পোস্ট বার দেখা হয়েছে
মোটের উপর কবিতা একটি নারী
মনোজ কুমার রথ ( শ্রীমান অকুলীন )
শব্দের সমুদ্রে অবগাহন করে
রোজ উনুনে কাঠ দেয় আমার কবিতা...
কখনও সে মমতাময়ী মা,
কখনও স্নেহময়ী ভগ্নি,
কখনও বা প্রেমের ভাণ্ড হাতে প্রেয়সী অর্যমা...
কখনও আবার মাতঙ্গিনী- প্রীতিলতা- কল্পনা দত্ত
কিংবা লক্ষ্মীবাঈ সাজে সুন্দরী কবিতা,
কখনও বা কেষ্ট মাঝির বউ!
প্রতিবারই শব্দের সমুদ্রে অবগাহন করে
উনুনে কাঠ দিয়ে আগুন জ্বালায় সে...
কখনও সেই আগুনে কর্পূর দেওয়া জল গরম করে
মায়ের মতন মুখের সামনে বসিয়ে দেয়
বুকে জমে থাকা সর্দি নরম করার জন্য
ইষদুষ্ণ ভাপ নিতে,
হালকা আঁচে জমে যাওয়া গাওয়া ঘি গলিয়ে
আমার আর ভাইয়ের হাতে তিনচামচ করে দিয়ে
ভাইফোঁটার দিন যমের দুয়ারে কাঁটা দিয়ে দেয়,
রোজই সেই আগুনেই
মাটির হাঁড়িতে শাদা শাদা ভাত ফোটায়
আমার প্রেমদাত্রী গৃহিনী,
কখনও রক্তজবা আগুনে অস্ত্র গরম করে শান দেয়.... যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হয় গোপনে গোপনে,
কিংবা সেই কেষ্ট মাঝির বউয়ের মতন
দোহারা শরীরটাকে আগুনের সামনে সেঁকতে সেঁকতে
জুবুথুবু পৌষের সকালে ধান সেদ্ধ করে নবান্নের জন্যে।
সব ঘরেই কবিতা আছে,
সবজায়গাতেই সুখে কিংবা চরম দুঃখে দিন কাটায়
অজস্র অজস্র কবিতা...
মোটের উপর কবিতা একজন নারী।
.jpeg)
0 মন্তব্যসমূহ