Arghya Pal ( অর্ঘ্য পাল)-গল্প




পোস্ট বার দেখা হয়েছে


 রাতের আতঙ্ক
                       
                     

আমি অনিকেত ৷ কলকাতায় থাকি৷ এখানেই কলেজে পড়াই৷কিছু দূরে বাউড়িয়া জায়গাটার নাম আশাকরি শোনা ৷সেখানেই গঙ্গা থেকে এক কিলোমিটার দূরে আমার পিসির বাড়ী৷ বেশ জমজমাট জায়গা কিন্তু সন্ধ্যার পর থেকেই কোলাহল শূন্য৷ রাত হলেই চোর ডাকাতের উপদ্রপ বাড়ে ৷ মাঝে মধ্যেই কলেজ ছুটি থাকলে পিসির বাড়ী যাই ৷ পিসির বাড়ীর পাড়ায় সকলে খুব  ভালোবাসে অামাকে ৷
পিসির বাড়ি থেকে দক্ষিনে  মাইল দুয়েক দূরে গঙ্গার ধারে একটা পোড়ো বাড়ী ছিলো ৷ আগে জমিদার বাড়ী বলেই পরিচিত ছিলো ৷সেই বাড়ী'র কথা পিসিকে জিজ্ঞাসা করাতে, পিসি বলেছিলেন সেই বাড়ী'তে থাকতেন এখান কার জমিদারও তার পরিবার ৷ অনেক আগে জমিদারের দুই মেয়ে পর-পর আত্ম হত্যা করে ৷ জমিদারি প্রথা তার অনেক আগেই উঠে গেছিল৷ নাম মাত্র জমিদার ছিলেন ৷ মেয়েদের অকাল মৃত্যুর শোক সামলাতে না পেরে বৃদ্ধ জমিদার ও তার স্ত্রী কিছু দিনের মধ্যেই মারা যান ৷ অত মৃত্যুর পর লোক মুখে জানা যায় বাড়ীর আসে- পাশে অলৌকিক ঘটনা ঘটে,এমনকি বাড়ীর ভেতর থেকে কান্নার আওয়াজ ও শোনা গেছে ৷ভয়ে কেউ আর সেই বাড়ীর কাছে যায় না ৷এখন সবাই ভুতুরে বাড়ী বলেই জানে৷



আমি হেসে ফেলে বল্লাম ভুতে বিশ্বাস করিনা ৷আরো বললাম জমিদার বাড়ীতে রাতে থেকে দেখবো ভুত বলে কিছু আছে কিনা ৷ সঙ্গে সঙ্গে কথা ছড়িয়ে পড়লো পিসির বাড়ী থেকে পাড়া  হয়ে পুরো গ্রাম ৷ পিসি সহ প্রত্যেকে নিষেধ করা সত্ত্বেও আমি সিদ্ধান্তে অবিচল ৷
সে দিন ছিলো কৌশিকী অমাবস্যা ৷ পাড়ার দুটো ছেলে জমিদার বাড়ীর দ্বোতলায় গঙ্গার দিকের একটা ঘর পরিস্কার করে মাদুর বালিশ  মশারি জলের বোতল এম্যারজেন্সি লাইট রেখে এলো ৷অামি নটা নাগাত খেয়ে চলে এলাম জমিদার বাড়ী ৷ ফোনে গল্পে'র এপস্ নিয়ে গল্প পড়াতে  মননিবেশ করলাম ৷ হঠাৎ একটা শব্দ হলো! ফোনে দেখি বারোটা বাজে ৷ এম্যারজেন্সি আলো ঘুরিয়ে দেখলাম জলের বোতল পড়ে গেছে ৷বোতল তুলতে গিয়ে হাতে বরফের মত ঠান্ডা কি য্যানো ঠেকলো৷ অালোর কাছে হাত এগিয়ে দেখি লাল জলের মত ! ভালো করে বার-বার দেখলাম, একি রক্ত! রক্ত কি করে এলো!ভাবলাম পুরনো বাড়ী হয়তো কোন পেরেকে কেটেছে ৷ গুরুত্ব না দিয়ে অাবার পড়তে শুরু করলাম ৷ একটু পড়েই আলো দপ-দপ করে নিভে গেলো! ফুল চার্জ ,এমন হওয়ার তো কথা না !পরক্ষনেই দেখি জানলা গুলো নিজে থেকেই খুলে গেলো অথচ খুব ভালো ভাবে আটকানো ছিলো ৷ হুহু করে গঙ্গার হাওয়া শরীর মন সতেজ করে দিলো ৷ হঠাৎ দরজা খুলে গেলো!দরজার ওপারে ঘন কালো অন্ধকারে কিছু দেখার উপায় নেই,শুধু ভেসে এলো তীক্ষ্ণ বিকট চিৎকার ৷ আমার গায়ের রোম খাড়া হয়ে গেলো৷
দরজার সামনে দাঁড়িয়ে দুটো মেয়ে ৷
কি বীভৎস তাদের চেহারা ৷অস্পষ্ট ভাবে বোঝা যাচ্ছিলো মুখ বাদে পুরো শরীরে কোন মাংস নেই ৷শুধুই কঙ্কাল৷
ঠোঁটের পাশে রক্ত ঝরছে ৷চোখের জায়গায় বড় গর্ত,তার ভেতর থেকে লাল দ্যুতি বেড়িয়ে আসছে ৷মনে হলো খুব ঘাম হলে ভালো লাগবে ৷ চিৎকার করার চেষ্টা করলাম কিন্তু গলা দিয়ে কোন স্বর বেড়লো না ৷বুঝতে পাড়লাম দাঁড়ানোর ক্ষমতা চলে
যাচ্ছে এবং মিটিতে লুটিয়ে পড়লাম ৷
অনুভব করলাম সারা শরীরে ঠান্ডা স্রোত বইছে ,আর বুঝতে ভুল হলো না ছায়া মূর্তি আমার পাশে ৷
মাথায় অসহ্য যন্ত্রনা নিয়ে তাকিয়ে দেখি সকাল হয়েছে ৷জানালা দিয়ে ঠান্ডা হাওয়া শরীর মন তাজা করে দিলো ৷পিসির কথার শব্দে বুঝলাম তার বাড়ীতে আছি ৷পিসতুতো ভাই অভি'র সাহায্যে উঠে বসলাম ৷ অভি ডাক্তার হওয়ার সুবাদে ভোর রাতে আমার জন্য ডাক্তার ডাকতে হয়নি এই যা ৷অভির কথায় বুঝলাম কপালে ডিপ হয়ে কেটে যাওয়ায় কয়েকটা সেলাই পড়েছে , ও এও বললো ভোর বেলা আমার খোঁজে গিয়ে দেখে দ্বোতলায় ওঠার সিঁড়ির মুখে এক তলায় পড়ে আছি উপুর হয়ে,কোন জ্ঞান ছিলো না ৷ তখন শিবেন দার চায়ের দোকান সবে খুলছে,ওনারই ভ্যানে করে আমাকে নিয়ে পৌছে দিয়েছিলো ৷
আজও মনে করতে পারলাম না কি ভাবে দ্বোতলা থেকে এক তলাতে এসেছিলাম ৷

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

2 মন্তব্যসমূহ