শ্রদ্ধার্ঘ্য : কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী ||জয়দীপ চট্টোপাধ্যায়




পোস্ট বার দেখা হয়েছে

ফরিদপুরের মাটিতে জন্ম 

কিন্তু শৈশব, যৌবন, সারা জীবন কাটল শহর কোলকাতায়।

এক হাতে কলম, অন্য হাতে সংবাদপত্র।

মানবতার পূজারী, নির্ভীক মননশীল কবি—

নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী।


তিনি শিখিয়েছেন কবিতার মাধ্যমে

সমাজের ভন্ডামীর মুখোশ ছিঁড়ে ফেলতে,

অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে,

মানুষকে ভালোবাসতে।


তাঁর কলমে সহজ সরল ভাষায় ফুটে উঠেছে

বাস্তব চরিত্র, চিত্রিত হয়েছে জীবন।

যেখানে মানুষ খুঁজে পায় নিজের প্রতিচ্ছবি।


‘নীল নির্জন’ থেকে ‘উলঙ্গ রাজা’,

‘প্রথম নায়ক’ থেকে ‘রূপকাহিনী’—

প্রতিটি গ্রন্থে তিনি রেখে গেছেন সংবেদনশীল কবি হৃদয়ের প্রতিচ্ছবি।


'একাডেমী পুরস্কার' তাঁকে সম্মানিত করেছে,

কিন্তু তাঁর সবচেয়ে বড় পুরস্কার—

পাঠকের হৃদয়, মানুষের ভালোবাসা।


তিনি ছিলেন সম্পাদক, পথপ্রদর্শক,

আনন্দমেলার শিশুদের স্বপ্নস্রষ্টা।

তবু সব কিছুর ওপরে 

তিনি ছিলেন কবি, মানবতার সৈনিক।


তিনি শিখিয়েছেন—

“অন্ধকারে আলো দিতে হলে আরো কিছু দিতে হয়,

প্রেম দিতে হয়।”

তিনি বলেছেন—

“রাত্রিকে ভয় পেয়ো না,

রাত্রির গর্ভেই জন্ম নেয় উজ্জ্বল সকাল।”


তিনি লিখেছিলেন -

"বরং দ্বিমত হও, আস্থা রাখো দ্বিতীয় বিদ্যায়। 

বরং বিক্ষত হও, প্রশ্নের পাথরে বরং বুদ্ধির নখে 

শান দাও, প্রতিবাদ করো।

অন্তত আর যাই করো সমস্ত কথায় অনায়াসে সম্মতি দিও না। কেননা সমস্ত কথা যারা অনায়াসে মেনে নেয়, তারা আর কিছুই করে না। 

তারা আত্মবিনাশের পথ পরিষ্কার করে।"


তাঁর নাম উচ্চারিত হলেই

আমরা অনুভব করি—

কবিতার চেয়ে কবি বড়,

আর কবির চেয়ে বড় তাঁর ব্যাপ্ত প্রসারিত হৃদয়, মানবিকতা।


হাজারো প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও ক্লান্তিহীন, 

অমলকান্তিরা আজও রোদ্দুর হতে চায়...


টলোমলো পায়ে, স্বপ্নচোখে আজও রাজপথে 

হেঁটে যায় -  কোলকাতার যিশু.....


সময়শরীরে কবির স্বপ্ন জেগে থাকে।

কাল থেকে কালান্তরে।  

ভালোবাসার  হিরন্ময় বাতিঘর হয়ে।


---------------------------------------------

কবির জন্মদিবস -  

১৯শে নভেম্বর ১৯২৪,


কবিতাটির রচনাকাল - ০৪.১০.২০২৫, কলকাতা

Photo Courtesy - Google

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ