সংলাপধর্মী কবিতা / কথাবার্তা - ৯ || জয়দীপ চট্টোপাধ্যায়




পোস্ট বার দেখা হয়েছে

সুদর্শনা - কি ব্যাপার বারবার ফোনটা কেটে দিচ্ছ, যখনই ট্রাই করছি, সুইচ অফ সুইচ অফ, কখনো নট রিচেবল..


রুদ্রনীল - বুঝতে চেষ্টা করছিলাম ম্যাডাম, টেনশন হলে তোমাকে ঠিক কেমন দেখায়, রেগে যাও না অভিমান কর, তোমার হার্টবিট, পালস রেট কত হয়, কতটা কোথায় ঘেমে যাও ...


সুদর্শন - ইয়ার্কি  কোরো  না, সকাল থেকে সমস্ত মোবাইল বন্ধ করে রেখেছো। 


রুদ্রনীল - দেখছি আমার জন্য পৃথিবীতে তাহলে এখনো কেউ একজন ভাবে, অপেক্ষা করে। 


সুদর্শনা - অনেক হয়েছে, শোনো কাজের কথা বলি।


রুদ্রনীল-  তুমি তো সবসময় কাজের কথাই বলো। রক্তমাংসের মানুষটার দিকে তাকালে কই !


সুদর্শনা - এই এই একদম ভালো হবে না বলছি।


রুদ্রনীল - ওকে ওকে,  আমি সিরিয়াস, এবার বলো কি ব্যাপার ?


সুদর্শনা  -  দিল্লি থেকে চাকরির একটা অফার এসেছে। মিনিমাম দু বছরের এগ্রিমেন্ট বন্ডে সই করে জয়েনিং।  ওরা ২৪ ঘন্টার মধ্যে মেল করতে বলেছে। 

ভালো প্যাকেজ, এখন কি যে করি !


রুদ্রনীল-  বাহ, খুব ভালো কথা। 

এখানকার চাকরি ছেড়ে, কালই রওনা হচ্ছ না পরশু সকালের ফ্লাইটে ?


সুদর্শনা - মশাই সেটাইতো ভাবছি। কি যে করি !


রুদ্রনীল - বেশতো এক কাজ করো, আমাদের ট্রাভেল 

এজেন্টকে বলো দুটো টিকিট বুক করতে। একটা দিল্লি আরেকটা গোয়া। 


সুদর্শনা - গোয়া কেন ?


রুদ্রনীল- গোয়া থেকে তানজিনা, অনেকদিন ধরেই ওর ম্যাগাজিনের কর্পোরেট হাউসে জয়েন করতে বলছে। এতদিন মেয়েটাকে অনেক কষ্টে ঠেকিয়ে রেখেছিলাম। ভালই হল তুমি দিল্লি রওনা হলে, আমি পরের ফ্লাইটে গোয়া রওনা হবো। কোনো চিন্তা নেই, তানজিনার পাশের ফ্ল্যাটেই থাকবো। 


সুদর্শনা - হিংসুটে দ্যা গ্রেট! আমাকে চোখের আড়ালে কোথাও ছাড়বে না, তাই না !


রুদ্রনীল - এ জন্মে তো নয়ই। বিশ্বাস করো, পরের সাত জন্মেও না। 


---------------------------------------------------------------------

কথাবার্তা সিরিজের রচনাকাল ও গ্রন্থ প্রকাশ- ২০০৮ # copiright reserved

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ