুমি আমার সাধনার তপোবন , 
তুমি চির কিশোর দুরন্ত যৌবন l 
তুমি আমার পূর্ণিমা রাতে জ্যোত্স্না ,
অগুনিতো তারার মতো অনুপ্রেরণা l
তুমি আমার ঘুম ভাঙার গান ,
দুখ জাগানিয়া  রাতে শোনাও তোমার গান l
আমার হৃদয়ে তুমি রাখাল রাজার বীন ,
শত দুঃখের মাঝে জাগিয়াছ হয়ে  নবীন l
তুমি গোধূলি গগনে  গাও  বিরহের গান ,
তোমাতেই মিশে আছে মোর কবিতার সাধন ভজন

শতবর্ষ আগে করেছিলে যে শব্দ চয়ন ,
আজ শতবর্ষ পরে তোমারই সৃষ্টিকে করি স্মরণ l
তোমার চেতনার রঙে আঁকি আলপনা ,
সুখের মাঝে তোমারই সুরের মূর্ছনা l
তোমার সৃষ্টি মাঝে কাটে সারা দিনমান ,
জীবন মাঝে হে ঠাকুর ,তুমি কাব্যের ভগবান l

বাঙালির মনে রাগে অনুরাগে তোমার দীপ অনির্বাণ ,
কেমন করে ভুলব এই বৃহৎ দান l
ভরা শ্রাবণে বিদায় দহন জাগে  মনে ,
তবু কালের পর কাল "তুমি রবে নীরবে "॥

----------------------------------------------------------------

চতুর্থ স্থান 

তোমার অবিচ্ছেদ্য উপস্হিতি
              মনোজ কুমার রথ


আরো একটা পঁচিশে বৈশাখ,
দিনটা শুধুমাত্র তোমারই-   
           নির্ভেজাল তোমার জন্য;
জানি আরো একটা দিন আছে 
তোমার মালিকানায়,
না মনে করতে চাই না এই মূহুর্তে-
বোধনের আগেই চাই না বিসর্জন,
বড্ড কষ্ট হয় !
কালবোশেখী জানান দিচ্ছে তোমার আগমনবার্তা,
কৃষ্ণচুড়া বলছে প্রেমের রঙে রাঙিয়ে দিতে
তুমি ঠিক আসছো,
সংকটাপন্ন সময়ে ঝড়ের মতো 
তোমার আসার পূর্বাভাস,
ক্ষনস্হায়ী নয়-
চিরস্হায়ী সমীরণ সাহিত্য-অঙ্গনে,
              উজ্জ্বল ধ্রুবতারা অসীম আকাশে ;
তোমার আলোকে আলোকিত জগৎ,
আজোও পরিচয় প্রদানকারী 
                কোটি কোটি ভারতবাসীর-
                পরশমনি-   প্রতিভা সর্বমুখী !

অমলতাসের ছোঁয়ায় তুমি "অমল"-
                     তুমি গুরুদেব-  বিশ্বকবি,
                      দেবেন্দ্র-সারদা নন্দন; 
তোমার উপস্হিতি শৈশব-কৈশোর-যৌবন-বৃদ্ধকাল-
"চারঅধ্যায়"-এ,
 প্রতিটি দিন-ক্ষন-মূহুর্ত তোমার ;
 তুমি আছো সকাল থেকে রাত্রি,
 শুরু থেকে শেষ জীবনের প্রতি পলে পলে-
 তুমি অবিচ্ছেদ্য...। 

                             ---------------------------------------

 পঞ্চম স্থান 

ঠাকুরঘর
বিনিময়  দাস  


আমার একটা ঘর আছে,
           হৃদয়ের অন্তরালে,
রবিঠাকুরের কবিতা সাঁটা
          সে ঘরের দেওয়ালে  ৷
কবিতা ছাড়াও আছে সেথায়
          তাঁরই গল্প, গান,
স্বরলিপি, নাটক, প্রবন্ধ, চিঠি
          সেথায় পেয়েছে স্থান  ৷
সে ঘরটা আমার কাছে 
          সৌরজগতের ছবি,
যার কেন্দ্রে বসে আছেন
           বিশ্বকবি রবি  ৷
আবর্তিত মন প্রণাম করে
          প্রতিদিন প্রাতঃকালে,
সব অনুভব ধরা আছে 
       সে ঘরের দেওয়ালে  ৷
আমার রবির উদয় হলো
        পঁচিশে বৈশাখে,
রবির আলোয় হারিয়ে গেলাম
         জীবনের আঁকে--বাঁকে  ৷
আমার রবিই অস্ত গেলো
           বাইশে শ্রাবণে,
অশ্রুধারা ঝরালো বিশ্বের
          সব নয়ন প্রাঙ্গনে  ৷
অস্ত গিয়েও অস্ত যায় নি
        আপন সৃষ্টির গুণে,
রবীন্দ্রপ্রেমীর নৃত্যে, গানে
       আর রবি অধ্যয়নে  ৷
হৃদয়ের ঘর খুললে আমার
     প্রেরণায় আসে ঝড়,
আমার মতোই বেঁচে থাকুক
      প্রত্যেকের ঠাকুরঘর  ৷
¶¶¶¶¶¶¶¶¶¶¶¶¶¶¶¶¶¶¶¶¶¶¶

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

1 মন্তব্যসমূহ