কবিতা গুচ্ছ || অজিত দেবনাথ




পোস্ট বার দেখা হয়েছে

 

১.নক্ষত্রের প্রাত্যহিক আলো


নির্জন পুকুরের পাশে এক মুঠো জল হয়ে দুলছ

ভাবছ ফেলে আসা গ্রামের ললিত সন্ধ্যার কথা

আমবাগানের উপর মৃণালবিহীন অন্ধকার কীভাবে জড়িয়ে ধরে স্থবির পলাশ,

কতটা নির্জনতা লেগে আছে অচেনা

লতার দয়িত অনুভবে

আর আমি এই এলোমেলো রেখার

গণিতে চোখ রেখে খুঁজছি এক ফালি মাটি 

দু'একটি তিমিরবিহীন গাছ

তারই ছায়ার কুন্তলে

এক আকাশ মেঘলা জল উড়ে যায়

পাখির অনুক্ত ভিলায়

বিন্দু বিন্দু শিশির কাগজের ঠোঙা হয়ে 

ভাসে, স্বপ্নে মেশে, স্নেহের প্লাবনে ফুল ফোটায়

এই তুচ্ছ সবুজ ভিটেয় মাঝ রাতে নেমে আসে নক্ষত্রের প্রাত্যহিক আলো 

একেবারে ভিন্ন তিমিরে, অপার ব্যবধি পার হয়ে, 

হৃদয়ের উদাত্ত প্রান্তর ডুবিয়ে-


২.দৃশ্যান্তর


কীভাবে যে দৃশ্য থেকে দৃশ্যান্তরে 

ঢুকে পড়েছি, বুঝতে পারিনি 

একটা পাগল সামান্য মাথা ঝাঁকিয়ে কথা বলার ভঙ্গিতে আকাশে কি  একটা  ছুঁড়ে দিলো, বুঝতে পারিনি-

এইভাবে একটি দৃশ্যের জন্ম হয় 

নির্জন আকাশে, আমার দীপ্র দৃষ্টিতে

হঠাৎ এক বুনো জায়গার প্রজাপতির চঞ্চলতা আমাকে জাপটে ধরে অশরীরী ভঙ্গিমায়

তাকিয়ে দেখি আকাশে একফালি নিঃসঙ্গ চাঁদ এক অচেনা পাখিকে আলো ধার দিচ্ছে 

আমার যাত্রা আরও গভীর হয়

ডুবন্ত সূর্যের মৃদু আভা মেঘমালার

গায়ে রূপোলি চাদর জড়ায়

মুহূর্তে দৃশ্য মুছে যায় 

এক অদ্ভুত জোনাকি স্তিমিত কণ্ঠস্বরে বলে, আমাকে কি ছুঁতে পারো? 

নির্বাক দৃষ্টিতে আমি হেঁটে যাই খণ্ডিত চাঁদের নিবিড় ইশারায়

নিকোনো উঠোনে পড়ে থাকে ছক-আঁকা দৈনন্দিন জীবনের জটিল হিসেব।


৩.শৈশব


একটি দিন বয়ে যায় চোখের ঢালু শেকড় বেয়ে

নির্জনতার বিনীত জলরেখার স্পর্শে

অদেখা বান্ধবনগরে ছিল  শৈশবের জোনাকি শিবির

ফাঁকা মাঠের পাশে ভাঙা বলটি আজও নম্র হাওয়ায় কেঁপে ওঠে

তারই কাছে আপাতস্থির অন্ধকার

সারি সারি উইপোকা গিলে নিয়েছে খেলার প্রতিশ্রুতি, গতির উৎসাহ

কোথাও যাবার নেই, একাকীত্বের দিশাহীন মূর্ছনা

এখন বৃষ্টি এলে অচিরেই ভিজে যায় গোধূলির আভা

হলুদ রঙের আলো উড়ে  পতঙ্গের সমূহ সভায়

এমন ছন্নছাড়া দুপুর কখনো দেখিনি আগে

এমন নিরুপায় রোদ

ঘর ভাঙে, পথ হারায়, হারায় অদেখা নদীর চলন

ঠিক তখনই নিজেকে মুছে ফেলি

দাঁড়াই ধাবমান জলের সময়বিহীন সায়রে

নিশ্বাসে জাগে স্মৃতির নিপুণ আলপনা

আঙুলের পাড় ভাঙে হেমন্ত-সন্ধ্যার মায়াবী জোয়ারে

বুকের ভেতরে সভ্যতা গড়ে চুপিসারে

এমন বিরল পদধ্বনি

যেন পুতুলের বৃষ্টিভেজা ধমনী

শৈশবের রঙিন মেঘের চর কে যেন কেড়ে নেয়

ঘরহীন পথহীন শব্দহীন স্তবকের বিস্তারে!

না কি শরীরের তলদেশে ডুবে যায়?


===========

(অজিত দেবনাথ

সহকারী অধ্যাপক

ইতিহাস বিভাগ

রামানন্দ কলেজ

বিষ্ণুপুর, বাঁকুড়া

M-8900340583)

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ