পোস্ট বার দেখা হয়েছে
আমরা যারা নব্বুই দশকের পূর্ব দিগন্তে রবি শস্যের
দানার মতো আগত হলাম, তারা সনাতনী এবং জেন জি দের মধ্যে কার মিসিং লিংক। কাজেই অমরা এই
ফাঁক তাল এক রকম জোড়াতালি, দিয়ে বেঁচে বর্তে থাকি। নস্টালজিয়ার মেরু থেকে যাত্রা করা নাবিক লেখক, বিশেষত লেখিকাদের ডিজিটাল কম্পাসের
সাধের রোববার গুলোর কালসিটে ধরা কানাচে উপচে পড়া বিস্তর অসুবিধা থাকা সত্ত্বেও, সুবিধা এই যে, অমরা স্বীয় পরম্পরা মেনেনিয়ে, যত্র তত্র নিবু নিবু চা বাগান এবং কমপ্ল্যান বয় (বা গার্ল) এর মতো
বাড়ন্ত ক্যাফে টেবিলে আড্ডা দিতে পারে। এদিক থেকে মস্ত গ্রীক বীর পুরুষের সাথে অবলীলায় আমাদের তুলনা চলতে পারে।
বিগত বছরের একটি ছোট ঘটনা এই প্রসঙ্গে বলা
বাহুল্য হয়ে দাঁড়িয়েছে, হয়তো ক্রমে সনাতনীদের দিকে পথের দেবতা ক্রমে এগিয়ে দিচ্ছে তার করুণা ধারায়। রোববার সকাল সকাল বাজারের থলে কিছু আণবিক গুরুত্ব পূর্ন কাজ আর বিরাট তৃষ্ণা নিয়ে বের হলাম। বাজার হয়েছে। বাকি কাজ যেনো মিটে ও মিটতে চায় না, এই রকম পরিস্থিতিতে তৃষ্ণা বেড়ে চলেছে - ভাবলাম সেইটেই নিষ্পত্তি হোক/ হওয়া দরকার আগে। পা এগিয়ে চললো একটা গ্রে সেলে ধূসর চা দোকানের দিকে। বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষার পর দোকানিকে কাকা সম্বোধনে অভিযোগ দয়ার করলাম, সামনের লোক (আমি সহ)দাঁড়িয়ে অথচ পেছনে যারা, ডাক আগে পড়ছে! ব্যাপার খানা কি? আমরা কি খবোনা চা, চা অমরা খাবোনা ? দোকানী তার, হিসেবের আভ্রান্ততার অকাট্য যুক্তি দিচ্ছেন, সেই সময় এক মিস্ত্রি বা মজুর খাটা লোক সহকর্মীকে চা খাওয়াতে , চাইলে সে অফার নাকচ করে জানালো ' চা চলবে না, বিষ দিতে বল ', দোকানির অকাট্য যুক্তির ফাঁক ফোকর গোলে ' বিষ' ঢুকে পড়ায় একটু হকচকিয়ে গেলেও, বুঝতে পারলাম বিষ হলো বিস্কিটের ক্ষুদ্র সংস্করণ। হ্যাঁ , এই দোকানের বয়ান গুলোতে বেশ ভালো ভালো বিস্কুট আছে বটে, চোখ গেলো। যা হোক , চায়ের ভার নিয়ে বেঞ্চে বসতে গিয়ে, ভুল ভাঙলো আমার , সেই লোকটা তার নিজের জন্য চা আর বন্ধুর জন্য বিষ দিতে বলায় - চা এর সাথে দোকানি যা দিলো সেটি দেখে, চক্ষু চড়কগাছ! মানুষের সচেতনতায় মুগুদ্ধ না হয়ে পারলাম না। চায়ের সাথে বিক্রিত জিনিসটি আর কিছুই না, বেশ কিছু গুটখার প্যাকেট। লোকটি চা পান করলো, আর বন্ধু স্থানীয় ব্যক্তি হাত বাড়িয়ে প্যাকেট গুলো নেবার সময়, বললো আজ বিষ খেয়ে মরবো। নিজের বুদ্ধিদীপ্তীর অসহায়তাকে কিছুটা ধিক্কার জানাতে জানাতে, ফেলে রাখা কাজের দিকে পা বাড়ালাম।
লোকটি সেদিন সত্যিই মরেনি। গুটখা খেয়ে কেউ মরে না, আমি অন্তত গুটখা খেয়ে সুইসাইডের কথা কখনো শুনিনি। গত পরশু সেই একই চায়ের দোকানে বসে চা খেতে খেতে পেলাম লোকটির মৃত্যু সংবাদ। ঠিক গুটখা খেয়ে, লোকটি মারা না গেলেও অতিরিক্ত বিড়ি আর গুটখা সেবন আর শরীরের অযত্নই, মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে যে, সেই নিয়ে পরশুর চা আড্ডায় কারো দ্বিমত ছিলনা।
.jpeg)
0 মন্তব্যসমূহ