বেথলেহেম থেকে চিঠি || জয়দীপ চট্টোপাধ্যায়




পোস্ট বার দেখা হয়েছে

বেথলেহেম থেকে এখনো চিঠি আসে। 

সেই চিঠিতে থাকে আলোর ঠিকানা, এগিয়ে চলার মন্ত্র।


আমাদের ই -মেল, মেসেঞ্জার হোয়াটসঅ্যাপ টেলিগ্রাম- এ প্রতিদিন আসে কত কত চিঠি বার্তা । বিবর্ণ লেটার বক্সে কালে- ভদ্রে আসে চিঠি।


প্রেমময় পিতা চিঠি পাঠিয়েই চলেন, ক্লান্তিহীন। 

কখনো মাঝরাতে দরজায় দেন টোকা।


২৫ শে ডিসেম্বর গির্জায় গির্জায় ধ্বনিত-প্রতিধ্বনিত হয় তাঁর হিরন্ময় কীর্তিগাথা, প্রার্থনার সরব উচ্চারণ। 


প্রতিবছর বড়দিন আসে যায়। আমরা পবিত্র দিনটিকে উৎসবের তকমা দিয়ে রঙিন করে তুলি। 

বড়দিনের শপথে মনটাকে বড় করতে পারিনা।


পৃথিবীতে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকে 

অস্ত্র সম্ভারের খতিয়ান। 

যুদ্ধের উন্মাদনায়, সন্ত্রাসের বীভৎসায় 

ঢাকা পড়ে যায় আর্ত মানুষের স্বপ্ন হাহাকার।

বারুদ বাষ্পে ঢেকে যায় সুনীল আকাশ, সবুজ শ্যামলীমা।


ক্ষমতা ও আধিপত্যের প্রতিযোগিতায় ঝরে যায় 

অসংখ্য নিরীহ প্রাণ, বিধ্বস্ত হয় মানবিক স্বপ্ন। 


আমাদের সর্বগ্রাসী লোভের প্রতিমূর্তি হয়ে জুডাসরা বারে বারে  কলঙ্কিত করে সভ্যতা। 

আলোর দিশারীকে তুলে দেয়  জল্লাদদের  হাতে। 


আমরা দামি দামি বাহারি কেক কাটি, ক্রিসমাস ট্রি, সান্তাক্লজ ও নানান বর্ণালী আলোয় ঘর ও পথঘাট সাজাই। 

কিন্তু মনটাকে রঙিন করতে পারিনা। 

কোটি কোটি টাকার উৎসবের সমান্তরালে হেঁটে যায় তীব্র দারিদ্র, অপুষ্টি, দুর্নীতি আর কর্মহীনতার দহন। 


অতিমারি আর বিভিন্ন যুদ্ধে লক্ষ লক্ষ মানুষের অকালে চলে যাওয়া আমাদের বিচলিত করে না। ভেঙে পড়া অর্থনীতিতে নতুন করে যুদ্ধ চাপিয়ে সাধারণ মানুষকে আরো আরো অন্ধকারের আবর্তে ঠেলে দিই।


আমরা বছর বছর বড়দিন পালন করি, বড় হয়ে উঠতে পারি না।


অশ্রুসিক্ত চোখে পরম করুণাময় পিতা বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকেন আমাদের দিকে। আমরা ভুলে যাই জেরুজালেমের বদ্ধভূমিতে ছয় ঘন্টা তিনি ক্রুশ- এ বিদ্ধ হয়ে ছটফট করেছেন। তাঁর প্রিয় শিষ্য জুডাস ৩০ টি  রৌপ্যমুদ্রার বিনিময়ে ধরিয়ে দিয়েছে তাঁকে।


ক্রুশ থেকে তাঁর রক্তধারা এখনো প্রবাহিত সারা পৃথিবীর বুকে। 


তবু তিনি স্বপ্ন দেখেন, দেখেই চলেন। 

সত্যবদ্ধ মানুষ একদিন ঠিক জেগে উঠবে, নিয়ে আসবে জাগরণের ভোর। 

কারণ মানুষকে ভালোবাসেন, বিশ্বাস করেন তিনি। মানুষ যে অমৃতের সন্তান। 


বড়দিনে এখনো চিঠি আসে। 

অমর্ত্য থেকে মাটির পৃথিবীতে 

তাকিয়ে থাকেন পরিত্রাতা যিশু।


------------------------------------------------------------------

কাব্যগ্রন্থ - ভালো থেকো ভালোবাসা  ( আনন্দ প্রকাশন, প্রকাশ - আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলা ২০২৪)

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ