পোস্ট বার দেখা হয়েছে
প্রথম স্থান
ঠাকুর আমার , রবি বাবু
অঞ্জনা চক্রবর্তী
শৈশবে , যখন অতি শাসনে চার দেওয়ালে,
একমাত্র আপন , আমার রবীন্দ্রনাথ , গীতবিতানে |
অথবা সঞ্চয়িতা আঁকড়ে ধরে 'বীর পুরুষ '
মাকে নিয়ে পাড়ি দিতাম সেই অনেক দূরে ----
সেখানে হা রে রে রে রে , এলো যেন কারা তেড়ে
ভয়ানক লড়াই করে রক্ষা জননী কে, রাজপুত্তুর সাজে |
অথবা লুকোচুরিতে টুপ্ করে পড়তাম মায়ের কোলে |
সন্ধ্যেবেলায় রেওয়াজ করার ছলে
হারমোনিয়ামে 'নিবিড় ঘন আঁধারে '
মনে পরে আজও রেলওয়ে ইনস্টিটিউটে
এ গান গেয়ে কাঁদিয়াছিলাম দর্শক কে |
ঋতু রঙ্গ , শ্যামা , চিত্রাঙ্গদা নাচ করেছি কত
রবি ঠাকুর কে সঙ্গে করে, ঋতুর আবর্তে |
বিয়ের পরও রবি বাবু , থাকলেন আমার সাথে |
যেমন করে কাদম্বিনী পেতে চেয়েছিলেন ঠাকুরপো কে, নন্দন কাননে |
যখন শয্যায় একা , এপাশ ওপাশ ,
আঙুলের স্পর্শে পুরুষের উক্তি' পরে 'নারীর উক্তি'তে আমার নিবাস |/
'হঠাৎ দেখা ' রেলগাড়ির কামরায়
আমার একাকিত্বে আলাপ পরিচয় |
নির্জরের স্বপ্নভঙ্গ সে হবার নয় ;
রবির প্রতিনিয়ত উদয় |
শেষের কবিতায় বা রক্তকরবী কথা মালায় আজও মন হারিয়ে যায় |
প্রতিটি অঙ্গে , প্রতিটি ধাপে, প্রতি পদক্ষেপে
রবি ঠাকুর আমার গায়ে যেন লেপ্টে
ইনিই ঈশ্বর , ইনিই ধর্ম আমার প্রাণের কথা কওয়াতে |
---------------------------------------------------------------
দ্বিতীয় স্থান
প্রতিদিনের ভাবনায় কর্মে যাপনে কবি গুরু রবীন্দ্র নাথ ঠাকুরের প্রভাব
————
অলিপা পাল
বাংলার সংস্কৃতির রূপকার,বাঙালীর পথিকৃৎ রবি ঠাকুর ৷তাঁর লেখায় এত বৈচিত্র্য ,নানানদিক,পৃথিবীর খুব কম শিল্প-সৃষ্টির মধ্যে আছে ৷বাংলার মাটি সহ বাঙালী ধন্য তাঁর আবির্ভাবে ৷
এমন ঈশ্বর জন্মেছিলেন বলেই বাংলা সাহিত্যের পাত্র ফুলে সাজানো ৷ আমাদের অস্তিত্বে,অনুভবে,ভাবনায়
রুচি,কর্ম,যাপনে তিনি শ্বাস কার্যের প্রাণবায়ু ৷দেড়শো বছররের বেশি সময় অতিবাহিত করেও আমাদের বোধে,চেতনায় তিনি উজ্জ্বল নক্ষত্র৷ তিনি না থাকলে বাংলা ভাষা সাহিত্য মধ্য যুগে পড়ে থাকতো ৷তাঁর শিল্পের রুচির মধ্য দিয়ে গভীর অনুভূতির রেখা ফুটে উঠেছে,যেখানে আমরা খুঁজে পেয়েছি চিন্তা চর্চার উর্বর পলি৷ তাঁর লেখার মধ্য দিয়েই আমাদের পথ খোঁজা সাহিত্যে নিবিড় ভাবে ডুবে যাওয়া ৷
তার লেখায় প্রেম,আবেগ,সংগ্রামের শৈল্পিক চেতনা জেগে উঠেছে ,তাই আমরা আনন্দে, শোকে, সংকটে, নির্ভরতায়, সান্ত্বনায় হাতে তুলে নিয়েছি তাঁর লেখা কবিতা গল্প নাটক ইত্যাদি ৷অন্যায়,অসাম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ফুটে উঠেছে তাঁর কলমে, অনুভব করেছি তাঁর লেখায় অসাম্প্রদায়িক,মানবতাবাদী সংস্কৃতির বিকাশ ঘটেছে,যা পাঠককে প্রভাবিত করেছে;
দেশ মাতৃকাকে শৃঙ্খল মুক্ত করতে তাঁর লেখায় শিহরণ জেগেছে আবালবৃদ্ধবনিতার ৷
শক্তির উৎস হয়ে অনুভবে,চেতনায় আমি প্রাত্যহিক জীবনে প্রেরণা পেয়েছি তাঁর প্রতিটা লেখার মধ্য
দিয়ে ৷স্কুল,কলেজের গণ্ডী পেরিয়ে, শিক্ষকতা জীবিকাতেও, তাঁরই লেখা জাতীয় সঙ্গীত আমার প্রাত্যহিক জীবনের অঙ্গ ৷
তাঁর গান,কবিতা কে আধুনিক করার যে বিবর্তন,যে টানাপোড়েন, তাতে আমি ব্যক্তিগত ভাবে উদ্বিগ্ন ৷রবীন্দ্র সঙ্গীতের সাথে পাশ্চাত্য সুর মিশে যে গান তৈরী হচ্ছে আমার কাছে অশ্লীল ৷
তবে সব পরীক্ষা বিফল হয় না ৷ কিছু প্রচেষ্টা তাঁকে আরও প্রাসঙ্গিক করে তুলেছে এবং তুলবে৷সংবাদ পত্রে পড়েছিলাম,সংশোধনাগারের বন্দি দাগি অপরাধীরা "বাল্মিকী প্রতিভা" করে আশ্চর্য জনক ভাবে অনেকেই বদলে গেছেন এবং মূল স্রোতে ফিরেছেন ৷
"আজি হতে শতবর্ষ পরে
কে তুমি পড়িছ বসি আমার কবিতাখানি
কৌতূহলভরে--"
বংশ পরম্পরায় তাঁর লেখা আমার কাছে প্রাসঙ্গিক ৷তিনি থাকবেন অনন্ত কাল আমাদের চিন্তায়,চেতনায়, ভাবনায় সর্বদা ভাস্বর ৷
----------------------------------------------------------------
তৃতীয় স্থান
কবিতা -তুমি রবে নীরবে
মালা সেন দে
রবি কবি তুমি আমার কলমের প্রেরণা ,
কেমন করে বর্ণনা করি তোমার রচনা l
তপ্ত বোশেখে দখিনা বাতাস সম এই ধরাতে ,
মহীরুহ হয়ে শীতল পরশ দিলে তৃষিত প্রাণেতে l
কবিগুরু তুমি আমার প্রিয় কবি ,গানেতে , কবিতায় তোমরই আঁকি ছবি ।
তুমি আমার সাধনার তপোবন ,
তুমি চির কিশোর দুরন্ত যৌবন l
তুমি আমার পূর্ণিমা রাতে জ্যোত্স্না ,
অগুনিতো তারার মতো অনুপ্রেরণা l
তুমি আমার ঘুম ভাঙার গান ,
দুখ জাগানিয়া রাতে শোনাও তোমার গান l
আমার হৃদয়ে তুমি রাখাল রাজার বীন ,
শত দুঃখের মাঝে জাগিয়াছ হয়ে নবীন l
তুমি গোধূলি গগনে গাও বিরহের গান ,
তোমাতেই মিশে আছে মোর কবিতার সাধন ভজন
শতবর্ষ আগে করেছিলে যে শব্দ চয়ন ,
আজ শতবর্ষ পরে তোমারই সৃষ্টিকে করি স্মরণ l
তোমার চেতনার রঙে আঁকি আলপনা ,
সুখের মাঝে তোমারই সুরের মূর্ছনা l
তোমার সৃষ্টি মাঝে কাটে সারা দিনমান ,
জীবন মাঝে হে ঠাকুর ,তুমি কাব্যের ভগবান l
বাঙালির মনে রাগে অনুরাগে তোমার দীপ অনির্বাণ ,
কেমন করে ভুলব এই বৃহৎ দান l
ভরা শ্রাবণে বিদায় দহন জাগে মনে ,
তবু কালের পর কাল "তুমি রবে নীরবে "॥
----------------------------------------------------------------
চতুর্থ স্থান
তোমার অবিচ্ছেদ্য উপস্হিতি
মনোজ কুমার রথ
আরো একটা পঁচিশে বৈশাখ,
দিনটা শুধুমাত্র তোমারই-
নির্ভেজাল তোমার জন্য;
জানি আরো একটা দিন আছে
তোমার মালিকানায়,
না মনে করতে চাই না এই মূহুর্তে-
বোধনের আগেই চাই না বিসর্জন,
বড্ড কষ্ট হয় !
কালবোশেখী জানান দিচ্ছে তোমার আগমনবার্তা,
কৃষ্ণচুড়া বলছে প্রেমের রঙে রাঙিয়ে দিতে
তুমি ঠিক আসছো,
সংকটাপন্ন সময়ে ঝড়ের মতো
তোমার আসার পূর্বাভাস,
ক্ষনস্হায়ী নয়-
চিরস্হায়ী সমীরণ সাহিত্য-অঙ্গনে,
উজ্জ্বল ধ্রুবতারা অসীম আকাশে ;
তোমার আলোকে আলোকিত জগৎ,
আজোও পরিচয় প্রদানকারী
কোটি কোটি ভারতবাসীর-
পরশমনি- প্রতিভা সর্বমুখী !
অমলতাসের ছোঁয়ায় তুমি "অমল"-
তুমি গুরুদেব- বিশ্বকবি,
দেবেন্দ্র-সারদা নন্দন;
তোমার উপস্হিতি শৈশব-কৈশোর-যৌবন-বৃদ্ধকাল-
"চারঅধ্যায়"-এ,
প্রতিটি দিন-ক্ষন-মূহুর্ত তোমার ;
তুমি আছো সকাল থেকে রাত্রি,
শুরু থেকে শেষ জীবনের প্রতি পলে পলে-
তুমি অবিচ্ছেদ্য...।
---------------------------------------
পঞ্চম স্থান
ঠাকুরঘর
বিনিময় দাস
আমার একটা ঘর আছে,
হৃদয়ের অন্তরালে,
রবিঠাকুরের কবিতা সাঁটা
সে ঘরের দেওয়ালে ৷
কবিতা ছাড়াও আছে সেথায়
তাঁরই গল্প, গান,
স্বরলিপি, নাটক, প্রবন্ধ, চিঠি
সেথায় পেয়েছে স্থান ৷
সে ঘরটা আমার কাছে
সৌরজগতের ছবি,
যার কেন্দ্রে বসে আছেন
বিশ্বকবি রবি ৷
আবর্তিত মন প্রণাম করে
প্রতিদিন প্রাতঃকালে,
সব অনুভব ধরা আছে
সে ঘরের দেওয়ালে ৷
আমার রবির উদয় হলো
পঁচিশে বৈশাখে,
রবির আলোয় হারিয়ে গেলাম
জীবনের আঁকে--বাঁকে ৷
আমার রবিই অস্ত গেলো
বাইশে শ্রাবণে,
অশ্রুধারা ঝরালো বিশ্বের
সব নয়ন প্রাঙ্গনে ৷
অস্ত গিয়েও অস্ত যায় নি
আপন সৃষ্টির গুণে,
রবীন্দ্রপ্রেমীর নৃত্যে, গানে
আর রবি অধ্যয়নে ৷
হৃদয়ের ঘর খুললে আমার
প্রেরণায় আসে ঝড়,
আমার মতোই বেঁচে থাকুক
প্রত্যেকের ঠাকুরঘর ৷
¶¶¶¶¶¶¶¶¶¶¶¶¶¶¶¶¶¶¶¶¶¶¶

1 মন্তব্যসমূহ
অপূর্ব
উত্তরমুছুন