পোস্ট বার দেখা হয়েছে
ভারতবর্ষ শুধু কোনো মানচিত্রের রেখা নয়—
এ এক জীবন্ত সাধনক্ষেত্র।
যেখানে জন্ম মানে সুযোগ,
আর জীবন মানে আত্মাকে চেনার অনন্ত অভিযাত্রা।
এই মাটিতে মানুষ কেবল বাঁচে না
সে থাকে সাধনায়।
কর্মের মধ্য দিয়ে নিজেকে করে শুদ্ধ,
আর সত্যের দিকে ধীরে ধীরে এগিয়ে যায়।
সনাতন ধর্ম কোনো ism নয়—
এ এক অনাদি অনন্ত জীবনদর্শন।
যেখানে প্রশ্ন করার অধিকার আছে,
অনুসন্ধানের স্বাধীনতা আছে,
আর মুক্তির পথ একটিই—
নিজেকে জানা।
এখানে বিশ্বাস চাপিয়ে দেওয়া হয় না।
এখানে বলা হয়—
যার হৃদয়ে শ্রদ্ধা আছে,
সেই সত্যকে উপলব্ধি করতে পারে।
এই ভারতবর্ষে
ভোরের আলোয় কৃষক সূর্যকে প্রণাম করে,
গৃহবধূ তুলসী গাছে জল ঢালে,
শিশু খেলার ছলে কৃষ্ণ হয়—
অজান্তেই তারা যুক্ত থাকে
চিরায়তের সঙ্গে।
এখানে আজান আর মন্দিরের ঘণ্টাধ্বনি
একসাথে মিশে যায় আকাশে।
এখানে বৌদ্ধ ভিক্ষুর করুণা
আর যিশুর ভালোবাসা
একই মানবতার ভাষায় কথা বলে।
জৈনের অহিংসা,
শিখের সেবা,
হিন্দুর সাধনা,
মুসলিম ফকিরের আত্মসমর্পণ—
সব মিলিয়ে এ এক মহাসঙ্গীত।
ভারতবর্ষ শিখিয়েছে—
পথ অনেক হতে পারে,
কিন্তু সত্য একটাই।
রূপ নানা,
কিন্তু সত্তা অভিন্ন।
এই দেশ এক মহাসঙ্গম—
যেখানে সব নদী আলাদা হয়েও
শেষে মিশে যায় একই সাগরে।
গঙ্গা, যমুনা, নর্মদা কেবল নদী নয়
তারা চিরন্তন চেতনার ধারা।
হিমালয় শুধু পর্বত নয়—
সে ধ্যানের প্রতিভূ।
রাম ধর্মের পথ দেখান,
কৃষ্ণ, প্রেম আর জ্ঞানের যুগল আলো।
ভারতবর্ষ যদি দেহ হয়,
সনাতন ধর্ম তার আত্মা।
একটিকে বাদ দিলে অন্যটি হয়ে যায় অপূর্ণ।
এই ভূমি যুগে যুগে বলেছে—
“বসুধৈব কুটুম্বকম”—
সমগ্র পৃথিবী এক পরিবার।
আজও সেই চেতনা অনির্বাণ, জাগ্রত।
রূপ বদলেছে সময়ের সঙ্গে—
কাগজ থেকে কোডে,
তালপাতা থেকে টাচস্ক্রিনে।
ডিজিটাল ভারতের অপটিক্যাল ফাইবারের তারে
আজও প্রবাহিত হয়
যুগ যুগান্তের মানবতার বার্তা।
প্রগতির দৃপ্ত অঙ্গীকার....
অন্ধকারকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার বার্তা...
প্রযুক্তি এগিয়েছে,
কিন্তু ভারতবর্ষ আজও শেখায়—
শিকড়কে ছুঁয়ে উন্নতির সঙ্গে করুণা চাই,
গতির সঙ্গে মানবতা চাই।
ভারতবর্ষ শুধু কোনো ভূখণ্ড নয়,
ভারতবর্ষ এক শাশ্বত বোধ
অমৃতের সন্তানের জীবন বেদ
এক চিরন্তন মিলনের আহ্বান।
উৎকর্ষের অভিমুখে এক অনন্ত অভিযাত্রার
নাম ভারতবর্ষ।
-------------------------------------------
২৪ জানুয়ারি ২০২৬
কোলকাতা ৩০

0 মন্তব্যসমূহ