শ্রদ্ধার্ঘ্য : আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু || জয়দীপ চট্টোপাধ্যায়




পোস্ট বার দেখা হয়েছে

বিক্রমপুরের মাটি ছুঁয়ে জন্মেছিলেন এক হিরন্ময় আলো...

বিজ্ঞানলক্ষ্মীর বরপুত্র,

নির্লোভ, তেজস্বী, জ্ঞানতাপস 

জগদীশচন্দ্র বসু।


যার জীবনের শুরুতে আছে

ফরিদপুরের নদী-বাহিত শৈশব,

পিতার কঠোর মূল্যবোধ,

মায়ের উদারতা,

পরবর্তীতে স্ত্রী অবলার নির্মল তিতিক্ষা।

সমান্তরালে আছে এক প্রবল ইচ্ছাশক্তি।


শহর কোলকাতার হেয়ার স্কুল, 

সেন্ট জেভিয়ার্স, তারপর বিলেত।


মায়ের গয়না বিক্রির টাকায়

ডাক্তারি পড়া হলো শুরু 

কিন্তু সব ব্যবচ্ছেদের ক্লাস সহ্য হলো না। বারবার অসুস্থ হয়ে পড়লেন।


গাছপালা, আলো, শব্দ, প্রকৃতি

ডেকে নিল তাকে।

কেমব্রিজ, লন্ডন, ট্রাইপস, বিএসসি—

সবই হল,

কিন্তু যা হল না—

জীবনের সামনে মাথা নত করা।


দেশে ফিরে প্রেসিডেন্সিতে অধ্যাপনা—

শ্বেতাঙ্গদের চেয়ে অর্ধেক বেতন,

অন্যায় বৈষম্যের নিয়ত দহন।

প্রতিবাদ হিসেবে তিন বছর ধরে

বিনা বেতনে কাজ করে গেলেন,

কারণ জ্ঞান তাঁর কাছে

কর্তব্য, সাধনা,তপস্যা।



কালিদাসের 'মেঘদূত ' আর শকুন্তলার বনভূমি তাঁর হাতে পেল বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা।

মেঘে ভেসে যাওয়া বার্তার মতো

তার ছাড়া তরঙ্গ সংযোগ,

সবুজ বনানীর সম্ভাষণ থেকে জন্ম নিল 'ক্রেসকোগ্রাফ '।

যে যন্ত্রে ধরা পড়ল

গাছের নীরব স্পন্দন।

প্রমাণ হল—

প্রাণ কেবল দেহে নয়,

প্রকৃতির সর্বত্র বিরাজমান।


ডিএসসি, নাইট উপাধি,

রয়েল সোসাইটি, ভারতীয় বিজ্ঞান কংগ্রেস—

সম্মান তাঁকে অনুসরণ করেছে

যেমন আলো অনুসরণ করে সূর্যকে।


কিন্তু তিনি,

দেখিয়েছেন অন্য পথ।

শিক্ষার ভাষা মাতৃভাষা,

বিজ্ঞান সবার জন্য,

জনহিতের জন্য দান

চার লক্ষ টাকার সবটুকু।


১৯১৭-এ প্রতিষ্ঠা করলেন

বসু বিজ্ঞান মন্দির,

জ্ঞান ও গবেষণাকে  দিলেন  তীর্থস্থানের অমূল্য আসন।


আর জীবনের শেষ প্রহরে—

গিরিডির এক সকাল,

২৩ নভেম্বর—

অমৃতলোকে পাড়ি দিলেন তিনি।


কিন্তু উজ্জ্বল হয়ে রইল

বিশ্বাসের প্রদীপ—

মানুষের কল্যাণকামী শক্তি,

পরাজিত হয়ে, না থামার অমোঘ,

অদম্য মন্ত্র;

আর সেই গভীর উপলব্ধি—

“বিশ্বের বৈচিত্র্যের মধ্যে

যারা এককে খুঁজে পায়—

সত্য তাদের কাছেই ধরা দেয়।”


আচার্যের জীবন যেন

এক দীর্ঘ প্রতিজ্ঞা—

অবসাদ নয়, দুর্বলতা নয়—

“ভারত আমার কর্মভূমি।

এখানেই কর্তব্য আমার।”


আজও তাই তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে

আমরা বলি—


জ্ঞান যেখানে আলো,

সততা যেখানে শিকড়—

সেখানে বাতিঘর হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন

রেডিও বিজ্ঞানের জনক 

পদার্থ ও জীব বিজ্ঞানী

কল্পবিজ্ঞান রচয়িতা

অমর বিজ্ঞানতপস্বী,

জাতির অবিনশ্বর প্রেরণা


স্যার জগদীশচন্দ্র বসু।


---------------------------------------------

রচনাকাল - ২৩ নভেম্বর ২০২৫ 

কোলকাতা

Copiright reserved

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ