২২শে শ্রাবণ শ্রদ্ধার্ঘ্য ২০২২ || পর্ব -২




পোস্ট বার দেখা হয়েছে

রবি রশ্মি 

অজিত কুমার সিংহ 


সূর্যের আলোয় 

আলোকিত 

বিশ্বব্রহ্মাণ্ড।রবির

সাহিত্যের

আলোয় আলোকিত 

বিশ্বসাহিত্য।

===

নিরুপায় শরণ

প্রোজ্জ্বল রায় চৌধুরী 


যখনই  আসে পঁচিশে বৈশাখ, 

কিংবা বাইশে শ্রাবণ,

বাঙালী মননে হঠাৎ করেই,

জাগে রবীন্দ্র স্মরন।

আর তাই,

নন্দন থেকে পাড়ায় পাড়ায়,

মঞ্চ বেঁধে কবি প্রণামের 

হিড়িক যেন পড়ে যায়।

নাচে ,গানে, নাটকে ,  কাব্যে 

কিংবা বক্তৃতায়,

বশ্বকবি রবীন্দ্র নাথ,

যেন ভেসে যান শ্রদ্ধায়।

মঞ্চে দাঁড়িয়ে মাইক হাতে 

চুনোপুঁটি থেকে রাঘব বোয়াল,

বাক্য নদীতে ভাষণের ভেলা 

ভাসায় উড়িয়ে শব্দ পাল।

ছোটোখাটো  থেকে নামী শিল্পীরা,

ওনার  সৃষ্ট ললিত কলায়

নিজের প্রতিভা একঘেয়ে ভাবে

কেরানির মতো রোজ ঝালায়।।

 হুজুগ  ফুরোলে বিশ্বকবি,

ঠিক উঠে যান তাকে।

বাকি বছরটা মাচার  নাচেই,

ভিড় জমে ঝাঁকে ঝাঁকে।

 আর উনি আছেন, ধুলোয় মুড়ে,

বাঙালীর বুক সেল্ফ জুড়ে,

রবীন্দ্র রচনাবলী রূপে,

স্ট্যাটাস সিম্বল তুলে ধরে।


বছরের মাঝে বইগুলোতে‌ 

দৈবাৎ  হাত পড়ে

 টিভি আর ফোনে দিন কেটে যায়,

কে আর কষ্ট করে।

 এছাড়াও  কবি আছেন আলো করে,

স্কুল কলেজের সিলেবাসে,

খুদে থেকে ধেড়ে সব পড়ুয়াই

করে মুখস্ত ক্লাসে বসে


ওনার সব সৃজন ধারাকে,

তোতা বুলির মতোন,

কণ্ঠেই সব করল ধারণ,

বোধে করলনা বরণ।।

ওনার সেই মানব ভূমার

দৈব মহান চেতনা,

ওড়নার মতো জড়াল শরীরে,

আত্মায় তবু নিলনা।।

 বিশ্বকবির  অলোক চেতনা,

আছে কী বাঙালী মননে ?

থাকলে কী আর  বাঙালী সমাজ

যেতো কী অধ:পতনে?

অমানবিকতায়, নিষ্ঠুরতায়, 

মূল্যবোধের  শ্মশানে,

সৃষ্টি - কৃষ্টি - মনন  দৈন্যে,

চেতনার হীন মরণে,

বাঙালী সমাজ ধ্বংস আজকে,

যেন প্রাচীন সভ্যতা,

বিগত দিনের ইতিহাস যেন,

নিয়ে পড়ে আছে মূঢ় স্তব্ধতা।


তারই মাঝখানে রবীন্দ্রনাথ

যেন প্রাচীন সৌধ,

অতীত গরিমা - সাক্ষর হয়ে 

আছেন আলো  বিধৌত।


বাঙালী ওনাকে  স্মারকের মতো  

দেখায় বিশ্ব জুড়ে


নতুন কোনো সৃষ্টি এষণা 

কবেই তো গেছে মরে।


প্রতি ফি বছর এই দুই মাসে

পালা পর্বের মতো,

 কবি গুরুকে  শ্রদ্ধা জানিয়ে

হয় ফাংশন কত।

আর এভাবেই ওনাকে  ভাঙিয়ে

অর্ধ শতক ধরে,

সাংস্কৃতিক ব্যাবসা বাঙালী

চালায় দুনিয়া জুড়ে।


কিন্তু ওনার অলোক আদর্শে

তুলে প্রাণের ঢেউ,

চির উন্নত বাঙালী সমাজ

গঠনে নেই তো কেউ।

  রবীন্দ্রনাথ বাঙালীর কাছে,

কেবলই বাহ্য ক্যাপিটাল

ওনার  প্রতি দেখায় তাই,

মেকি শ্রদ্ধা ও মমতা,

ওনার ছাওয়ায় আড়াল করে 

মননের আকাল।

আড়াল করে বিশ্ব  জনিন

সৃজন অক্ষমতা

এভাবেই আজ   রবীন্দ্র নাথ

বাঙালী জাতীয় জীবনে,

হাতির দাঁত ই হয়ে  আছেন,

নেই আত্মায়, নেই চেতনায়

নেই মননে।

====

আজ ২২ শে শ্রাবণ। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের  মহাপ্রয়াণ দিবস। কবিগুরুকে জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা ও সহস্র প্রণাম

জয়ীতা চক্রবর্তী আচার্য


রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শুধু বাঙালিরই নন সমস্ত ভারতীবাসীর আবেগ ও ভালোবাসা। তাই তাঁর চলে যাওয়ার এত বছর পর আজও তিনি রয়েছেন আমাদের মন ও হৃদয় জুড়ে। আজও আমরা নিজেদের অজান্তেই গুনগুন করি " আমার পরান যাহা চায়." আর আজও "চিত্ত যেথা ভয় শূন্য" কবিতা মিশে রয়েছে নতুন প্রজন্মের সঙ্গে।

ঠিক কবে থেকে যে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ  ঠাকুরের কবিতা, ছড়া, ছোটগল্প, উপন‍্যাসের সাথে যোগাযোগ তাতো নিজেই বলতে পারবো না 

শুধু  বলবো হে কবিগুরু!


"তুমি ছাড়া কেহ সাথি নাই আর

সমুখে অনন্ত জীবন বিস্তার,

কাল পারাপার করিতেছ পার

কেহ নাহি জানে কেমনে"।

 কবি গুরুর প্রয়াণ তিথিতে  জানাই বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি 

====

শ্রাবণের বাইশে

অজয় কুমার দত্ত


এই দিনটি বারবার ফিরে আসে

   এই দিনটি নীরবেই ফিরে যায়

স্মরণে মননে কেটে যায় সারা দিন

   তারপর বিস্মৃতির অতল কিনারায়।


আমরা যারা সাধারণ গুণমুগ্ধ

   দূর হতে দেখি শুধুই রবীন্দ্রনাথেরে

গীতবিতানের পাতায় খুঁজি তাঁরে

   ডুবি সঙ্গীত অমৃতপাথারে।


দূর হতে আর পূজা আরাধনা নয়

   গুরুদেবের ভাবধারায় হয়ে দীক্ষিত

সকল গোঁড়ামি থেকে মুক্ত হয়ে 

   আমরা আর রব না অশিক্ষিত।


শ্রাবণের বাইশ জানাচ্ছে আহ্বান

     শ্রাবণী ধারায় পূত পবিত্র হয়ে

ধর্মান্ধতা দূর করো দেশ থেকে

     মিলেমিশে থাক সকলজনকে লয়ে।

====

 জন্মের প্রেমিক

 গীতশ্রী ভট্টাচার্য


তোমার মত ভালোবাসতে পারিনি কাউকে আজও।

কত প্রেমিক ফিরে গেছে শূন্য হাতে

দুয়ার থেকে,শুকিয়ে গেছে ওদের দেওয়া ফুল

হিংসে করেছে তোমাকে, তোমার আমার প্রেম কে।


তবু আমি তোমাকেই ভালোবেসে গেছি আজন্মকাল। তোমার ছবির মালা শুকোতে দেইনি কখনো

সতেজ করে রেখেছি আমার হৃদয় শোণিত দিয়ে।


তোমার লেখা থেকে রসদ নিয়েছি দুঃখ সুখে

তোমার জন্য কিছু করতে পারিনি কখনো।

শুধু নিয়েছি অঞ্জলি ভরে, তুমিও অকৃপণ

ঢেলে দিয়েছ ,উপচে দিয়েছ প্রাপ্যের অধিক।


তোমার না ফুরনো অসীম ভাঁড়ার থেকে

মুঠো ভরে এখনও নিয়ে আসি আমার 

বাঁচার পথ্য, আমার ফুসফুসের নিঃশ্বাস।


তুমি আছো বলে আমি এখনও 

ভালোবাসতে পারি এ পৃথিবীর অনেককিছু, ক্ষমা করে দিতে পারি হাজার অসুন্দরকে, বিলোতে পারি হাসি।

ভালোবাসতে পারি ভালোবাসাকে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ