পোস্ট বার দেখা হয়েছে
শঙ্করবাবুর আজ ডাক্তারি সেরে বাড়ি ফিরতে একটু বেশিই রাত হয়ে গেল। পথে গঙ্গার চরে ভালো ইলিশ মাছ উঠেছে দেখে লোভ সামলাতে পাড়লেন না। সেটা কিনতেও আরো কিছুটা দেরি হলো। ভূতচতুর্দশীর রাতে গ্রামের পথে রাত নটা মানেই লোক চলাচল কম। শ্মশানের কাছের মাঠটা অমাবস্যার নিশিতে আজ যেন একটু বেশী অন্ধকার। তাই মাঠে নামতেই তিনি সাইকেলের গতি আরো বাড়িয়ে দিলেন। কিছুটা এগুতেই তাঁর মনে হলো সাইকেলের প্যাডেল যেন আর ঘুরছে না। মাটিতে নেমে যেই সাইকেলটা ঝুঁকে দেখতে গেছেন ওমনি মনে হলো কে যেন পিছন থেকে তাঁকে টেনে ধরেছে। তারপর হঠাত্ চার পাঁচ টা সরু সরু হাত পা ওয়ালা সাদা ছায়া মূর্তি তাঁকে ঘিরে ধরে নাচতে লাগল আর নাকি সুরে বলতে লাগল," আঁহা কঁত বঁড়ো ইঁলিশ মাঁছ! কঁতো দিন খাঁই নি,,, কি মঁজা,,তোঁকে খাঁবো, মাঁছ খাঁবো। ধঁড় ধঁড় বেঁটাকে ধঁড়।" ভয়ে আতঙ্কে ঘর্মসিক্ত ডাক্তারবাবুর গলা শুকিয়ে কাঠ। হৃত্পিণ্ডটা বুঝি লাফিয়ে হাতে চলে আসবে! ভালো করে শ্বাসটাও নিতে পারছেন না, দম বন্ধ হবার উপক্রম! কোনো কিছু ভালো করে বোঝার আগেই দেখলেন তার সাইকেলে ঝোলানো মাছ আর ব্যাগটা হঠাত্ উধাও এবং ছায়ামূর্তি গুলোও অন্ধকারে কোথাও মিলিয়ে গেল। তিনি কোনো রকমে টালসামলিয়ে পড়িমরি করে সাইকেল নিয়ে পাড়ার দোকানে এসে স্বস্তির শ্বাস নিয়ে বসে পড়লেন। তারপর তাঁর খেয়াল হলো, আরে! খারাপ হয়ে যাওয়া সাইকেলটা ঠিক হয়ে গেল কি করে! দোকানে দু চার জন চেনা লোক পেয়ে তাদের সমস্ত ঘটনাটা সবিস্তারে বলেন। সব শুনে তাদের মধ্যে থেকে একজন ভারী গলায় বললে " শুনছি বেশ কিছুদিন হলো কিছু দুষ্টু ছেলে ভূত সেজে ভয় দেখিয়ে সব জিনিসপত্র লুট পাঠ করছে। বিশেষত যাদের সাথে কালী পুজোর চাঁদা সংক্রান্ত কোনো ঝামেলা হয়েছে তাদেরকেই বেছে বেছে টার্গেট করছে। তবে বিষয়টা থানায় জানানো দরকার এবার"। সব বুঝেশুনে শঙ্করবাবু আর দাঁড়ালেন না। "উফ! কি দিন এলো! জোর যার মুলুক তার! সেদিন কি কুক্ষনেই যে ছেলেগুলোর সাথে চাঁদা নিয়ে বচসায় জড়ালাম! তাহলে এমন এক ভুতুড়ে কাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে অত গুলো টাকা গচ্চা দিতে হতো না" মনে মনে আফসোস করতে করতে বিদ্ধস্ত ডাক্তার গৃহাভিমুখী হলেন।।

0 মন্তব্যসমূহ