পোস্ট বার দেখা হয়েছে

পথই বেঁধে দেয়, পথই আবার নিয়ে যায় পথিককে। গন্তব্যে নিয়ে যাওয়ার পিছনে পথের যে কী ভুমিকা সেটা বুঝি কেউ খেয়াল রাখেনি। কত মানুষই তো পথ দিয়ে হেঁটে যায়,বিশ্রাম করে, একবারও কি ভুলেও ভেবে দেখেছে কে তাদের জন্য এই পথ নির্মাণ করেছে? পথের শেষ টুকু বোধকরি মহাকালের বুকে মিলিত হয় তলিয়ে যাবার জন্য। তাহলে কীসের জন্য এত জাতপাতের বিভেদ?
'তু কুথা থেকে এসেছিস বিটি,তুমাকে তো আগে দেখি নাই এদিক পানে? কুথায় ঘর বেটে ? কুথা থেকে আইসছ?' বুড়া ভীমার গলার আওয়াজ পেয়ে মুখ তুলে চাইলো ছোটন। এতক্ষণ ঝুপড়ি ঘরটায় বসে মাটির মধ্যে ভাবনার আঁকিবুঁকি করে চলেছিল। ভেবেছিল আজকে হয়তো চামড়া পোড়া কটু গন্ধের হাত থেকে মুক্তি মিলবে। কিন্তু কোথায় কী! এই ঝড়জলের রাতেও মন্দিরে মরা নিয়ে হাজির কয়েকজন। ফুল বেড়িয়া সরকারি হাসপাতালে বৈদ্যুতিক চুল্লি আছে কিন্তু বছরের অর্ধেক দিন অকেজো। ফলে ফুল বেড়িয়া সহ আশেপাশের এলাকার ভরসা এই মহাকালের মন্দির। গ্রামের মানুষ রসিকতা করে গাল ভরা একখানি নাম রেখেছে মণিকর্ণিকার ঘাট। খেটে খাওয়া মানুষ গুলোর স্থির বিশ্বাস মহাকালের মন্দির হলো স্বর্গের দরজা। ভীমার ইচ্ছে ছিল না ছেলে এই কাজে নামুক। গাঁয়ের ইস্কুলে মাস্টারের সাথে কথা বলে ভর্তি করে দিয়েছিল। দশম শ্রেণীতে পড়ার সময় ক্লাসের একটি মেয়েকে মন দিয়ে বসে। মেলামেশা যখন তুঙ্গে সেই সময় ছোটনের আসল পরিচয় জানতে পারে। ক্লাস ভর্তি সকলের সামনে সেদিন শুনতে হয়েছিল 'তোদের হাতে জল খাওয়াও পাপ'। বাড়ি ফিরে বইখাতা ছুঁড়ে ফেলে ভীমার বাঁশখানা হাতে তুলে নিয়েছিল।
পায়ে পায়ে বেরিয়ে এলো ঝুপড়ি থেকে। প্রায় এক যুগ পরে হলেও চিনতে অসুবিধা হয় না।
নারীমূর্তিটি পায়ের কাছে হুমড়ি খেয়ে পড়ে। বলে 'করোনা তে মারা গেছে আমার স্বামী। কোথাও দাহকার্য হয়নি। উদ্ধার করো বাবা'।
সমাপ্ত
0 মন্তব্যসমূহ