পোস্ট বার দেখা হয়েছে
নক্ করতেই দরজার অপার থেকে আওয়াজ শোনা গেলো, "দাঁড়া আসছি।"
মিনিট দুয়েক অপেক্ষার পর খানিকটা জোরে নক্
আবারও উত্তর এলো, "দাঁড়া আসছি।"
দরজার বাইরে থেকে শোনাযাচ্ছিল টয়লেট ভিতরে বালতিতে জল পড়ার শব্দ। সুজু ভাবলো হয়তো বাথরুমে আছে।
মিনিট পাঁচেক পরে ডাক দিল, " কি রে দরজাটা খোল।
এবারেও একই উত্তর।
হাফহাতা টিশার্ট পড়নে , হালকা ঠান্ডা হওয়ায় সুজু কেঁপে উঠলো।
বিরক্ত হয়ে পকেট থেকে মোবাইল বেরকরে ফোন করল খানিক রেগে গিয়েই বললো, " কি রে কতক্ষণ থেকে বলছিস 'দাঁড়া আসছি', কতক্ষণ দাঁড়াব আর।"
পিলু উত্তর দিলো, "এই আমরা ৪১২ নাম্বার রুমে আছি সবাই, তুই এখানে চলে আই। আমি রুম লক্ করে এসেছি ।"
কথাটি শুনে সুজুর শরীর যেনো ঠান্ডা হয়েগেল আর গায়ের লোম দাঁড়িয়ে গেলো। সেকেন্ডের ব্যবধানে সে সেখানে গিয়ে দেখলো সকলে বিছানায় বসে আড্ডা দিচ্ছে। চাবি নিয়ে সেই দরজা খুলে দেখলো ঘর গাঢ় অন্ধকার, দুপাশে জড়িয়ে থাকা কাঁচের জানালা দিয়ে দিব্বি কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যাচ্ছে। কৌতুহল নিয়ে সে বাথরুমে গিয়ে দেখলো বালতি খালি। মেঝেতে জলের কোনো চাপ নেই। আতঙ্কিত হয়ে সে তৎক্ষণাৎ তার বন্ধুদের সাথে যোগ দিলো।
পিছু, সাহেব, আব্দুল, সুজু দুর্গাপুজোর পর বাইক করে পাহাড়, জঙ্গল বেড়াতে যাবে বলে বেরিয়েছিল। ঠিক ছিল প্রথমে পাহাড় তারপর জঙ্গলে যাবে তারা। সেইমত পাহাড় ফিরে ডুয়ার্সের এক নামী রিসর্টে তারা ওঠে। ৪১২ আর ৪১৪ । চারতোলায় মোবাইল নেটওয়ার্ক ঠিক ঠাক না থাকায় সন্ধ্যের জলখাবার অর্ডার করার জন্য সুজুকে নিচে রিসেপশন পর্যন্ত যেতে হয়।
সুজু পিলুকে বলে, "তুই রুমেই থাকিস, আমি চটপট অর্ডার দিয়ে আসছি, তারপর একসাথে পাকোড়া খেতে খেতে আড্ডা দিব।"
বড়জোর পাঁচ মিনিট সুজু ফিরে এসে ৪১৪ নাম্বার রুমের দরজায়, "ঠক্ ঠক্ পিলু দরজা খোল।"
"দাঁড়া আসছি।"
এর পর কেটে যায় বছর দুয়েক। এবারে সুজু তার সাধের চারচাকা নিয়ে স্যারের সাথে জঙ্গলে তার ফ্ল্যাটে আসে। চারজনে ছুটির চার দিনে স্বস্তির শ্বাস নিবে বলে।
বালকনিতে বসে হঠাৎ স্যার বললেন, "চলো রাতের জঙ্গলের একটু রোমাঞ্চকর অনুভূতি নিয়ে আসি।"
যেমন ভাবনা তেমন কাজ। যদিও সাগর একটু ভয় ভয় পাচ্ছিল। গাড়ির হেডলাইট ডিপারে দিয়ে তারা বেরিয়ে পড়ল।
মূর্তির ধারে চা, মোমো, পাকোড়া হাতে আড্ডায় একটু দেরি হয়েগেল।
স্যার বললেন,"চলো একবারে রাতের খাবার খেয়ে ফ্ল্যাট ফিরব। একটা শর্টকাট, আছে জঙ্গলের গায়ে ঘেঁষে রাস্তা একবারে চালসার কাছে গিয়ে উঠবো ।"
চালককের আসনে সুজু এবং সকলেই সহমত। রাস্তা দিয়ে যেতে যেতে সব হোটেল, রিসর্ট দেখতে দেখতে সকলে নিজের অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করছিলো। এমন সময় স্যার মহাশয় এক রিসর্টের দিকে তাকিয়ে বলে উঠলেন,
" এই দেখ! তোমাদের একটা সত্যিকারের ভূতের ঘটনা শোনাই। "
সাগর হঠাৎ বলে উঠল, " না না ! জঙ্গলের এই অন্ধকার রাস্তা দিয়ে যাব না, অন্য রাস্তা দিয়ে চলো। " আর একজন চুপচাপ গোটা জার্ণী জুড়ে মধ্যপন্থা অবলম্বনে চলল।
সুজু কৌতুহলী হয়ে জিজ্ঞেস করল, " সত্যি? সত্যি ভূতের ঘটনা?"
স্যার, " এই যেটি দেখলে সেটির চার তোলার চৌদ্দ নাম্বার রুমে চার বন্ধুর ভূত আছে। "
সুজুর যেন ঠান্ডা ধরল। চমকে পেছন ফিরে স্যারের দিকে তাকাতেই গাঢ় অন্ধকার জঙ্গলের ভাঙ্গা পাথুরে রাস্তায় ইঞ্জিন এবং হেডলাইট দুটিই নিভে গেলো।
.jpeg)
1 মন্তব্যসমূহ
খুব সুন্দর.... পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় রইলাম
উত্তরমুছুন