সাক্ষাৎকার | কথা কবি শ্রী সদ্যোজাত




পোস্ট বার দেখা হয়েছে

                                                   ছবি সৌজন্যে ফেসবুক 


সাক্ষাৎকার 
কবি শ্রী সদ্যোজাত 

( সহযোগিতায় দেবাশীষ ভট্টাচার্য্য )

প্রশ্ন : আপনার কাছে কবিতা কি? 

উত্তর :
কবিতা আমার কাছে সহজ সরল ভাষার মাধ্যমে শব্দের বুনন, যারমধ্যে দর্শনের উপস্থিতি একান্ত জরুরি। দর্শন ছাড়া কখনোই কবিতা হয় না৷ জটিল ভাষা বা শব্দ প্রয়োগ করে পাতার পর পাতা লিখলেই কবিতা তৈরি হয়ে যায় না। এমন ভাবে লিখতে হবে যাতে পাঠক পড়ে দর্শনকে উপলব্ধি করতে পারবে এবং পাঠকের মনে এক গভীর অনুভূতির সৃষ্টি হবে।পাঠকের চোখের সামনে ভেসে উঠবে কবিতার দৃশ্যপট। পাঠকের মন চাইবে বারবার পড়তে। যেমন কালি ছাড়া কলম অচল তেমনি দর্শন ছাড়া কবিতাও অচল।

প্রশ্ন : কবিতা না গল্পঃ লেখা আপনার কাছে বেশি উৎসাহের বা কোনটা আপনাকে সতস্ফূর্তভাবে ধরা দেয়? 

উত্তর : 
আমার মতো মানুষের কাছে দুটোই উৎসাহের। দুটো দুরকম। কবিতা এমন একটা বিষয় যারমধ্যে দর্শনও থাকবে আবার মনের ভাবকে সহজ ভাবে প্রকাশ করতে হবে। কিন্তু গল্পের ক্ষেত্রে যদি জীবনের সত্য ঘটনাগুলোকে তুলে ধরা হয় তাহলে সে গল্পের মান সাধারন গল্পের চেয়ে পাঠকের কাছে বেশি মনোগ্রাহী হবে। আকাশকুসুম কল্পনা করেও গল্প লেখা যায় কিন্তু সত্য ঘটনা অবলম্বনে লেখা গল্পের মান তারচেয়ে অনেক গুন বেশি মাত্রায় পাঠকের মনকে আকৃষ্ট করবে। কবিতা হোক কি গল্প সত্য কে যদি না ছুঁতে পারি, যদি না অনুভব করতে পারি, দু চোখ দিয়ে তাকে যদি উপলব্ধি না করতে পারি তাহলে কল্পনা পরিধির সাথে আমরা বাস্তবের মেলবন্ধন ঘটাতে পারবো না।কল্পনা যদি বাস্তবের সাথে আলিঙ্গন করে তাহলেই কিন্তু মানুষের কাছে তা জীবনী হয়ে ওঠে। অন্তত ব্যক্তিগত ভাবে আমার কাছে এটাই মনে হয়।
                                     ছবি সৌজন্যে ফেসবুক 
প্রশ্ন : আচ্ছা এই যে এখন খুব ই—ম্যাগাজিনের চল এ সম্পর্কে আপনার কি মত?

উত্তর :
বর্তমান সময়ে ই—ম্যাগাজিনের চল থাকাটা দরকার বলে আমি মনে করি। মানুষ এখন অনলাইনে নানান এ্যাপ ডাউনলোড করছে এবং তারা নানান কবি সাহিত্যিকদের লেখাও এই এ্যাপের মাধ্যমে পড়ছে। যদি কোনো কবিতা বা গল্পের কিছু অংশ লিখে বাকিটা ই—ম্যাগাজিনে পাওয়া যাবে বলে পাঠকের কাছে এই বার্তা দাওয়া যায় তাহলে পাঠক সেই বই সংগ্রহ করতে পারে। কারন কোনো পাঠকের যদি কোনো বিশেষ কবি বা সাহিত্যিক কে ভালো লাগে এবং তাঁর লেখা যদি পছন্দ করে তাহলে সেটা পড়ার জন্য ই—ম্যাগাজিন নিশ্চয়ই সংগ্রহ করবে বলে আমার ধারণা। এখন অনলাইনের যুগ। সবকিছুই অনলাইনে পাওয়া যায়। মানুষ এখন অনলাইনে অনেককিছুই কেনেন। তাই আশা রাখি ই—ম্যাগাজিনও কিনবে। আমি অনেককেই বলতে শুনেছি যে ফেসবুক, ই—বুক,বা ই—ম্যাগাজিন এসব সাহিত্য কে নষ্ট করে দিচ্ছে। আসলে এমনটা নয়তো যে, "নাচতে না জানলে উঠোন ব্যাঁকা"...সময়ের সাথে সাথে যদি মন মননের আধুনিকিকরণ না হয় তাহলে তো সেক্ষেত্রে সমাজকে পিছিয়ে পরতে হবে।আজকে আপামর বিশ্বের দিকে যদি আমরা তাকাই দেখতে পাবো সেখানে কিন্তু এক উত্তরণ ঘটেছে। সেই উত্তরণের ভাগীদার তো আমরাও হতে পারি। আজকে আমরা সবাই যে মোবাইল ফোন ব্যাবহার করি, দামী দামী জামা কাপড় কিনি তা কিন্তু এই মোবাইল ফোনের মাধ্যমে। এমনকি আমরা দেখতে পাচ্ছি সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে এখনকার ছেলেমেয়েদের শিক্ষা ব্যবস্থারও এক আমূল পরিবর্তন হয়েছে। সেগুলো যদি গ্রহণযোগ্য হয় তাহলে সাহিত্যের ক্ষেত্রে বাঁধা কোথায়? সবসময় সমালোচনা কেন, পর্যালোচনা নয় কেন?তাহলে আমরা আগামী কে কি দিয়ে যাবো? নতুন কিছুকে ভালোবাসতে গেলেও তো একটা দার্শনিক চেতনার উন্মেষ ঘটতেই পারে। সময়ের সাথে সাথে পা যদি মেলাতে পারা যায় তবেই তো সভ্যতার নবজাগরণ সম্ভব। সে যে কোনো কিছুই হতে পারে শুধু সাহিত্য কেন? অতএব শুধুমাত্র সংকীর্ণ মানসিকতাকে লালিত পালিত করলে আর যাই হোক সাহিত্যের অনিন্দ্য বিকিরণ সম্ভব নয়। আমি এটাই মনে করি।

প্রশ্ন : অনলাইন ম্যাগাজিনের মাধ্যমে লেখক / কবিদের সহজলভ্যতা তাদের লেখার প্রতি পাঠকের উৎসাহ কে কমিয়ে দেয়? 

 উত্তর :  কখনোই নয়। এখন সবই অনলাইনের মাধ্যমে হয়ে থাকে। যে পাঠকের সত্যি কোনো লেখক বা কবির লেখা পড়ার উৎসাহ থাকবে সেই পাঠক যে ভাবেই হোক বই ঠিকই সংগ্রহ করবে। প্রিয় কবি বা লেখককের লেখা না পড়তে পারলে তাদেরও ভালো লাগবে না। যেমন কিছু মানুষের নতুন জামাকাপড় কেনার নেশা থাকে ঠিক তেমনি কিন্তু বই সংগ্রহ করারও নেশা কিছু কিছু মানুষের থাকে। কাজেই পড়ার ইচ্ছে থাকলে কখনোই পাঠকের উৎসাহ কমবে না।হয়তো সামনের মাসে আমার একটি ই—বুক প্রকাশ পেতে চলেছে"সাগরিকা"।শপিজেন বাংলা নিবেদনের শ্রদ্ধেয়া সুপর্ণা মজুমদার অত্যন্ত দায়িত্ব সহকারে এই কাজটি করছেন। আমার প্রথম একটি কাব্যগ্রন্থ বেরিয়েছিলো বই মেলাতে  "ঝরে পরেছে শতাব্দী" নামে যেটা কচিপাতা পত্রিকা থেকে বের করেছিলো এবং পত্রিকাটির  প্রতিক্রিয়া খুব ভালো  পেয়েছিলাম যা  ঈশ্বরের আশীর্বাদ ছাড়া কখনো সম্ভব নয় বলে আমার মনে হয়।আপামর  পাঠক এবং সম্পাদক মন্ডলীকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই। সেই সাথে এটাও মনে রাখতে হবে আমার যে ই—বুক "সাগরিকা" প্রকাশ পেতে চলেছে অনলাইনে সেটা কিন্তু আমার এক নতুন অভিজ্ঞতা। আমরা যেরকম ভাবে বিভিন্ন রকম অনলাইন থেকে শরৎসমগ্র,রবীন্দ্র রচনাবলী থেকে শুরু করে শেক্সপিয়ার সবকিছুই সংগ্রহ করছি ঠিক সেরকম ভাবে বিভিন্ন এ্যাপ থেকে পাঠক কিন্তু বই নিজের পছন্দ মতো সংগ্রহ করতে পারে। আমার মনে হয় অনলাইনের মাধ্যমে পাঠকের কাছে অনেক তাড়াতাড়ি পৌঁছানো যাবে। অনলাইন ম্যাগাজিনের মাধ্যমে আমি আমার চিন্তা চেতনা,মনের ভাব, দর্শন যদি মানুষের মনের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে পারি তাহলে একটা ভাবনার সেতুপথ তৈরি হবে। সেক্ষেত্রে পাঠক ঘরে বসেই আমার কাব্যগ্রন্থ  সংগ্রহ করতে পারবে। আমার মনে হয় একজন সাহিত্যিকের প্রথম চিন্তা হওয়া উচিৎ কত সহজ লব্ধ পদ্ধতিতে আমরা পাঠকের ঘরের মধ্যে প্রবেশ করবো। পাঠক বৃদ্ধি করা হলো একজন সাহিত্যিক এবং একজন প্রকাশকের কাজ। অফলাইন এবং অনলাইনে যারা কাজ করছেন তারা অবশ্যই আনন্দ সহকারে কাজ করে চলুক। তাতে আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ভালো হবে এবং মহা মানবের একটা মঞ্চ স্থাপন করতে পারবো। এটা কোনো সমালোচনা নয়। পুরোনো ভাবনা চিন্তাকে বুকে আগলে রেখে নতুনের পথে আবারও বিকশিত হওয়া।

প্রশ্ন : একটি ভালো কবিতা বলতে আপনার মতামত?

উত্তর :
   যে কবিতার মধ্যে প্রেম, বিরহ,আর্তি, সমাজবোধএবং সদর্থক দর্শন থাকবে আর সহজ সরল ভাষার প্রয়োগ লক্ষ্য করা যাবে, যা পড়লে পাঠকের বুঝতে কোনো অসুবিধে হবে না কবিতার মূল বিষয় বস্তু সম্পর্কে এবং যা পাঠকের মনে রেখাপাত করবে খুব সহজেই,  পাঠক চাইবে অবসরে বারবার পড়তে, যা কখনোই পাঠকের কাছে একঘেয়ে লাগবে না সেই কবিতাই ভালো বলে দাবি করা যায়। যদিও এটা আমার একান্ত নিজস্ব মতামত। আমি যেহেতু রোমান্টিক কবিতা লিখি তাই আমি সেই দৃষ্টিতে এই মন্তব্য করছি। কিন্তু একজন পাঠক হিসেবে আমার মনে হয় যে, কবিতা প্রতি মুহূর্তেই কিন্তু তার রূপ, রঙ,বেশ পরিবর্তন করেছে। আমরা যদি পরপর সময় গুলোকে দেখি রবীন্দ্রত্তোরের পরে কিন্তু বাংলা ভাষা সাহিত্যে অনেক পরিবর্তন হয়েছে। বর্তমানে সব সময় মনে রাখতে হবে যে আমরা যদি বর্তমান প্রজন্ম এবং আগামী প্রজন্মকে শান্তির অভিমুখে টেনে আনি তাহলে আমাদেরও কিছু ভাবনা চিন্তার পরিবর্তন আনার প্রয়োজন আছে। তৎকালীন সময়ে নারী চরিত্র আর আজকের শতকে দাঁড়িয়ে নারী চরিত্র এবং পুরুষ চরিত্র উভয়েরই কিন্তু একটা বদল এসেছে। আমাদের দৈনন্দিন যে সংসার যাপন তারও কিন্তু একটা পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। এমনকি বর্তমানে সমাজেও এক অদ্ভুত পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে যা সমাজের পক্ষে কতটা মঙ্গল জনক সেটা এক এক কবি বা সাহিত্যিক এক এক দৃষ্টিকোণ থেকে পাঠকের সামনে নিয়ে আসে।তারমানে এই নয় যে পাঠক যা গ্রহণ করবে সেটাই প্রতিষ্ঠিত আর যেটা গ্রহণ করবে না সেটা প্রতিষ্ঠিত নয়। আমার কথার মূল উদ্দেশ্য হলো দন্ডমূলক কিছু বৈপরীত্য যা আমাদের আগামী দিনকে প্রশস্থ করবে। এজন্যই আমার মনে হয় শব্দ চয়ন বা শব্দের বুনন এমন হওয়া উচিৎ যাতে পাঠক পড়ে তার একটা ছবি তারা চোখ বন্ধ করলেই দেখতে পায়। সবশেষে আমি একটাই কথা বলবো যদিও এটা আমার একান্ত মতামত যে কবি কখনো কবি আবার কবি কখনো পাঠক হয়ে যায় কিন্তু যারা কবি নয় শুধুমাত্র জনসাধারণ, যারা রাস্তায় হেঁটে চলে বেড়ানো মানুষ তারা কিভাবে সাহিত্য কে গ্রহণ করছে এটাও কিন্তু একটা খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।একশো,দুশো,পাঁচশো জন সাহিত্য কি বললো সেটা যতটা গুরুত্বের বিষয় ঠিক ততটাই গুরুত্বের বিষয় হলো সাধারণ মানুষ যারা রোজদিন জীবনটাকে হাসতে হাসতে বা যন্ত্রণা বইতে বইতে উপভোগ করে চলেছে। যারা এসব কাব্য, কাব্যের ব্যাকরণ এতকিছু বোঝে না। যারা স্বরবৃত্ত, অক্ষরবৃত্ত বোঝে না। অথচ তারা এটা বোঝে এমন একটা ভালো লেখা পড়বো যে লেখায় আমি নিজেকে খুঁজে পাবো। মানুষ তখনই পড়বে যখন সে লেখার মধ্যে  প্রাপ্তি উপলব্ধি করতে পারবে। শুধুমাত্র নামকরা কবি সাহিত্যিকের কাছে আমার লেখা মর্যাদা পেলেই যে আমার লেখা সাফল্য পেলো তা নয়। আমার লেখা তখনই সাফল্য পাবে যখন আপামর জনসাধারণের কাছে আমার লেখার একটা অংশ জুড়ে তাদের জীবনে দর্পনের কাজ করবে। আর সেটাই হবে একজন সাহিত্যিক হিসেবে আমার কাছে আনন্দের।
                                       ছবি সৌজন্যে ফেসবুক 

প্রশ্ন : আপনার মতে সফলতা ও খ্যাতি কি?

উত্তর :
    একটা লেখা লিখে তা কবিতাই হোক বা গল্প হাজার পুরস্কার পাওয়ার চেয়ে পাঠকের হৃদয়ে সেই লেখা যদি স্থান পায় তাহলে এরচেয়ে বড়ো সফলতা বা খ্যাতি আর কিছুই হয় না। আমার মনে হয় আমি দু হাজার কবিতা বা গল্প লিখে সেসব কবিতা বা গল্প লেখার জন্য আমি অনেক জায়গায় পুরস্কৃতও হয়েছি, অনেক উত্তরীয়ও পেয়েছি এবং অনেক সন্মানিতও হয়েছি। আমি এগুলোকে মর্যাদা দিয়েই বলছি পাঠক হৃদয়ে জায়গা তৈরি করে নাওয়াটাই সবচেয়ে বড়ো সফলতা।
আবার কখনো দেখা যায় অনেক কবি বা সাহিত্যিক জীবনে কোথাও হয়তো সেভাবে সন্মানিত হননি। অথচ মানুষের ঠোঁটে ঠোঁটে তার লিপ্ত লাইনগুলো কিন্তু মানুষ উচ্চারিত করতে থাকে। আমার মতে এর থেকে বড়ো পুরস্কার বা বড়ো ঐশ্বরিক অনুভূতি আর কিছু হয় না। সংসারী মানুষ, খেটে খাওয়া মানুষ, পথ চলতি মানুষ তারা যখন তাদের ওঠাবসার সাথে আমার দু একটা লাইন যদি তাদের ঠোঁটে নিয়ে আসেন তাহলে আমার মতে সেটাই হল সফলতার এক চূড়ান্ত পুরস্কার। আমার কাছে সফলতা মানুষ ছাড়া কিছু নয়। অনুষ্ঠান, মঞ্চ, উত্তরীয় পরা এগুলো যেমন দরকার তেমনি সবার আগে দরকার পাঠকের মন।  সারাজীবন মঞ্চে নাই বা উঠলাম। সারাটা জীবন আমি যেন মানুষের ঠোঁটে মিশে থাকতে পারি ও হৃদয়ে বসে থাকতে পারি। আমার স্থান যেন মানুষের হৃদয়ে হয়। লবণ ছাড়া যেমন রান্না অসমাপ্ত তেমনি পাঠক ছাড়া কবিও কিন্তু অসমাপ্ত। একজন কবি বা সাহিত্যিকের কাছে পাঠক হলো ঈশ্বর।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

7 মন্তব্যসমূহ

  1. দারুণ। এবং ধ্রুবসত‍্য কথা বললেন।।

    উত্তরমুছুন
  2. অসাধারণ বাস্তব প্রশ্নোত্তর
    আশারাখি সমৃৃৃৃৃদ্ধ হবে আমার মত অনেক পাঠক
    ও লেখার জগতের মানুষ

    উত্তরমুছুন
  3. অতি সুন্দর তথ্য পূরণ মনোজ্ঞ আলোচনা।

    উত্তরমুছুন
  4. সোমনাথ সরকার৪ মে, ২০২০ এ ৩:১৩ PM

    খুব সুন্দর আর সঠিক কথা বলেছেন

    উত্তরমুছুন
  5. অনবদ্য প্রিয় কবি ....সমৃদ্ধ হলাম.....রইলো একরাশ মুগ্ধতা

    উত্তরমুছুন