পোস্ট বার দেখা হয়েছে
অরণ্য মন
গুচ্ছ গুচ্ছ কাশফুলের ভেতরে শুয়ে আছে এক টুকরো খেয়ালি রোদ্দুর
পাখির মতো ডানা মেলে উড়ে যাওয়ার অলিখিত উড়ান উপেক্ষা করে জড়িয়ে ধরে বিন্দু বিন্দু মেঘের আবির রাঙা টিপ
শরতের মতো একটা শিশির মোড়া দেয়াল আঁকতে গিয়ে তছনছ হয়ে যায় গোধূলির পাঁজর
কোন পরিচয়ে বাঁধি তবে আনুগত্য মেঘের অবিশ্রান্ত ওলান?
তবুও অপেক্ষার আদ্যসূত্র থেকে জন্ম নেয় একটি অদৃশ্য ভোর
তবে কি সে নৈঃশব্দ্যের ভৈরবী?
কেন যে অনুলিপিহীন স্পর্শের ছোঁয়ায় খসে পড়ে প্রাচীন চারুকলা?
ধূলিকণা জানে তাকেও আনত হতে হয়
রোদ ও বৃষ্টির মাঝে দূরত্বটুকু রেখে--
আমি মুগ্ধ হই পরিপূর্ণ সন্ধ্যার আবছা ঘুমে
নিঝুম আকাশের দিকে তাকাই
কাশবনের ভেতর থেকে জেগে ওঠে
নন্দন-সুন্দর অরণ্য মন।
====
বহমান
মনে হয় এই গোধূলি হাওয়াকেই আপন করে নিই
এখনও রাত অনেক দূরে-
নক্ষত্ররা লুকিয়ে আছে শ্যাওলামাখা উপকূলে
পায়ের নীচে অস্পষ্ট ধুলোর মহেঞ্জোদারো
বাতিল দৃশ্যের সফরে মধুময় ধোঁয়া
নীলকণ্ঠ পাখি, তুমি সমস্ত বিবর্ণ-বিষাদ ডিঙিয়ে উড়ে যাও পাথরের ঘ্রাণে,
শিউলি ফুলের আহ্বানে
শাঁখের আর্তনাদে
যতদূর ইচ্ছে হয় উড়ে যাও..
আমি মাঠের কোণে একাকী দাঁড়িয়ে থাকি পর্ণমোচী বৃক্ষের মতো
শুধু দু-একটা জোনাক-জ্বলা আলো জড়িয়ে ধরে শরীর এমনই আবেগে
যেন নিবিড় অরণ্যের এক বুনো গন্ধ
নীলকণ্ঠ পাখি আরেকটিবার ছুটে যাও পাহাড়ের সমস্ত নীরবতা ভেঙে
নৈঃশব্দ্য যেমন নদী হয়ে ভাঙে ঝাউবন।

0 মন্তব্যসমূহ