পোস্ট বার দেখা হয়েছে

আজকাল জীবনটা কেমন যেন অস্থির হয়ে উঠেছে। সবই আছে, আবার যেন কিছুই নেই। একটা সময়ে অন্ধকার কেন এত আপন হয়ে ওঠে? এসব কথা বলতে গেলে লোকে বলে আমি নাকি অবসাদগ্রস্থ। অবসাদ বলতে আসলে আমরা কী বুঝি? একটি ঘরে একা শুয়ে শৈশবের স্মৃতিচারণ করাকে যদি আপনি অবসাদ বলেন, তবে হয়ত অবসাদ নামের কোন নির্মীয়মান প্রাসাদ আপনার একাকীত্ব কাটানোর দায়িত্ব নিয়েছে বলা যায়। আসলে অন্ধকারের অর্থ যদি কালো হয়, তবে আমি খুব ভালো করে প্রদীপের পিছন দিকটা চিনি। কখনো কখনো কালোকে নিজের অন্তরাত্মা ভেবে ভুল হয়ে যায়। আর যখন বারবার ছুঁয়ে দেখতে চেষ্টা করি সেই বন্ধ ঘরের জানালাগুলো, তখন কে যেন এসে বলে - তোমার মধ্যে বাস করে এক নির্বাসিত রাজপুত্র।
আমি বন্ধ ঘর বরাবর ভালোবাসি। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে পুরনো দিনের কথা ভাবলে অবসাদকে লালন করতে হয় নিজস্বতায়। তবে আগামী জীবন এবং ফেলে আসা পথের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করতে করতে কখন যেন মন দিই নক্ষত্র পর্যবেক্ষণে।
কেন বারবার মনে পড়ছে একদিন গঙ্গার ধারে একসাথে চাঁদ দেখেছিলাম। আপনারা নিশ্চয় এখন ভাবছেন আমি কার কথা বলছি। তাই তো? হয়তো আমি সবচেয়ে উজ্জ্বল মোমবাতিটার কথাই বলছি। ধরে নিন চাঁদ আর শৈশবের মধ্যে সম্পর্ক নিরূপণে আমি ব্যর্থ হয়েছি বারবার। আর তাই এই অন্ধকার ঘর আমায় প্রশ্ন করতে ছাড়েনি। অবসাদের অজুহাত দেখিয়ে আমিও নির্ভাবনায় উত্তর দিয়ে গেছি নিজের মত। আসলে সব উত্তরের পিছনে একটা কারণ খুঁজেছেন আপনারা। কিন্তু কোন কারণের পিছনে উত্তরের আকাঙ্ক্ষা করেননি কোনোদিন।
আচ্ছা একটা উত্তর দিন তো। নগ্নতাকে কখনও আঁচ করতে পেরেছেন আয়নার গভীরে? আমি এখনই ভাবছিলাম আদুরে নগ্নতার কথা। আর আপনি হয়ত সম্পর্কের পেন্ডুলাম গুনছেন। সেখানে নগ্নতা নামক অন্ধকার ঘরে বেড়ে উঠেছে আশ্চর্য স্থলপদ্ম। এমন অন্ধকার সত্যিই কি আকাঙ্ক্ষিত নয়? ঝলসে যাওয়া শরীর কেন নগ্নতা চায়? যেকোনো সুতোর ওজন তখন বিপর্যস্ত করে তোলে নিজেকে। চাঁদ আর নক্ষত্রের বিপরীতমুখী কোণে নিজেকে একেবারে একা লাগে। অথচ আমরা এটুকুই বুঝি না, যে ছায়া কেবল পৃথিবীর বুকেই পড়ে। তবে কি আপনি বলবেন ছায়াকে চিনতে যাওয়াও এক ধরনের অবসাদ? আসলে কখনো কখনো ভীষণ হাসি পায়। এই ধরনের কথাবার্তায় আমার ছায়া নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে। আর এর মধ্যেই কখন যেন বিলি হয়ে যায় আমাদের গোপন নগ্নতা। এমন একটি অন্ধকার ঘরেই যেভাবে হাঁটা শুরু করেছিলাম, আজ তার অনন্ত উদযাপন। তবে লিখতে বসলে আমার কলমে বারবার উঠে আসে তীব্র যন্ত্রণা এবং সংবেদনশীল গোপনীয়তার সম্পর্ক। এইটুকু অবসাদ সকলের জন্য ভীষণ জরুরী। ঘরের এই চার দেওয়ালে এখন অভিসারের অপেক্ষা। বাকি লেখাটুকু বাকি থাক। সব লিখে ফেললে হয়ত আপনারা সকলেই আমার সমস্ত গোপনীয়তা বিলি হয়ে যেতে দেখবেন। তখন এই অন্ধকার ঘরেই আমায় লজ্জা কুড়িয়ে তুলতে হবে একটু একটু করে।
0 মন্তব্যসমূহ