অন্ধকার থেকে আলোয় ফেরা || নীলাঞ্জনা ভৌমিক




পোস্ট বার দেখা হয়েছে
ভারতবর্ষ আমাদের মাতৃভূমি। আপামর ভারতবাসীর হৃদয়ে এই দেশ ' মাতৃরূপেণ সংস্থিতা '। সাতশ বছর মোঘলদের এবং দুশ বছর ইংরাজদের অধীনে থেকে ভারতবর্ষ বহুদিন অন্ধকারে তলিয়ে গিয়েছিল। পরাধীনতার আগুনে দগ্ধ হতে হতে , অপশাসন ও শোষণ তাদের এমন পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিল যে শিক্ষা, সামর্থ্য , সংস্কৃতি,দয়া, করুণা , ভক্তি ---- সব ঐশ্বরিক গুণ হারিয়ে প্রায় নিঃস্ব হয়ে পড়েছিল। জমি হারিয়ে , সম্ভ্রম হারিয়ে , অর্থনৈতিক স্বাধীনতা হারিয়ে প্রায় বর্জ্য পদার্থে পরিণত হয়ে পড়েছিল। বিশ্ববিখ্যাত নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছাত্ররা পড়তে আসত। প্রণম্য ও পরম শ্রদ্ধেয় আচার্য শীলভদ্র আজও ভারতের আত্মায় প্রতিষ্ঠিত। মেয়েরা সম্ভ্রম রক্ষার কারণে গৃহবন্দী হয়ে পড়ল। এতো সমস্যার পাঁকে পদ্মফুলের বার্তা নিয়ে এলেন স্বামী বিবেকানন্দ যিনি অচেনা নিঃস্ব ভারতকে বিশ্বের দরবারে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন , রাজা রামমোহন রায় যাঁর আশীর্বাদে মেয়েরা পর্দা সরিয়ে সূর্যালোকস্নাত হয়ে জ্ঞানের আলোয় প্রকাশিত হতে লাগল, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের দয়ার সাগরে ভেসে অকাল বৈধব্যের কঠিন জীবন থেকে মুক্তির পথ খুঁজে পেতে লাগল , জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়ির বাতাসে যে সুর ভাসতে শুরু করেছিল তা একদিন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের হাত ধরে বিশ্বের দোরগোড়ায় পৌঁছে গিয়ে দেশের সংস্কৃতিকে উচ্চমানে বইয়ে দিতে লাগল। জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়ির অন্দরমহলে যেমন পশ্চিমের আলো এসে পড়াতে মেয়েরা শিক্ষার হাত ধরতে পেরেছিল সেই আলো যেন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়তে লাগল। জাতীর যে মেরুদন্ড অত্যাচারে আর শোষণে প্রায় বেঁকে যেতে বসেছিল সেই মেরুদন্ডকে সোজা ও দৃঢ় করতে এগিয়ে এলেন নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু , মহাত্মা গান্ধীর মত মহান নেতৃবৃন্দ। ব্রিটিশদের  ভারত ছাড়া করার জন্যে সারা দেশ গর্জে উঠতে লাগল। ভারতমায়ের দেশপ্রেমিক বহু সন্তানদের 

প্রাণ যেতে লাগল। ভারতমায়ের বুক তাঁর সন্তানদের রক্তে লাল হয়ে যেতে লাগল। চোখ বেয়ে অশ্রু ঝরতে লাগল। ইংরাজরা দেশ ছাড়তে বাধ্য হলেন। শৃঙ্খলমুক্ত ভারতমাতা সারা ভুখন্ডে  তাঁর আশীর্বাদী আলো ছড়িয়ে দিলেন। অন্ধকারের দীর্ঘ  যাত্রাপথের শেষ হল। স্বাধীনতার হাত ধরে আবালবৃদ্ধবণিতার মুখে হাসি ফুঁটে উঠল। জয় ভারতমাতার জয়

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ