পোস্ট বার দেখা হয়েছে
শ্রদ্ধার্ঘ্য : ভারতরত্ন এ. পি. জে. আবদুল কালাম
(জন্মদিবস ১৫ অক্টোবর)
(জয়দীপ চট্টোপাধ্যায়)
---------------------------------------------
রামেশ্বরমের নোনা হাওয়ায়,
এক কিশোর রোজ সকালে কাগজ বিক্রি করে ট্রেনের জানলায় জানলায়।
তখনও কে জানতো,
সেই কিশোরটি একদিন হবে ভারতের স্বপ্নের প্রতীক,
অগ্নির ডানায় ভর করে ছুঁতে চাইবে নক্ষত্রের সীমা।
এক দরিদ্র মৎস্যজীবীর পুত্র,
জল আর লবণের আবহে জন্ম,
কিন্তু তার চোখে ছিল অন্য আলো —
এক অদম্য দীপ্তি,
যা কোনো দারিদ্র্য, কোনো ব্যর্থতা,
কখনও নিভিয়ে দিতে পারেনা।
ভোর চারটেয় উঠে
পড়ার টেবিলে বসা, সেই কিশোরটি তখনই হয়তো
জানতো —
স্বপ্ন মানে শুধু দেখা নয়,
স্বপ্ন মানে জেগে থাকা!
সে বলেছিল, “ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে যা দেখো তা স্বপ্ন নয়,
স্বপ্ন সেটাই — যা তোমাকে ঘুমোতে দেয় না।”
তিরুচিরাপল্লীর সেই কলেজ থেকে শুরু,
তারপর নীল আকাশে উড়ে যাওয়ার স্বপ্ন—
যুদ্ধবিমান চালকের আসন একটুর জন্য না পেলেও,
সে থেমে যায়নি।
কারণ, ঈগল কখনও বৃষ্টিতে আড়াল খোঁজে না,
সে উড়ে যায় মেঘের ওপর।
বিজ্ঞান তার সাধনা, দেশ ছিল তাঁর ধর্ম,
ডি.আর.ডি.ও থেকে পোখরান,
‘স্মাইলিং বুদ্ধ’ যেন এক মৃদু বিস্ময়—
যেখানে ক্ষেপণাস্ত্রের ধোঁয়ার মধ্যে লুকিয়ে ছিল
জাতির আত্মবিশ্বাস, সার্বভৌমত্ব।
তিনি ছিলেন সেই ‘মিসাইল ম্যান’,
যিনি বিজ্ঞানকে মানুষের হৃদয়ে পৌঁছে দিয়েছিলেন।
রাষ্ট্রপতি হলেন,
কিন্তু প্রাসাদের উজ্জল আলোয়
হারিয়ে গেলেন না—
রইলেন আগের মতো সহজ সরল, স্বপ্নদ্রষ্টা, বিনয়ী।
সেই জন্যই তিনি ছিলেন
'জনতার রাষ্ট্রপতি,'
যিনি হাজার হাজার কিশোরের চোখে জ্বালিয়েছিলেন আশার আলো...
“প্রত্যেক শিশুর পনেরো বছর বয়সের আগে
তার জীবনের লক্ষ্য স্থির করা উচিত”—
এই ছিল তাঁর মন্ত্র,
তাঁর প্রার্থনা।
তিনি বলতেন—
“যিনি সবাইকে জানেন তিনি শিক্ষিত,
কিন্তু যিনি নিজেকে জানেন, তিনিই জ্ঞানী।”
রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে বেরিয়ে
তিনি ফিরে এসেছিলেন শ্রেণিকক্ষে,
কারণ তাঁর আসল সিংহাসন ছিল সবুজ মনের গহনে।
শিলংয়ের মঞ্চে, বক্তৃতার মাঝখানে
যখন তাঁর প্রাণস্পন্দন যায় থেমে,
তখনও তিনি ক্লাস নিচ্ছিলেন..
শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কীভাবে লড়াই করে বাঁচতে হয়!
আজও যখন কোনো শিশু
আকাশের দিকে তাকিয়ে ভাবে—
আমি একদিন বড় হব, আমি একদিন উড়ব—
সেই ডানার নিচে
এ. পি. জে. আবদুল কালামের অগ্নিপক্ষ,
অদৃশ্য আশীর্বাদের মতো জেগে থাকে।
তিনি নেই, কিন্তু তাঁর স্বপ্ন আছে,
তাঁর বিশ্বাস আছে—
তাঁর জন্মভূমি ভারতবর্ষ একদিন
জ্ঞান, বিজ্ঞান ও মানবতার দিশায়
সারা বিশ্বকে দেখাবে পথ।
তিনি ছিলেন - আলো,
অনন্ত প্রেরণা হয়ে আজও
বেঁচে আছেন তিনি।
দেশের প্রতিটি তরুণের স্বপ্নে,
প্রতিটি বিজ্ঞানীর চিন্তায়,
অদম্য ইচ্ছেশক্তির প্রতীক হয়ে।
প্রতিটি ভারতবাসীর প্রগতির জয়যাত্রায়।
--------------------------
Photo courtesy - Google

0 মন্তব্যসমূহ