বহুবিধ জীবনের গতিপ্রকৃতি || সুমিতা চৌধুরী




পোস্ট বার দেখা হয়েছে

আজ সময়ের চাকায় জীবন পেণ্ডুলামের মতোই দুলছে ক্রমাগত। স্থিতিশীলতা গেছে পরবাসে কবেই। খুঁড়োর কলের চকমকি ঝুলছে সামনে মরিচীকার হাতছানিতে। আমরাও ছুটছি অবিরাম আপন বোধকে বেবাক বাক্স বন্দী করে।


   যদি যাপনের চৌহদ্দিতে পৃথক দুই পৃথিবীর বাস। কেউ অট্টালিকাবাসী আর কেউ ফুটপাথ নিবাসী। মাঝে আরো কিছু আছে দাগটানা রেখা, দুই দাঁড়িপাল্লায় ভাগ হয়ে। তবু মূলত এই দুই পরস্পর বিরোধী শিবির চর্চার কেন্দ্রবিন্দু জুড়ে থাকে হামেশাই। 

    অট্টালিকারা প্রাচুর্য্যের ভারেই ক্লান্ত। সুখকে অর্থমূল্যে কেনাই তাদের নেশা। বোঝে না বৈভব নামক খাঁচায় সুখপাখি বাঁচে না কিছুতেই।  তাই সুখ খরিদ করার নেশায় হতাশা নামক অসুখের আঁচড়ে তারা ক্লান্ত ধ্বস্ত,  ক্ষতবিক্ষত। মুক্তির আশে অহরহ নিজেকে বলি দেয় অকালে মৃত্যুর বেদিতে।

  আর ফুটপাথদের স্বপ্ন দেখা মানা অঘোষিত এই জীবনের ঘোষণায়। তারা রোজের নয়, মুহুর্তের চিন্তাতেই সারা। একটু গরম ভাতের গন্ধেই আত্মহারা। প্রকৃতির কোলে যাপনের চাদর বিছিয়েও তারা নিত্যই সেই প্রকৃতির শিকার হয়, যতোটাই হয় এই সমাজ তথা রাষ্ট্রের তথা মানুষের পাতে। গ্রীষ্মের দহন, বানভাসি মরসুম, করাল শীতের থাবায় রোজই লড়াই শেষে শহীদ হয় তারা। যেমন শহীদ হয় মান-হুঁশ হীন মানুষের লোভ-লালসা-কামের থাবায়, হিংসার জমিতে।


  এরপরও এ জীবন ঘিরে আজো কিছু প্রেম আসে, কিছু বসন্ত বাতাসকে সঙ্গী করে। কিছু ফাগ রচে অনুরাগের লালিমায়। ভালোবাসার উষ্ণতায় কিছু শীত ওম মাখে। কিছু স্বপ্ন বোনা হয় মন থেকে মনে, এক দিগন্ত বিস্তৃত পরিসীমায় উড়ানের কল্পনায়। নিয়মের বেড়াজাল ডিঙিয়ে কিছু বেখেয়ালী বাউল বাতাস ফেরারী ডাক দেয় ইচ্ছে ডানা মেলে দিতে। 

আবার কোথাও খুঁড়োর কলকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে কিছু সাহসী পা স্রোতের বিপরীতে পাড়ি দেয়। রুক্ষ জমি, খানা-খন্দের পথ, বাধার পাহাড়কে লেঙ্ঘে লক্ষ্য পথে থাকে অবিচল। তাই জীবন খাতায় তারা নাম তোলে স্বর্ণাক্ষরে কখনো আবিষ্কারে,  কখনো বা দ্রোহে। 


   আর এই সকল নানাবিধ, ভিন্ন ভিন্ন পথের ও মতের সওয়ারি নিয়ে বয়ে চলে জীবন  কখনো বা উজানে, কখনো ভাটায়। যদিও তার শেষ স্টেশন এক ও অভিন্ন মৃত্যুর পরোয়ানায়।



#

Sumita Choudhury 

Liluah,  Howrah 

Ph/Wa- 7003299023

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ