রক্ষিত কুন্ডু৷। কবিতাগুচ্ছ




পোস্ট বার দেখা হয়েছে


 এক ফালি রোদ

আমি তোমার জীবনের কোনো রূপকথা হতে চাইনি,

আমি চেয়েছিলাম এক ফালি রোদ হতে—

যা দুপুরের ক্লান্তির পরে তোমার জানালায় এসে পড়বে,

আর তুমি চোখ বুজে তার উষ্ণতা গায়ে মেখে নেবে।

এই ব্যস্ত পৃথিবীতে কত মানুষ কত কিছু খোঁজে—

কেউ চায় অফুরন্ত ভালোবাসা, কেউ চায় স্বপ্নের জাল।

আমি শুধু চেয়েছিলাম তোমার কাজের শেষে,

এক কাপ চায়ের ধোঁয়া হয়ে তোমার ক্লান্তি দূর করতে।

একটুখানি জায়গা রেখো তোমার ওই ভাবনায়,

যেখানে ঝগড়া নেই, অভিমান নেই,

যেখানে নীরবতাও হয়ে উঠবে মনের ভাষা;

আর সেই নীরবতার মাঝেই খুঁজে পাব একটুখানি শান্তি।





আমাদেরও আকাশ আছে 

এদেশ যতটা তোমার,

ততটাই তো আমাদের ভাই!

মাটির অধিকার নিয়ে আজ

কেন এত চোখ রাঙাই?


তোমাদের মতো আমাদেরও রক্তে

এ দেশের মাটির টান,

আমাদের পূর্বপুরুষের ঘামে

লেখা স্বাধীনতার গান।


আমাদেরও বুকভরা আশা আছে,

আছে স্বপ্ন দেখার অধিকার,

দুবেলা দুমুঠো অন্নের তরে

চলে জীবনসংগ্রাম প্রতিবার।


ক্ষুধা, প্রেম, কান্না আর হাসিতে

আমরাও রক্ত-মাংসের মানুষ,

তবে কেন ক্ষমতার অহংকারে

করতে চাও হৃদয়কে নিঃস্ব?


জীবন তো ক্ষণিকের খেলা,

ক্ষমতা থাকে না চিরকাল,

তবে কেন বিবেক বিসর্জন দিয়ে

ডেকে আনো অন্ধকারের জাল?


বন্দুকের নলে কণ্ঠ রোধ হয়,

সত্য কি তাতে হার মানে?

অবহেলিত মানুষের জাগরণ

নতুন ইতিহাস লেখে প্রাণে।





বিকেলের রোদ ও মন

রোদ মুছে যায় বিকেলবেলা মেঘের আড়াল টানে,

পাখিরা সব নীড়ে ফেরে আপন মধুর গানে।

মেঘের গায়ে সোনার আভা আকাশজুড়ে হাসে,

শীতল হাওয়া আলতো ছোঁয়ায় মন ভাসিয়ে আসে।


ক্লান্ত দিনের শেষে বসি একলা আপন মনে,

স্মৃতিরা সব ভিড় জমায় নীরব ক্ষণে ক্ষণে।

পুরনো খাতার পাতায় খুঁজি ফেলে আসা গান,

সাঁঝের মায়ায় জুড়িয়ে ওঠে অবুঝ এই প্রাণ।


নদীর জলে সূর্য ডোবে সোনালি এক আলোয়,

মনের পাখি স্বপ্ন আঁকে দূর আকাশের গায়ে।

ব্যস্ত জীবনের ভিড় পেরিয়ে খুঁজি একটু ছায়া,

প্রকৃতিরই কোলে মেলে মনের সুখের মায়া।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ