শ্রদ্ধার্ঘ্য - স্বামী বিবেকানন্দ || জয়দীপ চট্টোপাধ্যায়




পোস্ট বার দেখা হয়েছে

উনবিংশ শতাব্দীর অন্ধকারাচ্ছন্ন সময়।

একটি বজ্রকণ্ঠ হঠাৎই উঠেছিল জেগে

সে বলেছিল -

ওঠো, জাগো—লক্ষ্যে না পৌঁছানো পর্যন্ত থেমো না।

ইচ্ছেশক্তি ও নিষ্ঠাই সম্পদ তোমার।


উত্তর কলকাতার শিমলার 

এক ভদ্রাসনে

পৌষসংক্রান্তির আলোয় জন্মেছিল

একটি প্রশ্নবিদ্ধ মন

নরেন্দ্রনাথ।

যে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছিল ঈশ্বরকে, 

সমাজকে, নিজেকেও।


মায়ের ভক্তি আর পিতার যুক্তি

দুই ধারায় গড়ে উঠেছিল তার চেতনার ভিত্তি।


সবুজ মনের অমলিন প্রশ্ন, 

বাবার অ্যাটর্নি চেম্বারে এতগুলো হুঁকো কেন ? 

একে অপরের হুঁকো খেলে কিভাবে যায়  জাত !


একদিকে  গীতা, ত্রিপিটক, বাইবেল, কোরআন। 

অন্যদিকে দারিদ্র্যের হাহাকার, বঞ্চনা, নিপীড়ন, পরাধীনতার নাগপাশ।


ধনী ঘরের সন্তান হয়েও

জীবন তাঁকে বারবার চিনিয়েছিল 

অনাহার, অপমান, ব্যর্থতা।

সেই পুঞ্জিভূত যন্ত্রণা ও দুঃখই একদিন

হয়ে উঠেছিল অন্তরের দুরন্ত আগুন।


শ্রীরামকৃষ্ণের পবিত্র স্পর্শে

একদিন নরেন হলেন সন্ন্যাসী—

স্বামী বিবেকানন্দ।

সংসার ত্যাগ করেও

তিনি কখনো ত্যাগ করেননি মানুষকে।


পরিব্রাজক হয়ে হেঁটেছেন 

ভারতের পথে পথে, পবিত্র ধূলোয়। 

দেখেছেন ক্ষুধার্ত মা, নিরন্ন শিশু,

জাত পাতে বিভক্ত, ভগ্ন আত্মবিশ্বাসে 

নুয়ে পড়া বিবর্ণ মানুষ।


তিনি বুঝেছিলেন—

জীবসেবাই শিবসেবা।

মা সারদার আশীর্বাদ নিয়ে উঠলেন জাহাজে।

শিকাগোর ধর্ম মহাসভায়

“সিস্টারস অ্যান্ড ব্রাদার্স অব আমেরিকা”—

এই প্রারম্ভিক প্রস্তাবনায়,

সনাতন ভারতবর্ষের আত্মমর্যাদা, আধ্যাত্মিক গৌরব ও পরম্পরা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল  তাঁর দৃপ্ত কন্ঠের

সম্মোহনী বক্তৃতায়।


প্রাচ্য আর পাশ্চাত্যের মধ্যে

তিনি হয়ে উঠলেন 

উজ্জ্বল সেতুবন্ধ।

পাশ্চাত্য থেকে ছুটে এলেন মিস মার্গারেট এলিজাবেথ নোবেল।  ভারতব্রতে তাঁর 

নতুন নামকরণ করলেন 'নিবেদিতা।'


স্বামীজি  শিখিয়েছিলেন—

শিক্ষা মানে শুধু বই আর ডিগ্রী অর্জন নয়।

শিক্ষা মানে চরিত্র, সাহস আর সহমর্মিতা। 

শিক্ষা মানে আলোকিত হওয়া। 

মানুষ ও সমাজকে আলোকিত করা।


থ্রি H, head, hand , heart 

অর্থাৎ মস্তিষ্ক, হাত আর হৃদয়—

মনুষ্যত্ব অর্জন করতে তিনটিই জরুরি।


তিনি বলেছিলেন—

যে ধর্ম বিধবার অশ্রু মুছতে পারে না, 

অনাথের ক্ষুধা মেটাতে পারে না, সে ধর্ম আমার নয়।


মাত্র ঊনচল্লিশ বছরে

পঞ্চভুতে বিলীন হয়েছিল তাঁর নশ্বর দেহ।

কিন্তু এই মহাপ্রাণ রেখে গেলেন শাশ্বত প্রেরণার 

এক আলোকবর্তিকা।


আজও তিনি ডাক দেন—

ভীরু, দুর্বল হয়ো না।

নিজের পায়ে দাঁড়াও, মানুষ হও,

মানুষের পাশে দাঁড়াও।


স্বামী বিবেকানন্দ—

তুমি শুধু একজন সন্ন্যাসী নও,

তুমি এক অগ্নিমন্ত্র,

তুমি এক  অনুপ্রেরণা,

তুমি এক চিরসবুজ মহীরুহ।

তুমি এক যুগান্তের সঞ্জীবনী।


স্বামী বিবেকানন্দ এমন একটি নাম,

যাঁর উচ্চারণে আজও জেগে ওঠে 5G 

প্রযুক্তির নতুন প্রজন্ম। 

আত্মশক্তিতে অনুপ্রাণিত হয় মানুষ।

সমস্ত অন্ধকার চূর্ণ করে নতুন করে 

ঘুরে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার নেয় 

দুর্নিবার যুবসমাজ।

 

স্বামী বিবেকানন্দের বাণী ও রচনা,

হিংসা হানাহানি ও মনুষ্যত্ব স্খলনের 

এই অস্থির পৃথিবীতে,  দিতে চায় 

শান্তি, মৈত্রী ও সহনশীলতার বার্তা।

মানুষকে নতুন করে দিতে চায় 

দেশপ্রেমের শপথ। 

আত্মজাগরণের মন্ত্র।

বিশ্ব মানবতার বার্তা।


তুমি ছিলে সূর্যতাপস 

সপ্তঋষির এক ঋষি 

ভারতাত্মার মূর্ত প্রতীক 

চিরগৈরিক সন্ন্যাসী। 


ছিলে তুমি জগতপ্রেমী 

পরিব্রাজক, ঐশী গান 

হৃদয় মাঝে আজও তুমি

দীপ্ত শিখা, অনির্বাণ।

--------------------------------------------

 © Copyright reverved


কোলকাতা, ১০ জানুয়ারি ২০২৬

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ